
তেলিয়ামুড়া (ত্রিপুরা), ৬ মার্চ (হি.স.) : খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়া ফল বাজার এলাকায় বৃহস্পতিবার গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাত প্রায় ১২টা নাগাদ হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয় এবং মুহূর্তের মধ্যেই তা আশপাশের একাধিক দোকানে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতায় কয়েকটি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বহু ব্যবসায়ী। হঠাৎ এই ঘটনায় গোটা এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, প্রথমে বাজারের একটি দোকান থেকে আগুনের শিখা দেখতে পান তাঁরা। অল্প সময়ের মধ্যেই দাউ দাউ করে জ্বলতে থাকে আশপাশের দোকানগুলো। খবর পেয়ে দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করে। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর দমকল কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন।
তবে ঘটনাকে কেন্দ্র করে মহকুমা প্রশাসনের অধীনস্থ দুর্যোগ মোকাবিলা দলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও দুর্যোগ মোকাবিলা দলের সদস্যদের কার্যকর ভূমিকা চোখে পড়েনি। অনেককে ঘটনাস্থলে দাঁড়িয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে বা ছবি তুলতে দেখা গেলেও আগুন নেভানো কিংবা ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় সক্রিয়ভাবে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি বলে অভিযোগ।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালে চাকমাঘাট এলাকায় সংঘটিত এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় গাড়ির ভেতরে দীর্ঘক্ষণ আটকে থেকে মৃত্যু হয়েছিল চালক মিহির লাল দেবনাথের। সেই সময়েও আহত ব্যক্তিকে উদ্ধারে মহকুমা প্রশাসনের দুর্যোগ মোকাবিলা দলের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।
এবার তেলিয়ামুড়া ফল বাজারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাতেও একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় প্রশাসনের দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দ্রুত ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মূল্যায়ন এবং প্রশাসনের তরফে প্রয়োজনীয় সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি জানিয়েছেন।
এদিকে দমকল বাহিনীর তৎপরতায় অবশেষে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও জানা যায়নি। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ