
বিশালগড় (ত্রিপুরা), ৬ মার্চ (হি.স.) : পারিবারিক অশান্তি ও যৌতুকের দাবিকে কেন্দ্র করে নেশাগ্রস্ত স্বামীর নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে প্রাণ হারালেন গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিপাহিজলা জেলার কমলাসাগর এলাকার হরিশনগর মুণ্ডাপাড়ায়। এই ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী লক্ষ্মীন্দর মুণ্ডাকে গ্রেফতার করেছে বিশালগড় থানার পুলিশ। মৃত গৃহবধূর নাম মণি মুণ্ডা।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক অশান্তি চলছিল। অভিযোগ, যৌতুকের দাবিতে প্রায়ই নেশাগ্রস্ত অবস্থায় স্ত্রীকে মারধর করত লক্ষ্মীন্দর মুণ্ডা। দম্পতির দুটি ছোট সন্তান রয়েছে, তবুও নির্যাতনের মাত্রা কমেনি বলে জানান প্রতিবেশীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাড়িতে ফিরে স্ত্রীর উপর চড়াও হয় অভিযুক্ত। অভিযোগ, লোহার রড দিয়ে মাথায় আঘাত করলে গুরুতর জখম হন মণি মুণ্ডা। মাথা ফেটে রক্তাক্ত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার পর সারারাত বিষয়টি গোপন রেখে দেয় অভিযুক্ত স্বামী। শুক্রবার সকালে হঠাৎ চিৎকার শুরু করে সে দাবি করে যে তাঁর স্ত্রী মাটিতে পড়ে রয়েছে। সন্দেহজনক আচরণে মৃতার আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মনে সন্দেহ জাগে। তাঁরা লক্ষ্মীন্দরকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তাঁর কথায় অসংলগ্নতা ধরা পড়ে।
এরপর খবর দেওয়া হয় বিশালগড় থানায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সন্তোষজনক উত্তর না পেয়ে লক্ষ্মীন্দর মুণ্ডাকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ