
বীরভূম, ১ এপ্রিল (হি.স.): ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার পর্বে বুধবার বীরভূম জেলার নানুরে আয়োজিত এক জনসভা থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, বিজেপি চক্রান্ত করে গরিব মানুষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন, বিহারে নির্বাচনের আগে সাধারণ মানুষের অ্যাকাউন্টে নিঃশব্দে আট হাজার টাকা করে পাঠানো হয়েছিল। এরাজ্যেও গরিব মানুষের থেকে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য চাওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, “খবরদার, নিজের অ্যাকাউন্টের তথ্য দেবেন না। টাকা দেওয়ার নাম করে যা আছে তাও তুলে নিতে পারে।”
তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী এদিন পালটা তোপ দেগে বলেন, বিজেপি তৃণমূলকে চোর বললেও খোদ বিজেপি নেতাদের বিরুদ্ধেই তদন্তের দাবি উঠেছে এবং তাঁর কাছে এই সংক্রান্ত নথি মজুত রয়েছে। তিনি সাফ জানান যে, তৃণমূল কংগ্রেস কোনও লুঠ করেনি, বরং বিজেপিই সব লুঠ করেছে। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ যাওয়া নিয়ে সরব হয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, তালিকায় সবচেয়ে বেশি মহিলাদের নাম কাটা গিয়েছে, বিশেষ করে যাঁরা বিয়ের পর অন্য বাড়িতে চলে গিয়েছেন এবং পদবি পরিবর্তন হয়েছে। ১০০ দিনের কাজের টাকা আটকে রাখার জন্য কেন্দ্রকে দায়ী করে তিনি বলেন, প্রকল্পের নাম থেকে মহাত্মা গান্ধীর নামও সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এর জবাব দিতেই রাজ্য সরকার ‘মহাত্মাশ্রী’ প্রকল্প চালু করেছে বলে তিনি জানান।
রান্নার গ্যাসের আকাশছোঁয়া দাম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নির্বাচনের পর পরিস্থিতি আরও কঠিন হতে পারে। রাজ্য সরকার বিনামূল্যে রেশন দিলেও বিজেপি তার কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। ভোটার তালিকা সংক্রান্ত একটি মামলায় সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি দাবি করেন, ‘ফর্ম-৬’-এর মাধ্যমে বহিরাগতদের নাম ঢোকানোর যে চেষ্টা হচ্ছিল, আদালত তাতে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। যুবকদের জন্য ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি কোনও সাধারণ ভাতা নয়, বরং যুবকদের হাতখরচ চালানোর জন্য একটি আর্থিক সহায়তা। যাঁরা আবেদন করেও এখনও সুবিধা পাননি, তাঁদেরও দ্রুত এই প্রকল্পের আওতায় আনা হবে এবং ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পের সুবিধা মা-বোনেরা একইভাবে পাবেন বলে তিনি আশ্বাস দেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি