
মগরাহাট, ১ এপ্রিল (হি.স.): পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা এলাকায় বিরোধী শিবিরে বড়সড় ভাঙন ধরাল শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। বুধবার উস্থি থানার অন্তর্গত উত্তর কুসুম গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় আয়োজিত এক কর্মসূচিতে সিপিআইএম, কংগ্রেস ও আইএসএফ ছেড়ে শতাধিক নেতা-কর্মী আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসে যোগদান করেন।
শাসকদলের দাবি, এলাকার উন্নয়নের কর্মযজ্ঞে সামিল হতেই বিরোধীরা তাঁদের হাত শক্ত করছেন। এই যোগদান কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বুধবার সকাল থেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে।
তৃণমূল সূত্রের খবর, মগরাহাট পশ্চিমের দলীয় প্রার্থী সামিম আহমেদের উপস্থিতিতেই এই দলবদল প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এদিনের কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন ব্লক যুব তৃণমূল সভাপতি ইমরান হাসান মোল্লা, পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তৌফিক আহমেদ মোল্লা (বাচ্চু), কালিকাপোতা গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সাদিক হোসেন মোল্লা সহ স্থানীয় নেতৃত্ব। প্রার্থীর হাত থেকে দলীয় পতাকা তুলে নিয়ে তৃণমূলের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে কাজ করার অঙ্গীকার করেন নবাগতরা। এই প্রসঙ্গে প্রার্থী সামিম আহমেদ বলেন, “আমাদের লক্ষ্য কেবল প্রচার নয়, সংগঠনকে বুথ স্তরে আরও মজবুত করা। রাজ্যের উন্নয়নের ধারায় সামিল হতে সাধারণ মানুষ ও বিরোধী কর্মীরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে এগিয়ে আসছেন।”
স্থানীয় রাজনৈতিক মহলের মতে, উত্তর কুসুম অঞ্চলটি দীর্ঘকাল ধরে কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। সেখানে এই ধরনের গণ-যোগদান আসন্ন নির্বাচনে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হতে পারে।
অন্যদিকে, এই ভাঙন নিয়ে কংগ্রেস ও বাম শিবিরের অন্দরে অস্বস্তি দেখা দিয়েছে। কংগ্রেস নেতৃত্বের একাংশের দাবি, আদর্শগত কারণে নয়, বরং ব্যক্তিগত স্বার্থেই এই দলবদল করা হয়েছে। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধী জোটের অভ্যন্তরীণ সমন্বয়হীনতা এবং সংগঠনের দুর্বলতার সুযোগ নিয়েই তৃণমূল এই ভাঙন ধরাতে সক্ষম হয়েছে। ভোটের মুখে এই ঘটনা মগরাহাট পশ্চিমে তৃণমূল শিবিরের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিল বলে মনে করা হচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত