
নয়াদিল্লি, ১০ এপ্রিল (হি.স.): ইলাহাবাদ হাই কোর্ট থেকে ইস্তফা দিলেন বিতর্কিত বিচারপতি যশবন্ত বর্মা। তাঁর বাসভবন থেকে প্রচুর পরিমাণে নগদ টাকা উদ্ধারের ঘটনার জেরে বিচারপতি বর্মা যেমন বিচার বিভাগীয় তদন্তের মুখে পড়েছিলেন, তেমনই সংসদেও তাঁকে অপসারণের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু দেশের আইনসভা চূড়ান্ত পদক্ষেপ করার আগেই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন বিচারপতি বর্মা। বৃহস্পতিবার তিনি রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। বিষয়টি প্রকাশ্যে এসেছে শুক্রবার।
২০২৫ সালের মার্চ মাসে দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি থাকাকালীন বিচারপতি বর্মার বাংলো থেকে প্রচুর পরিমাণে নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ, তা হিসাববহির্ভূত ছিল। বিচারপতি বর্মার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়। বিচারপতি অবশ্য দাবি করেছেন, ঘটনার সময় তিনি বাংলোয় ছিলেন না। কোনও টাকা সেখান থেকে উদ্ধার হয়নি।
বিতর্কের আবহেই দিল্লি হাই কোর্ট থেকে ওই বিচারপতিকে ইলাহাবাদ হাই কোর্টে বদলি করা হয়। পরবর্তী সময়ে মামলার জল গড়ায় সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। শীর্ষ আদালত ওই ঘটনার অনুসন্ধানের জন্য হাই কোর্টের তিন বিচারপতিকে নিয়ে একটি অভ্যন্তরীণ কমিটি গঠন করে। গত ৩ মে ওই অনুসন্ধান কমিটি একটি মুখবন্ধ খামে রিপোর্ট জমা দেয় সুপ্রিম কোর্টে। অন্য দিকে, বিচারপতি বর্মার অপসারণ চেয়ে ইমপিচমেন্ট প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেন ১০০ জনেরও বেশি সাংসদ। গত অগস্টে তদন্তের জন্য তিন সদস্যের সংসদীয় প্যানেল গড়ে দিয়েছিলেন লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। সেই প্যানেলের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন বিচারপতি বর্মা। তবে তাঁর আবেদন খারিজ করে দেওয়া হয়। ওই সংসদীয় কমিটি তদন্তপ্রক্রিয়া শেষ করার আগেই বিচারপতির পদ থেকে ইস্তফা দিলেন বিচারপতি বর্মা।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ