
নয়াদিল্লি, ১১ এপ্রিল (হি. স.) : আয়ুষ মন্ত্রকের অধীনস্থ বেঙ্গালুরুর কেন্দ্রীয় আয়ুর্বেদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান এক অনন্য নজির সৃষ্টি করল। এই প্রতিষ্ঠানের ক্লিনিক্যাল ল্যাবরেটরি বা পরীক্ষাগারটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভ করেছে। ‘সেন্ট্রাল কাউন্সিল ফর রিসার্চ ইন আয়ুর্বেদিক সায়েন্স’ (সিসিআরএএস)-এর অন্তর্ভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে বেঙ্গালুরুর এই কেন্দ্রটিই প্রথম এই সম্মানজনক স্বীকৃতি পেল।
এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ফলে ল্যাবরেটরিতে পরিচালিত বিভিন্ন পরীক্ষার গুণমান, নির্ভুলতা এবং নির্ভরযোগ্যতা বিশ্বস্তরে প্রমাণিত হলো। এর ফলে রোগীরা এখন থেকে আরও উন্নত ও ভরসাযোগ্য রোগ নির্ণয় পরিষেবা পাবেন। আয়ুষ মন্ত্রক শনিবার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, ন্যাশনাল অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ড ফর টেস্টিং অ্যান্ড ক্যালিব্রেশন ল্যাবরেটরিজ থেকে এই প্রতিষ্ঠানটি মোট ৫০ ধরণের পরীক্ষার জন্য স্বীকৃতি পেয়েছে। এখানে ব্লাড সুগার, লিভার, কিডনি, থাইরয়েড-সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ রক্ত পরীক্ষার সুবিধা রয়েছে। প্রতি বছর এই ল্যাবরেটরিতে ১.৫ লক্ষেরও বেশি পরীক্ষা করা হয় এবং হাজার হাজার রোগী এখান থেকে পরিষেবা পান। পরীক্ষার রিপোর্ট এখন এসএমএস, ইমেল এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমেও রোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়।
এই সাফল্যে আনন্দ প্রকাশ করে আয়ুষ মন্ত্রী প্রতাপরাও যাদব বলেন, “আইএসও ১৫১৮৯:২০২২-এর মতো আন্তর্জাতিক মানদণ্ড মেনে স্বীকৃতি পাওয়া নিশ্চিত করে যে রোগীরা নির্ভরযোগ্য এবং সঠিক রোগ নির্ণয় পরিষেবা পাচ্ছেন। কার্যকর চিকিৎসা এবং উন্নত স্বাস্থ্য ফলাফলের জন্য এই ধরণের নির্ভুল পরিষেবা অপরিহার্য। বেঙ্গালুরু সিএআরআই-এর এই অর্জন প্রমাণ করে যে মন্ত্রক কীভাবে আয়ুষ পরিকাঠামোকে গুণমান ও নির্ভরযোগ্যতার প্রতীকে রূপান্তরিত করছে।”
আয়ুষ মন্ত্রকের সচিব বৈদ্য রাজেশ কোটেচা বলেন, বায়ো-কেমিস্ট্রি এবং হেমাটোলজি—উভয় বিভাগেই এই আন্তর্জাতিক শংসাপত্র পাওয়া প্রথাগত চিকিৎসা পদ্ধতির সঙ্গে উন্নত মানের রোগ নির্ণয় ব্যবস্থাকে একীভূত করার ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক। এটি প্রমাণ-ভিত্তিক চিকিৎসা এবং গবেষণা ও রোগীর যত্ন নেওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের সংকল্পকে আরও দৃঢ় করে।
প্রতিষ্ঠানের প্রধান ডাঃ সুলোচনা ভাট এই প্রাপ্তিকে গর্বের বলে উল্লেখ করে জানান, এটি উচ্চমানের এবং রোগী-কেন্দ্রিক পরিষেবা প্রদানের প্রতি তাঁদের দায়বদ্ধতারই প্রতিফলন। এই সাফল্য সিসিআরএএস -এর অধীনে একটি অগ্রণী প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাঁদের ভূমিকাকে আরও শক্তিশালী করল।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি