কুনো জাতীয় উদ্যানে চিতার বংশবৃদ্ধি, বন্য পরিবেশে প্রথমবার ৪ শাবকের জন্ম দিল ভারতে জন্মানো ‘গামিনী’-র সন্তান
নয়াদিল্লি/শিওপুর, ১১ এপ্রিল (হি. স.) : ভারতের চিতা পুনরুত্থান প্রকল্প বা ''প্রজেক্ট চিতা'' এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করল। মধ্যপ্রদেশের কুনো জাতীয় উদ্যানে এই প্রথমবার সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশে ভারতের মাটিতে জন্ম নেওয়া একটি স্ত্রী চিতা চারটি শাবক প
কুনো জাতীয় উদ্যানে চিতার বংশবৃদ্ধি


নয়াদিল্লি/শিওপুর, ১১ এপ্রিল (হি. স.) : ভারতের চিতা পুনরুত্থান প্রকল্প বা 'প্রজেক্ট চিতা' এক অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করল। মধ্যপ্রদেশের কুনো জাতীয় উদ্যানে এই প্রথমবার সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশে ভারতের মাটিতে জন্ম নেওয়া একটি স্ত্রী চিতা চারটি শাবক প্রসব করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আসা চিতা ‘গামিনী’-র ২৫ মাস বয়সী এই কন্যাসন্তানটি গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কুনোর খোলা জঙ্গলে মুক্ত অবস্থায় ছিল। এর ফলে ভারতে বর্তমানে চিতার মোট সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৭-এ।

কেন্দ্রীয় বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খবরটি ভাগ করে নিয়ে একে ভারতের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের ইতিহাসে একটি ‘মাইলফলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি জানান, ২০২২ সালে চিতা পুনর্বাসন প্রকল্প শুরু হওয়ার পর থেকে বন্য পরিবেশে এটিই প্রথম শাবক জন্মের ঘটনা। এর চেয়েও বড় বিষয় হলো, এই প্রথম ভারতে জন্ম নেওয়া কোনো দ্বিতীয় প্রজন্মের চিতা প্রাকৃতিক পরিবেশে সফলভাবে বংশবৃদ্ধি করল। ভূপেন্দ্র যাদব বলেন, “এটি প্রমাণ করে যে চিতাগুলি ভারতের বাস্তুসংস্থানের সঙ্গে মানিয়ে নিতে শুরু করেছে। কুনোর দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং বৈজ্ঞানিক রক্ষণাবেক্ষণের ফলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে।”

মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী ডক্টর মোহন যাদব এই সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি গামিনী ও তার শাবকদের ছবি শেয়ার করে লিখেছেন, “মধ্যপ্রদেশ এখন চিতা পুনরুত্থানের প্রধান কেন্দ্র হয়ে উঠছে। কুনোর খোলা জঙ্গলে চিতার এই বংশবৃদ্ধি প্রমাণ করে যে এখানকার মাটি ও পরিবেশ চিতার বংশ বিস্তারের জন্য সম্পূর্ণ অনুকূল। প্রকৃতি ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে আমাদের অঙ্গীকার সফল হচ্ছে।”

**পরিসংখ্যান ও বর্তমান পরিস্থিতি**

বনবিভাগের আধিকারিকরা জানিয়েছেন যে, বর্তমানে ভারতে মোট ৫৭টি চিতা রয়েছে। এর মধ্যে ৫৪টি চিতা রয়েছে কুনো জাতীয় উদ্যানে এবং বাকি ৩টি চিতা মন্দসৌর জেলার গান্ধী সাগর অভয়ারণ্যে মুক্ত অবস্থায় রয়েছে। কুনোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নবজাতক শাবক ও তাদের মা—উভয়েই সম্পূর্ণ সুস্থ রয়েছে এবং তাদের ওপর ড্রোনের মাধ্যমে দূর থেকে কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ১৯৫২ সালে ভারত থেকে চিতা বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার পর, ২০২২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর উদ্যোগে নামিবিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে চিতা এনে কুনোতে ছাড়া হয়েছিল। সম্প্রতি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি বতসোয়ানা থেকেও আরও ৯টি চিতা আনা হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ভারতে জন্মানো চিতার এই প্রজনন ক্ষমতা প্রমাণ করল যে ভারত তার হারিয়ে যাওয়া দ্রুততম প্রাণীকে পুনরায় স্থায়ীভাবে ফিরে পাওয়ার পথে অনেকটা এগিয়ে গিয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande