মাওবাদী নেতা ‘কিষেণ দা’-র শেষ চিঠি সামনে, সশস্ত্র সংগ্রাম নিয়ে প্রশ্ন; সংগঠনের ভবিষ্যৎ কৌশল ঘিরে জল্পনা
রাঁচি, ১১ এপ্রিল (হি.স.) : নিষিদ্ধ সিপিআই (মাওবাদী)-র শীর্ষ নেতা প্রশান্ত বোস ওরফে ‘কিষেণ দা’-র লেখা একটি গোপন চিঠি তাঁর মৃত্যুর পর সামনে এসেছে, যা সংগঠনের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। রাঁচি জেল থেকে মৃত্যুর আগে
মাওবাদী নেতা ‘কিশেন দা’-র শেষ চিঠি সামনে, সশস্ত্র সংগ্রাম নিয়ে প্রশ্ন; সংগঠনের ভবিষ্যৎ কৌশল ঘিরে জল্পনা


রাঁচি, ১১ এপ্রিল (হি.স.) : নিষিদ্ধ সিপিআই (মাওবাদী)-র শীর্ষ নেতা প্রশান্ত বোস ওরফে ‘কিষেণ দা’-র লেখা একটি গোপন চিঠি তাঁর মৃত্যুর পর সামনে এসেছে, যা সংগঠনের বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ কৌশল নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। রাঁচি জেল থেকে মৃত্যুর আগে লেখা এই চিঠি ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা সংস্থার হাতে পৌঁছেছে এবং তা ঘিরে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

প্রায় এক কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষিত এই মাওবাদী নেতা তাঁর চিঠিতে ইঙ্গিত দিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠছে। সংগঠনের বড় ক্ষতির কথা তুলে ধরে তিনি বর্তমান কৌশল পুনর্বিবেচনার ওপর জোর দেন।

সূত্রের খবর, ২০ মার্চ ২০২৬-এ লেখা এই চিঠি তিনি মিসির বেসরা ওরফে ‘কমরেড সাগর’-কে উদ্দেশ্য করে পাঠিয়েছিলেন। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, “দেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল এবং গুরুতর,” যার ফলে সংগঠন দুর্বল হয়ে পড়েছে। জঙ্গলে সক্রিয় কর্মীদের প্রতিকূল অবস্থার কথাও তিনি তুলে ধরেন।

শনিবার জানা গেছে, চিঠির বিভিন্ন অংশে তিনি পরোক্ষে আত্মসমর্পণের কথাও উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংঘর্ষ সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে ভবিষ্যতের জন্য অপেক্ষা করাই বেশি বাস্তবসম্মত হতে পারে। এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, সংগঠনের অভ্যন্তরে কৌশলগত অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

সাম্প্রতিক পুলিশি অভিযানে সংগঠনের বড় ক্ষতি হয়েছে বলেও স্বীকার করেছেন ‘কিষেণ দা’। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যথাযথ বিশ্লেষণ ছাড়া সশস্ত্র লড়াই চালিয়ে গেলে সংগঠন আরও গভীর সংকটে পড়তে পারে। নেতৃত্বের কাছে আত্মসমালোচনা ও পর্যালোচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানানোর অনুরোধও করেন।

উল্লেখযোগ্য যে, সিপিআই (মাওবাদী)-র শীর্ষ নেতা প্রশান্ত বোস ওরফে ‘কিষেণ দা’-র ৩১ মার্চ ২০২৬-এ রাঁচির বিরসা মুন্ডা কেন্দ্রীয় কারাগারে দীর্ঘ অসুস্থতার পর মৃত্যু হয়। সংগঠনের ‘সেকেন্ড-ইন-কমান্ড’ এবং একসময়ের এক কোটি টাকার পুরস্কার ঘোষিত এই নেতা দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে নকশাল আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।বিহার, ঝাড়খণ্ড, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও ছত্তিশগড়-সহ বিস্তীর্ণ অঞ্চলে সংগঠনের বিস্তার এবং কৌশল নির্ধারণে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। তদন্তকারী সংস্থার মতে, একাধিক বড় নকশাল হামলার পরিকল্পনা ও অনুমোদনের সঙ্গে তিনি সরাসরি যুক্ত ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে ঝাড়খণ্ড-সহ বিভিন্ন রাজ্যে প্রায় ৭০টিরও বেশি মামলা নথিভুক্ত ছিল।২০২১ সালে ঝাড়খণ্ড পুলিশ ও অন্যান্য নিরাপত্তা সংস্থার যৌথ অভিযানে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। এরপর থেকেই তিনি রাঁচির কারাগারে বন্দি ছিলেন। অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর শুক্রবার (৩ এপ্রিল ) রাঁচির বিরসা মুন্ডা কেন্দ্রীয় কারাগারে তাঁর মৃত্যু হয়। যা জেল আইজি সুদর্শন মণ্ডল এই খবর নিশ্চিত করেছিলেন।

নিরাপত্তা মহলের মতে, ‘কিষেণ দা’-র এই শেষ চিঠি মাওবাদী সংগঠনের দুর্বল হয়ে পড়া অবস্থারই প্রতিফলন। বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর মতো অভিজ্ঞ কৌশলবিদের মৃত্যু এবং এই ধরনের বার্তা সংগঠনের ভবিষ্যৎ কৌশলে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করছে।বর্তমানে নিরাপত্তা সংস্থাগুলি তদন্ত করছে, কীভাবে এই চিঠি জেল থেকে সংগঠনের কাছে পৌঁছাল এবং এর সঙ্গে কারা যুক্ত। একইসঙ্গে এই চিঠিকে মাওবাদী কার্যকলাপের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনার একটি গুরুত্বপূর্ণ নথি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande