
নয়াদিল্লি, ১০ এপ্রিল (হি.স.) : পশ্চিম এশিয়ার সংকটের মধ্যেও দেশে এলপিজি ও জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে বলে আশ্বাস দিল কেন্দ্র। শুক্রবার কেন্দ্রীয় সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, দেশের কোথাও জ্বালানির ঘাটতির কোনও রিপোর্ট পাওয়া যায়নি এবং সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে।
পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা এক আন্তঃমন্ত্রক সাংবাদিক সম্মেলনে জানান, গৃহস্থালির রান্নার এলপিজি সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে এবং প্রায় ৯৮ শতাংশ বুকিং অনলাইনের মাধ্যমে হচ্ছে। বাণিজ্যিক এলপিজির সরবরাহও প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পুনরুদ্ধার হয়েছে।
তিনি জানান, গত ১৪ মার্চ থেকে এখনও পর্যন্ত প্রায় ১ লক্ষ ৬ হাজার টন বাণিজ্যিক এলপিজি বিক্রি হয়েছে এবং প্রতিদিন গড়ে ৬ হাজার থেকে ৬ হাজার ৫০০ টন বিক্রি হচ্ছে। সহায়তা হিসেবে ৫ কেজির সিলিন্ডারের সরবরাহ দ্বিগুণ করা হয়েছে, যেখানে প্রতিদিন প্রায় ১ লক্ষ সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে।
এছাড়া শিল্পক্ষেত্রে প্রায় ৮০ শতাংশ এবং সার শিল্পে প্রায় ৯৫ শতাংশ জ্বালানি সরবরাহ পুনরুদ্ধার হয়েছে বলেও জানান তিনি।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব পীযূষ সিং জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদন বজায় রাখতে আমদানিকৃত কয়লা-নির্ভর প্ল্যান্টগুলিকে চালু রাখতে বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৪ হাজার মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। পাশাপাশি রক্ষণাবেক্ষণের কাজ তিন মাস পিছিয়ে দেওয়ায় আরও প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে।
তিনি জানান, দেশে বর্তমানে প্রায় ৫৫ মিলিয়ন টন কয়লার মজুত রয়েছে, যা প্রায় ১৯ দিনের জন্য যথেষ্ট। আগামী তিন মাসে বিভিন্ন উৎস থেকে আরও ২২ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা যুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
পত্তন, নৌপরিবহন ও জলপথ মন্ত্রকের অতিরিক্ত সচিব মুকেশ মঙ্গল জানান, রপ্তানিকারকদের সমস্যার সমাধানে বিভিন্ন দফতরের সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়মিত বৈঠক করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে সমস্যার বিস্তারিত তথ্য জানাতে বলা হয়েছে, যাতে দ্রুত সমাধান করা যায়।
কেন্দ্রের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য