(আপডেট) উজ্জয়িনীতে বোরওয়েলে পড়ে যাওয়া খুদে ভগীরথকে বাঁচানো গেল না, ২২ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস অভিযান শেষে উদ্ধার নিথর দেহ
ভোপাল, ১০ এপ্রিল (হি.স.) : দীর্ঘ লড়াই সত্ত্বেও শেষরক্ষা হলো না। মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী জেলার বড়নগর এলাকার ঝালরিয়া গ্রামে বোরওয়েলের গভীর গর্তে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু ভগীরথকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলো না। টানা ২২ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান শে
রুদ্ধশ্বাস অভিযান


ভোপাল, ১০ এপ্রিল (হি.স.) : দীর্ঘ লড়াই সত্ত্বেও শেষরক্ষা হলো না। মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী জেলার বড়নগর এলাকার ঝালরিয়া গ্রামে বোরওয়েলের গভীর গর্তে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু ভগীরথকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলো না। টানা ২২ ঘণ্টার রুদ্ধশ্বাস উদ্ধার অভিযান শেষে শুক্রবার শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করেছে এনডিআরএফ ও এসডিআরএফ -এর যৌথ দল।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রাজস্থানের পালি জেলা থেকে এক যাযাবর পরিবার ভেড়া চড়ানোর উদ্দেশ্যে উজ্জয়িনীতে এসেছিল। ওই পরিবারের দুই বছরের সন্তান ভগীরথ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ খেলার সময় খোলা বোরওয়েলে পড়ে যায়। ২০০ ফুট গভীর ওই বোরওয়েলের ৭৫ ফুট নিচে শিশুটি আটকে ছিল। খবর পেয়েই জেলা প্রশাসন ও পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। ভোপাল থেকে আসা এনডিআরএফ এবং হরদা, ইন্দোর ও উজ্জয়িনীর এসডিআরএফ কর্মীরা উদ্ধারকাজ শুরু করেন। গর্তের ভেতরে অক্সিজেন পাঠানোর পাশাপাশি ক্যামেরার মাধ্যমে শিশুটির ওপর নজর রাখা হচ্ছিল। কিন্তু সমস্ত প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে শিশুটি।

বড়নগরের থানা এক আধিকারিক জানান, মৃত শিশুটির নাম ভগীরথ দেবাসী। তার পরিবার গত তিন দিন ধরে ওই এলাকায় অবস্থান করছিল। পরিবারের বয়ান অনুযায়ী, শিশুটি খেলতে খেলতে কৌতূহলবশত বোরওয়েলের ঢাকনা সরিয়ে পা দিতেই সোজা ভেতরে পড়ে যায়। মা তাকে পড়ে যেতে দেখে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও ততক্ষণে সে গভীর অন্ধকারে হারিয়ে গিয়েছিল।

উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় পাথুরে মাটি এবং বোরওয়েলের ভেতরে জমা জল। পাঁচটি পোকলেন মেশিন দিয়ে সমান্তরাল সুড়ঙ্গ খোঁড়ার কাজ চললেও শক্ত পাথরের কারণে বারবার ড্রিলিং থমকে যাচ্ছিল। প্রায় ২০০ উদ্ধারকর্মীর প্রচেষ্টায় ২২ ঘণ্টা পর দড়ি ও বিশেষ হুকের সাহায্যে শিশুটিকে তুলে আনা হয়।

উজ্জয়িনীর পুলিশ সুপার প্রদীপ শর্মা জানিয়েছেন, উদ্ধার করা দেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বড়নগর সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরও জানান, এই মর্মান্তিক ঘটনায় কারোর গাফিলতি আছে কি না তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে। দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উজ্জয়িনীর সিএমএইচও অশোক প্যাটেল জানিয়েছেন, শিশুটিকে বাঁচানোর সবরকম চেষ্টা করা হয়েছিল। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, জলের তলায় ডুবে থাকার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে শিশুটির দেহ শোকাতুর পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande