উজ্জয়িনীতে গভীর গর্তে আটকে থাকা শিশুকে বাঁচাতে চলছে রুদ্ধশ্বাস অভিযান
ভোপাল, ১০ এপ্রিল (হি.স.): মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী জেলা সদর থেকে প্রায় ৭৫ কিমি দূরে বড়নগর এলাকার ঝালারিয়া গ্রামে গভীর গর্তে পড়ে গেছে টদুই বছরের এক শিশু। বৃহস্পতিবার রাতে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সারা রাতের পর শুক্রবার সকালেও যুদ্
গভীর গর্তে আটকে থাকা শিশু


ভোপাল, ১০ এপ্রিল (হি.স.): মধ্যপ্রদেশের উজ্জয়িনী জেলা সদর থেকে প্রায় ৭৫ কিমি দূরে বড়নগর এলাকার ঝালারিয়া গ্রামে গভীর গর্তে পড়ে গেছে টদুই বছরের এক শিশু। বৃহস্পতিবার রাতে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার সারা রাতের পর শুক্রবার সকালেও যুদ্ধকালীন তৎপরতায় জারি রয়েছে ওই শিশুকে উদ্ধারের কাজ। উদ্ধারকারী দল সূত্রে খবর, শিশুটি বোরওয়েলের ৭৫ ফুট গভীরে আটকে রয়েছে। ৫টি পোকলেন মেশিনের সাহায্যে বোরওয়েলের সমান্তরাল সুড়ঙ্গ খোঁড়া হচ্ছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত প্রায় ৪০ ফুট পর্যন্ত খননকার্য সম্পন্ন হয়েছে।

রাজস্থানের পালি জেলার বাসিন্দা প্রবীণ দেবাসীর পরিবার গত তিন দিন ধরে ওই এলাকায় ভেড়া চচরাতে আসছিলেন। তাঁর দুই বছরের ছেলে ভগীরথ বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে সাতটা নাগাদ খেলছিল। পরিবারের দাবি, বোরওয়েলের মুখের পাথরটি সরিয়ে বালতি মনে করে সে তাতে পা রাখতেই সরাসরি ভিতরে পড়ে যায়। শিশুটির মা তাকে পড়ে যেতে দেখে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও ততক্ষণে সে গভীর নীচে চলে যায়।

খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশের বিশেষ দল। বর্তমানে ভোপাল থেকে আসা এনডিআরএফ এবং হারদা, ইন্দোর ও উজ্জয়িনী থেকে আসা এসডিআরএফ কর্মীরা যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন। বোরওয়েলের ভিতরে ক্যামেরা ঢুকিয়ে শিশুটির অবস্থার ওপর নজর রাখা হচ্ছে এবং তাকে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলে দুটি অ্যাম্বুল্যান্সও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

উজ্জয়িনী জেলা পুলিশ সুপার প্রদীপ শর্মা জানিয়েছেন, বোরওয়েলটি প্রায় ২০০ ফুট গভীর। উদ্ধারকাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে মাটির তলার শক্ত পাথর। ড্রিলিং করার সময় বারবার পাথরে আটকে যাওয়ায় খননকার্য ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি বোরওয়েলে জল চলে আসায় উদ্ধারকাজ আরও জটিল হয়ে পড়েছে।

উজ্জয়িনী এসডিআরএফ-এর কমান্ড্যান্ট সন্তোষ কুমার জাট জানান, শিশুটিকে উদ্ধারে তিন স্তরে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। শুরুতে শিশুটি প্রায় ৪০ ফুট গভীরে ছিল। উপর থেকে রশি বা হুকের মাধ্যমে তাকে টেনে তোলার চেষ্টা করা হলেও পোশাক থেকে ফসকে সে আরও গভীরে চলে যায়। বর্তমানে সে প্রায় ৭০-৭৫ ফুট গভীরে থাকায় সমান্তরাল সুড়ঙ্গ খুঁড়ে তাকে উদ্ধার করা ছাড়া আর কোনো পথ নেই। প্রায় ২০০ জনের এক বিশাল উদ্ধারকারী দল খুদে ভগীরথকে অক্ষত অবস্থায় বের করে আনতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি




 

 rajesh pande