
হায়দরাবাদ, ১০ এপ্রিল (হি.স.) : দীর্ঘদিনের সশস্ত্র লড়াইয়ের অবসান ঘটিয়ে তেলেঙ্গানায় মাওবাদী কার্যকলাপ কার্যত শেষ—এমনই দাবি করল রাজ্য পুলিশ। শুক্রবার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপে সিপিআই (মাওবাদী)-এর শীর্ষস্তরের নেতৃত্ব সহ মোট ৪২ জন সশস্ত্র জঙ্গি আত্মসমর্পণ করায় রাজ্যে নক্সাল প্রভাবের পতন নিশ্চিত হয়েছে বলে মনে করছে প্রশাসন।
রাজ্যের পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডি.জি.পি) বি. শিবধর রেড্ডি জানান, এই আত্মসমর্পণ শুধুমাত্র সংখ্যার দিক থেকে বড় নয়, সংগঠনের কাঠামোগত ভাঙনেরও ইঙ্গিত বহন করছে। তাঁর কথায়, “তেলেঙ্গানা স্টেট কমিটি কার্যত নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। রাজ্যে মাওবাদী সশস্ত্র উপস্থিতি আর নেই বললেই চলে।”
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আত্মসমর্পণকারী দলের নেতৃত্বে ছিলেন শীর্ষ মাওবাদী নেতা সোদি মল্ল ওরফে কেশল ওরফে নিখিল। তাঁর সঙ্গে স্টেট কমিটি, ডিভিশনাল কমিটি ও বিভিন্ন জোনাল স্তরের সদস্যরাও অস্ত্র সমর্পণ করেন। একসঙ্গে এত সংখ্যক সশস্ত্র ক্যাডারের আত্মসমর্পণকে প্রশাসন ‘টার্নিং পয়েন্ট’ হিসেবেই দেখছে।
তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, গত কয়েক বছরে ধারাবাহিক নিরাপত্তা অভিযান, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং উন্নয়নমূলক প্রকল্পের ফলে জঙ্গলমহল ও সীমান্তবর্তী এলাকায় মাওবাদীদের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে। পাশাপাশি সরকারের আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন নীতি অনেক ক্যাডারকে মূলস্রোতে ফেরার পথে উৎসাহিত করেছে।
ডি.জি.পি আরও জানান, মুপ্পলা লক্ষ্মণ রাও ওরফে গণপতি সহ মাত্র পাঁচজন সক্রিয় মাওবাদী নেতা এখনও দেশের অন্যত্র, বিশেষত ছত্তিশগড়ে অবস্থান করছে। তাঁদেরও দ্রুত আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
পুলিশের দাবি, আত্মসমর্পণের সময় ক্যাডাররা ৩৬টি অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র, প্রায় ৮০০ গ্রাম সোনা এবং বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ জমা দিয়েছে। উদ্ধার হওয়া অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে একে-৪৭, এসএলআর, ইনসাস রাইফেল, স্টেনগান, পিস্তল ও রিভলভার। এছাড়াও ১,০০৭টি জীবন্ত কার্তুজ উদ্ধার হয়েছে, যা সংগঠনের সক্রিয়তার প্রমাণ বহন করে।
আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা—সোডি মল্লা (পিএলজিএ ব্যাটালিয়ন কমান্ডার), চাপা নারায়ণ (স্টেট কমিটি সদস্য) এবং কদথি সান্নু (ডিভিশনাল কমিটি সদস্য)—দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সশস্ত্র অভিযানের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে দাবি পুলিশের।
প্রশাসনের মতে, এই আত্মসমর্পণের ফলে শুধু নিরাপত্তা পরিস্থিতিই নয়, তেলেঙ্গানার উন্নয়ন-পরিকল্পনাও নতুন গতি পাবে। বিনিয়োগ, শিল্পায়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও মনে করা হচ্ছে।
সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, আত্মসমর্পণকারী সকল ক্যাডারকে পুনর্বাসন নীতির আওতায় আর্থিক সহায়তা, প্রশিক্ষণ ও সামাজিক পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া হবে, যাতে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারে।
পুলিশের বক্তব্য, “এটি শুধু একটি অপারেশনাল সাফল্য নয়, বরং একটি আদর্শগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত”। সরকারের আত্মসমর্পণ ও পুনর্বাসন নীতির আওতায় আত্মসমর্পণকারী সকলকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
পুলিশের মতে, এই আত্মসমর্পণের ফলে রাজ্যে শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন আরও মজবুত হবে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য