
কলকাতা, ১১ এপ্রিল (হি. স.) : নববর্ষের পুণ্যলগ্নে ‘সংস্কার ভারতী পশ্চিমবঙ্গ’-এর উদ্যোগে শনিবার কলকাতার মানিকতলার অভেদানন্দ রোডে অবস্থিত কেশব ভবনে আয়োজিত হলো এক বর্ণাঢ্য ‘নববর্ষ আহ্বান উৎসব’। এই অনুষ্ঠানেই আড়ম্বরপূর্ণভাবে উন্মোচন করা হলো ১৪৩৩ বঙ্গাব্দের ‘সাংস্কৃতিক দেবালয়পঞ্জিকা’। শনিবার সন্ধ্যায় সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিক্ষা ও প্রকাশনা জগতের বিশিষ্ট গুণীজনদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠানটি এক অনন্য মাত্রা লাভ করে।
প্রখ্যাত চিকিৎসক ডাঃ মধুসূদন পালের প্রদীপ প্রজ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা হয়। এরপর প্রধান বক্তা হিসেবে বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক ডাঃ জিষ্ণু বসু ভারতীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা এবং বর্তমান সময়ে তার সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, সাংস্কৃতিক চেতনাই হলো সমাজের আত্মা, এবং এই ধরণের আয়োজনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে নিজেদের শিকড়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
এদিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পূর্বাঞ্চল সংস্কৃতি কেন্দ্রের অধিকর্তা আশিস গিরি, মৌলানা আবুল কালাম আজাদ এশিয়ান স্টাডিজ ইনস্টিটিউটের অধিকর্তা ডাঃ স্বরূপ প্রসাদ ঘোষ এবং প্রকাশক জয়ন্ত পাল। তাঁরা ভারতীয় সংস্কৃতির বৈচিত্র্য ও সমৃদ্ধি নিয়ে নিজেদের মূল্যবান বক্তব্য পেশ করেন।
অনুষ্ঠানে ‘স্বস্তিকা’র বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ বিশেষ সংস্করণ এবং ‘সাংস্কৃতিক দেবালয়পঞ্জিকা’র আনুষ্ঠানিক লোকাপণ করা হয়। উল্লেখ্য যে, এবারের দেবালয়পঞ্জিকার মূল ভাবনা হলো ‘সার্ধশতবর্ষে বন্দে মাতরম’। এই থিমের মাধ্যমে জাতীয় স্তোত্র ‘বন্দে মাতরম’-এর ঐতিহাসিক ও আবেগঘন গুরুত্বকে তুলে ধরা হয়েছে। এর পাশাপাশি সাহিত্য ও কলার সমাহারে সমৃদ্ধ ‘সৃষ্টিকা’ পত্রিকার নববর্ষ বিশেষ সংখ্যারও বিমোচন করা হয়।
সাংস্কৃতিক পর্বে সংস্কার ভারতীর সঙ্গীত গোষ্ঠীর সমবেত গায়ন দর্শকদের মুগ্ধ করে। এছাড়াও বিভিন্ন শিল্পীদের পরিবেশনায় অনুষ্ঠানটি আরও উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। অনুষ্ঠানে কৃতি সাহিত্যিক ও শিল্পীদের ‘স্বস্তিকা লেখক সম্মান’ এবং ‘চিত্রকর সম্মান’ প্রদান করা হয়।
এই আয়োজনের একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল ‘বন্দে মাতরম’-এর রচয়িতা বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতি। সংস্কার ভারতীর সুভাষ ভট্টাচার্য এবং সঙ্ঘের অন্যান্য পদাধিকারীদের সক্রিয় সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি সাফল্যমন্ডিত হয়। আয়োজকদের মতে, এই ধরণের উদ্যোগ যুব সমাজের মধ্যে সাংস্কৃতিক মূল্যবোধ সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি