

বাঁকুড়া, ১৯ এপ্রিল (হি.স.): রবিবার বড়জোড়ায় আয়োজিত জনসভায় জনসমাগম দেখে আপ্লুত প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী| তিনি বলেন, জনসমাগমই পরিবর্তনের বহিঃপ্রকাশ। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে এবার রাজ্য ছাড়া করেই ছাড়বেন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রবিবার সকালে বড়জোড়ার ফুলবেড়িয়া ফুটবল গ্রাউন্ডে ‘বিজয় সংকল্প সভা’-য় উপস্থিত হয়ে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রাঢ় বাংলায় পদ্ম ফোটাতে দুর্নীতি ও তোষণ ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেসকে কড়া আক্রমণ করেন প্রধানমন্ত্রী।
সভা শুরুর আগেই বিপুল জনসমাগম দেখে আপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি। উপস্থিত জনতার মধ্যে কয়েকজন তাঁর ছবি এঁকে নিয়ে আসেন। তাঁদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ছবিগুলি যেন এসপিজি কমান্ডোদের কাছে জমা দেওয়া হয় এবং তাতে নাম লেখা থাকে, যাতে তিনি তাঁদের ধন্যবাদপত্র পাঠাতে পারেন।
মঞ্চে উপস্থিত বাঁকুড়ার ১২টি বিধানসভার বিজেপি প্রার্থীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর বক্তব্য শুরু করেন ‘জয় মা দুর্গা’, ‘বিষ্ণুপুরের জয় মদনমোহন’ এবং ‘বাঁকুড়ার এক্তেশ্বর’-এর জয়ধ্বনি দিয়ে। বাংলা নববর্ষের শুভেচ্ছাও জানান তিনি।
তিনি বলেন, “আজ অক্ষয় তৃতীয়ার শুভ দিন। আমার কামনা, মা লক্ষ্মীর কৃপা সকলের উপর বর্ষিত হোক। এই শুভ দিনে এই সভা হওয়া সৌভাগ্যের বিষয়।”
তিনি আরও বলেন, “বাংলায় যত জনসভা করছি, ততই জনসমাগম বাড়ছে। প্রতিদিন নতুন রেকর্ড হচ্ছে। আপনাদের ভালোবাসা ও উৎসাহই প্রমাণ করছে, এই নির্মম তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে মানুষের ক্ষোভ কতটা গভীর।”
জনসভায় মহিলাদের ভিড় দেখে তিনি বলেন, “বিজেপির অগ্রাধিকার মহিলাদের নিরাপত্তা। মহিলারাই বিজেপিকে সবচেয়ে বেশি আশীর্বাদ দেন। বিকশিত ভারত গড়তে হলে তাঁদের উন্নয়ন জরুরি।”
মহিলা সংরক্ষণ বিল প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, “সংসদে যা হয়েছে, তা সবাই দেখেছে। তৃণমূল বাংলার মহিলাদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ নিশ্চিত করা হলেও তৃণমূল তা চায়নি। কংগ্রেসের সঙ্গে মিলে ষড়যন্ত্র করে এই বিল আটকে দিয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “তৃণমূল অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষা করছে এবং ধর্মের ভিত্তিতে সংরক্ষণ চাইছে।” সভায় উপস্থিত মা-বোনদের উদ্দেশে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “এই জন্য তৃণমূলকে শাস্তি দেওয়া উচিত কি না?”
তিনি বলেন, “কুড়মি সমাজের মানুষদের কথাও তৃণমূল শোনে না। কলকাতা হাই কোর্টও বলছে—এটা চলতে পারে না। তবুও এখানে জঙ্গলরাজ চলছে। আদালতের নির্দেশও মানা হচ্ছে না।”
আদিবাসী উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা জনজাতিদের শক্তিশালী করতে চাই। আমরা জনজাতি সম্প্রদায়ের রাষ্ট্রপতি দিয়েছি। কিন্তু তৃণমূল ও কংগ্রেস তা চায়নি। রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে অপমান করা হয়েছে, যা জনজাতিরা কখনও ভুলবে না।”
বিজেপি শাসিত রাজ্যের উদাহরণ তুলে তিনি বলেন, “বিজেপি ক্ষমতায় এলে গরিব মা-বোনেরা বিনামূল্যে রেশন পাবেন, কেউ তা কেড়ে নিতে পারবে না। পাকা ঘর দেওয়া হবে। আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প চালু করা হবে। লাখপতি দিদি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।”
তিনি বলেন, “পিএম সূর্যঘর যোজনার মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিল শূন্য করা হবে। পাইপের মাধ্যমে সস্তায় গ্যাস পৌঁছে দেওয়া হবে ঘরে ঘরে। পানীয় জলের ক্ষেত্রেও ডাবল ইঞ্জিন সরকার হলে ডাবল সুবিধা পাবেন।”
তৃণমূলের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট রাজের অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, “তৃণমূল সিন্ডিকেট আপনাদের জল পর্যন্ত লুট করছে।”
তিনি বলেন, “৪ মের পর বাংলায় নতুন ইতিহাস তৈরি হবে। তৃণমূলের ভয় শেষ হবে, বিজেপির সেবার দিন শুরু হবে।”
বাঁকুড়ার শিল্পীদের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, “বাঁকুড়া সংস্কৃতি ও সংগীতের ভূমি। এখানকার শিল্পীরা বিশ্বখ্যাত। তাঁদের জন্য পিএম বিশ্বকর্মা যোজনা চালু হয়েছে, কিন্তু তৃণমূল সরকার রেজিস্ট্রেশন করতে দিচ্ছে না।”
তিনি আশ্বাস দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে এই প্রকল্পের পূর্ণ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
শেষে তিনি বলেন, “কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলির পূর্ণ সুবিধা পেতে হলে বিজেপিকে জয়ী করতে হবে।”
প্রসঙ্গত, এই সভায় উপস্থিত ছিলেন বাঁকুড়ার প্রাক্তন সাংসদ ডাঃ সুভাষ সরকার, বিজেপির বাঁকুড়া সাংগঠনিক জেলার সভাপতি প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় এবং জেলার সমস্ত বিধানসভার প্রার্থীরা।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোমনাথ বরাট