আগামী ২৩ এপ্রিল গুয়াহাটিতে বিশাল ‘মহিলা আক্রোশ’ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত বিজেপির
- কংগ্রেসের নীতি নারী বিদ্বেষী ও বিভাজনমূলক : দিলীপ শইকিয়া - মহিলাদের এক হয়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান ফণীভূষণে - নারীর অধিকারের জন্য লড়বে বিপিএফ : চরণ বড়ো - নিকৃষ্ট মানসিকতার মানুষরাই কংগ্রেসের সহযোগী হতে পারেন : টংকেশ্বর রাভা - ক
গুয়াহাটিতে বিজেপির প্রদেশ সদর দফতরে এনডিএ-ভুক্ত শীর্ষ নেতৃবর্গ। বক্তব্য পেশ করছেন দিলীপ শইকিয়া


- কংগ্রেসের নীতি নারী বিদ্বেষী ও বিভাজনমূলক : দিলীপ শইকিয়া

- মহিলাদের এক হয়ে কংগ্রেসের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর আহ্বান ফণীভূষণে

- নারীর অধিকারের জন্য লড়বে বিপিএফ : চরণ বড়ো

- নিকৃষ্ট মানসিকতার মানুষরাই কংগ্রেসের সহযোগী হতে পারেন : টংকেশ্বর রাভা

- কৌরবদের মতো ধ্বংস হবে কংগ্রেস : অজন্তা নেওগ

গুয়াহাটি, ১৯ এপ্রিল (হি.স.) : গুয়াহাটিতে বিশাল ‘মহিলা আক্রোশ’ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। সংসদে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনয়ম’-এর বিরুদ্ধাচরণ করার প্রতিবাদে বিজেপি বিশাল এই কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

আজ রবিবার ভারতীয় জনতা পার্টির অসম প্রদেশ সদর দফতর ‘অটলবিহারী বাজপেয়ী ভবন’-এ যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করেছেন এনডিএ-ভুক্ত শীর্ষ নেতারা। সাংবাদিক সম্মেলনে ছিলেন অসম প্রদেশ বিজেপি সভাপতি দিলীপ শইকিয়া, অসম গণ পরিষদের নেতা সাংসদ ফণীভূষণ চৌধুরী, বিপিএফ-এর নেতা ও মন্ত্রী চরণ বড়ো, রাভা-হাসং স্বশাসিত পরিষদের মুখ্য কার্যনির্বাহী সদস্য টংকেশ্বর রাভা, বিজেপির জাতীয় নেত্রী দর্শনা জরদোশ, গুয়াহাটির সাংসদ বিজুলি কলিতা মেধি, মন্ত্রী (অর্থ) অজন্তা নেওগ, মহিলা মোর্চার সভানেত্রী নীলিমা দেবী, প্রাক্তন সাংসদ কুইন ওজা, দলের প্রদেশ উপ-সভানেত্রী রেখারানি দাস বড়ো, সংবাদ বিভাগের আহ্বায়ক রূপম গোস্বামী প্রমুখ।

সাংবাদিক সম্মেলনে বিজেপির প্ৰদেশ সভাপতি তথা দরং-ওদালগুড়ির সাংসদ দিলীপ শইকিয়া বলেন, সংসদে ‘নারী শক্তি বন্দন সংশোধনী বিল, ২০২৬’-এর বিরোধিতা করে কংগ্রেস নির্বাচন কেন্দ্র পুনর্নির্ধারণের বিষয় তুলে বিভ্রান্তিকর প্রচার চালিয়েছে। শইকিয়া বলেন, এই বিলের মাধ্যমে সংবিধানের ৮২ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সমান প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কংগ্রেস এবং তাদের সহযোগী দল নানা অজুহাতে তা বাধাগ্রস্ত করেছে।

সাংসদ তথা প্ৰদেশ বিজেপির শভাপতি দিলীপ শইকিয়া বলেন, কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোটের নানা বাধা অতিক্রম করে বিজেপি দেশের মহিলাদের জন্য ২০২৯ সালে নির্বাচনের আগে ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষণের সংকল্প নিয়েছিল। কংগ্রেসের নারী-বিদ্বেষী নীতির বিরুদ্ধে বিজেপি সহ এনডিএ-র সহযোগী দলগুলো সম্মিলিতভাবে আগামী ২৩ এপ্রিল গুয়াহাটিতে বিশাল ‘মহিলা আক্রোশ’ বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবে। পাশাপাশি রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিক আন্দোলনের কর্মসূচিও গ্রহণ করা হবে, জানান দিলীপ।

প্রদেশ বিজেপি সভাপতি জানান, ভবিষ্যতে রাজ্যের প্রত্যেক জেলা সদরে আলোচনা সভা, সাংবাদিক সম্মেলন এবং সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্বদানকারী মহিলাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কংগ্রেসের নারী-বিরোধী চরিত্র তুলে ধরা হবে।

তিনি বলেন, কংগ্রেস মহিলাদের রাজনৈতিক অগ্রগতিতে ভীত। তাই বিভাজনের রাজনীতি করছে। সংসদে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন না পাওয়ায় বিলটি পাস হয়নি। এর জন্য মূলত কংগ্রেসই দায়ীয়।

শাহবানু মামলা থেকে শুরু করে তিন তালাক পর্যন্ত বিভিন্ন ক্ষেত্রে কংগ্রেস নারী অধিকারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এছাড়া ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থার সময় কংগ্রেস গণতন্ত্রকে পদদলিত করেছে, বলেন দিলীপ শইকিয়া।

তিনি বলেন, কংগ্রেসের দীর্ঘ শাসনকালেও মহিলাদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়াতে কোনও বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অন্যদিকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী গত ১২ বছরে নারীর ক্ষমতায়নের জন্য একাধিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

সাংবাদিক সম্মেলনে অগপ নেতা সাংসদ ফণীভূষণ চৌধুরীর আহ্বান, কংগ্রেসের রাজনৈতিক বঞ্চনার বিরুদ্ধে দেশের সব মহিলাকে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে। চরণ বড়ো বলেন, নারীর ন্যায়ের সংগ্রামে বিপিএফ বিজেপি ও অগপ-র সঙ্গে কাজ করে যাবে।

টংকেশ্বর রাভা বলেন, কংগ্রেসের সহযোগীরা নিকৃষ্ট মানসিকতার। তারা নারীদের অবহেলা করে।

মন্ত্রী অজন্তা নেওগ বলেন, যেমন দ্রৌপদীর অপমানের জন্য কৌরবদের ধ্বংস হয়েছিল, তেমনই নারীর অধিকার হরণ করার জন্য কংগ্রেসও একদিন নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande