
ঝাড়গ্রাম, ১৯ এপ্রিল (হি.স.): রবিবাসরীয় নির্বাচনী প্রচারে এসে একাধিক প্রতিশ্রুতি দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী| পাশাপাশি একাধিক ইস্যুতে তৃণমূল কংগ্রেসকে তীব্র আক্রমণ করলেন প্রধানমন্ত্রী। মহিলা, কৃষক, আদিবাসী ও জনজাতি মানুষের জন্য নানা প্রকল্প ও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
রবিবার ঝাড়গ্রাম শহরের ঘোড়াধরা স্টেডিয়ামে জেলার চার বিজেপি প্রার্থী লক্ষীকান্ত সাউ, প্রণত টুডু, রাজেশ মাহাতো ও অমিয় কিস্কুর সমর্থনে জনসভায় যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী। এদিন ঝাড়গ্রাম জেলা প্রশাসনিক দফতর সংলগ্ন হেলিপ্যাড থেকে রোড শো করে তিনি সভাস্থলে পৌঁছান। বেলা তিনটে নাগাদ ভাষণ শুরু করে প্রায় আধঘণ্টা বক্তব্য রাখেন।
‘জয় জোহার’ দিয়ে বক্তৃতা শুরু করে বাংলায় ‘কেমন আছেন’ বলে উপস্থিত জনতাকে অভিবাদন জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই ভূমি বীরদের ভূমি। ঝাড়গ্রাম জনজাতির স্বর্ণভাণ্ডার।”
তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণ শানিয়ে তিনি বলেন, “আপনারা ১৫ বছর সময় দিয়েছেন তৃণমূলকে। কিন্তু শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান—কিছুই পায়নি জনজাতি অঞ্চল। সব ক্ষেত্রেই অবহেলা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এই নির্বাচন বাংলার সমৃদ্ধি ও পরিচয় রক্ষার লড়াই। তৃণমূলের নীতিতে অনুপ্রবেশকারীদের স্বার্থ রক্ষা করা হচ্ছে। বাংলার মানুষ পরিবর্তন চাইছে এবং বিজেপি সরকার গঠনের পক্ষে মত দিচ্ছে।”
বিজেপির উন্নয়নমূলক কাজের উল্লেখ করে মোদী বলেন, “বাংলা ভাষাকে ধ্রুপদী ভাষার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। সাঁওতালি ভাষায় সংবিধানের সংস্করণ প্রকাশ করা হয়েছে, কুড়মালি ভাষা নিয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বনধন কেন্দ্রের বিস্তার হবে, জনজাতি মহিলাদের আয় বাড়বে এবং ঝাড়গ্রামে ইকো-ট্যুরিজম ও হোম-স্টে প্রকল্প উন্নত করা হবে। রেল যোগাযোগ বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।
তৃণমূলের বিরুদ্ধে ‘সিন্ডিকেট রাজ’-এর অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ছোট ঘর বানাতেও সিন্ডিকেটের উপর নির্ভর করতে হয়। বিদ্যুৎ নেই, কিন্তু বিল আসে। শিল্প ধ্বংস হয়েছে সিন্ডিকেটের জন্য।”
কয়লা দুর্নীতি নিয়েও সরব হয়ে তিনি বলেন, “কয়লা লুটকারীদের কাউকে ছাড়া হবে না, প্রত্যেকের হিসাব নেওয়া হবে—এটাই মোদীর গ্যারান্টি।”
বিদ্যুৎ বিল কমানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, “পিএম সূর্যঘর মুফত বিজলি যোজনার মাধ্যমে পরিবারপিছু প্রায় ৮০ হাজার টাকা দেওয়া হবে, যাতে সোলার প্যানেল বসিয়ে নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়। কিন্তু তৃণমূল এই প্রকল্প বাস্তবায়নে বাধা দিচ্ছে।”
কৃষকদের জন্য এমএসপি ৩১০০ টাকা এবং পিএম কিষাণ সম্মাননিধির অর্থ ৬ হাজার থেকে বাড়িয়ে ৯ হাজার টাকা করার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। পাশাপাশি আলু ও ধানচাষিদের শোষণ বন্ধের আশ্বাস দেন।
মহিলা কল্যাণে একাধিক ঘোষণা করে মোদী বলেন, “মহিলাদের বছরে ৩৬ হাজার টাকা দেওয়া হবে, স্নাতক পড়ার জন্য ৫০ হাজার টাকা সহায়তা, সুকন্যা সমৃদ্ধি যোজনা এবং স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের ২০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত সহায়তা দেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “ঘর তৈরির জন্য দেড় লক্ষ টাকা, পাঁচ লক্ষ টাকা পর্যন্ত চিকিৎসা সহায়তা এবং সার্ভাইক্যাল ক্যানসারের টিকাও দেওয়া হবে।”
মহিলা সংরক্ষণ বিল প্রসঙ্গে তৃণমূল ও কংগ্রেসকে আক্রমণ করে তিনি বলেন, “মহিলাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর উদ্যোগকে বাধা দিয়েছে বিরোধীরা।”
জনজাতি উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “বিরহড়, লোধা, টোটো সহ বিভিন্ন জনজাতির উন্নয়নের জন্য পিএম জনমন যোজনা চালু করা হয়েছে, কিন্তু তৃণমূল তাতেও বাধা দিচ্ছে।”
তিনি বলেন, “এই নির্বাচন বিজেপি বা প্রার্থীদের নয়, বাংলার মানুষ, যুবসমাজ ও মা-বোনদের লড়াই। বিজেপিকে একবার সুযোগ দিন। ৪ মের পর বাংলায় বিজেপি সরকার গঠন হবে।”
হিন্দুস্থান সমাচার / গোপেশ মাহাতো