
ডিফু (অসম), ১৯ এপ্রিল (হি.স.) : দশদিনের মাথায় কাৰ্বি আংলং জেলার দুর্গম পাহাড় থেকে উদ্ধার হয়েছে ডিফুর ধনশিরি এলাকার বাসিন্দা নিখোঁজ ভোটকর্মী তথা শিক্ষক কৰ্ণেলিয়াস কিন্দোর পচাগলা মৃতদেহ।
আজ রবিবার জেলা প্রশাসনের আধিকারিক সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় বাসিন্দারা রংবংবে এলাকায় তাঁর মৃতদেহ দেখে পুলিশকে খবর দেন। সূত্রের খবর, মৃতদেহে পচন ধরে গেছে।
প্রসঙ্গত, গত ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত রাজ্য বিধানসভা নিৰ্বাচনে কাৰ্বি আংলং এবং নগাঁও জেলার সীমান্তবৰ্তী রংবংবে মণ্ডলের অন্তৰ্গত ১৯ নম্বর সাৰ্পো কাথার নিম্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় পোলিং অফিসারের দায়িত্বে ছিলেন কৰ্ণেলিয়াস কিন্দো নামের টেট শিক্ষক৷
সেদিন ভোটগ্রহণের মাঝপথে অসুস্থতার কথা বলে বুথ থেকে বেরিয়ে পড়েন কৰ্ণেলিয়াস। কিন্তু তিনি আর ডিফুর ধনশিরিতে তাঁর বাড়ি ফেরেননি। একজন ভোটকর্মীর এভাবে অন্তর্ধানের ঘটনায় পরিবার-তো বটেই, তাঁর সহকর্মী এবং প্রশাসনের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়। তাঁর সন্ধানে যৌথভাবে অভিযান চালায় সারা অসম আদিবাসী ছাত্ৰ সংস্থার কার্বি আংলং জেলা কমিটি এবং পুলিশের দল।
জেলা প্রশাসনের আধিকারিক সূত্র জানিয়েছে, নিখোঁজ হওয়ার পরপরই তালাশি অভিযান শুরু করা হয়। দুর্গম পাহাড়ি বনাঞ্চলে কয়েকদিন ধরে অনুসন্ধান চলে। কঠিন ভূখণ্ডে তাঁর খোঁজে ড্রোনও ব্যবহার করা হয়। গতকাল (শনিবার) পর্যন্ত তাঁর কোনও সন্ধান মেলেনি।
এদিকে বোকাজান মহকুমার এসডিপিও জানিয়েছেন, কৰ্ণেলিয়াস কিন্দোর কীভাবে মৃত্যু হয়েছে, সে সম্পর্কে এখনও সঠিক কারণ জানা যায়নি। মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ডিফু মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের উদ্ধৃতি দিয়ে এসডিপিও জানান, ভোটকেন্দ্র থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হওয়ার কিছুক্ষণ আগে শিক্ষক কৰ্ণেলিয়াস কিন্দো তাঁর পরিবারের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেছেন। তখন তিনি তাঁর শারীরিক অসুস্থতার কথা নাকি তাঁদের জানিয়েছিলেন৷ রংবংবে থেকে ডিফুর ধনশিরিতে নিজের বাড়ি আসতে সে সময় কোনও গাড়ি পাচ্ছিলেন না তিনি৷ তাই পরিবারের সন্দেহ, যে জায়গা থেকে তিনি ফোনে কথা বলেছেন, সেখান থেকেই সন্ধানহীন হয়েছেন কৰ্ণেলিয়াস।
পুলিশ আধিকারিক জানান, ঘটনার জোরদার তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পর ঘটনার তদন্তে গতি আসবে, জানান তিনি।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস