
গোসাবা, ২০ এপ্রিল ( হি. স.) :গোসাবার শম্ভুনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের ভূপেন্দ্রপুরে দলীয় কাজকর্ম সেরে বাড়ি ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হলেন এক সক্রিয় তৃণমূল কর্মী। আহতের নাম দিব্যেন্দু গায়েন। রবিবার রাত এগারোটা নাগাদ ঘটা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে। বর্তমানে তিনি ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ২২ এপ্রিল গোসাবায় তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত মণ্ডলের সমর্থনে একটি নির্বাচনী সভা রয়েছে। সেই সভার প্রস্তুতি ও দলীয় পতাকা-ফেস্টুন নিয়ে বৈঠক সেরে বাইকে করে বাড়ি ফিরছিলেন দিব্যেন্দু। অভিযোগ, ভূপেন্দ্রপুর এলাকায় আচমকাই দুষ্কৃতীরা তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। একটি গুলি তাঁর ডান পায়ের উরুতে লাগে। রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় লুটিয়ে পড়লে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে ক্যানিং মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে যান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁকে কলকাতার চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর তাঁর শরীর থেকে গুলি বের করা হয়। বর্তমানে ফের তাঁকে ক্যানিং হাসপাতালে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
তৃণমূলের অভিযোগ, এই হামলার নেপথ্যে রয়েছে বিজেপি। শম্ভুনগর অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি পরিতোষ হালদার ও নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা নেতা রাজা গাজীর দাবি, শম্ভুনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান চিত্ত প্রামাণিকের নির্দেশে পরিকল্পিতভাবে খুনের চেষ্টা করা হয়েছে। এলাকায় সন্ত্রাস ছড়াতেই বিজেপি এই ঘটনা ঘটিয়েছে। অন্যদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করেছে বিজেপি। অভিযুক্ত চিত্ত প্রামাণিক জানান, তিনি অসুস্থ এবং তাঁর বাড়ির সামনে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তিনি এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত নন। বিজেপি প্রার্থী বিকর্ণ নস্কর দাবি করেছেন, তৃণমূল পরাজয়ের আশঙ্কায় বিজেপি কর্মীদের ফাঁসাতে নিজেরাই এই চক্রান্ত করেছে।
ঘটনার তদন্তে নেমে গোসাবা থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেফতার করেছে। ধৃতরা বিজেপি কর্মী বলেই স্থানীয় সূত্রে খবর। রবিবার রাতেই দিব্যেন্দুর স্ত্রী বাসন্তী গায়েন ১২-১৫ জনের নামে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বারুইপুর পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার শুভেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, ঘটনার নেপথ্যে প্রকৃত কারণ কী, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এলাকায় শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ ও কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / পার্সতি সাহা