
গুয়াহাটি, ২০ এপ্রিল (হি.স.) : উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে ট্র্যাক আধুনিকীকরণ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং সুরক্ষার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এই সাফল্যগুলি পরিচালনগত দক্ষতা, যাত্রী সুরক্ষা এবং পরিকাঠামোগত নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধিতে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের ধারাবাহিক অঙ্গীকারের প্রতিফলন।
উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা এ তথ্য দিয়ে জানান, ২০২৪–২৫ অর্থবর্ষের তৃতীয় প্রান্তিকে ফ্ল্যাশ বাট ওয়েল্ড পরীক্ষার জন্য ‘ফেজড অ্যারে আল্ট্রাসনিক টেস্টিং’ (পিএইউটি)-এর সূচনার মাধ্যমে একটি উল্লেখযোগ্য প্রযুক্তিগত মাইলফলক অর্জিত হয়েছে। এই পদক্ষেপের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ২০২৫–২৬ অর্থবর্ষে মোট ৫৩,৫৪৪টি ওয়েল্ড পরীক্ষা করা হয়। এর ফলে উন্নত পরিদর্শন কৌশলের মাধ্যমে ট্র্যাকের সুরক্ষা ও নির্ভরযোগ্যতা উল্লেখযোগ্যভাবে মজবুত হয়েছে, দাবি করেন তিনি।
কপিঞ্জল কিশোর শর্মা জানান, উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে ট্র্যাক নবীকরণ ইতিহাসে সর্বোচ্চ অগ্রগতি অর্জন করেছে। ২০২৫–২৬-এর সময়কালে ৪৫৭টি কমপ্লিল ট্র্যাক রিনিউয়াল (সিটিআর) ইউনিট সম্পন্ন করেছে। এটি গত বছরের ৩৪৩.০৮ সিটিআর ইউনিটের তুলনায় ৩৩.০৭ শতাংশ বেশি। এছাড়া, ৪৪৯.৪২ ট্র্যাক কিলোমিটার (টিকেএম) রেল নবীকরণের কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যা এই জোনের ইতিহাসে আরেকটি রেকর্ড। স্লিপার নবীকরণের পরিমাণ ৪৬৫.০২ টিকেএম-এ পৌঁছেছে, যা ৫০২ টিকেএম-এর বার্ষিক লক্ষ্যের দিকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির প্রতিফলন।
ট্র্যাক কাঠামোকে আরও সুদৃঢ় করতে এ বছর রেকর্ড পরিমাণ ৯.৫৭ লক্ষ ঘনমিটার ব্যালাস্ট সরবরাহ ও স্থাপন করা হয়েছে। এটি গত বছরের ৯.০১ লক্ষ ঘনমিটারের তুলনায় ৬ শতাংশ বেশি। এই উন্নয়ন রাইডিংয়ের মান এবং সামগ্রিক ট্র্যাক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।
তিনি জানান, ট্র্যাক ফিটিংস রিনিউয়াল কাজও প্রত্যাশা থেকে অধিক হয়েছে। ২০৫ কিলোমিটারের লক্ষ্যের বিপরীতে ২৯৯.৬১ কিলোমিটারের সামগ্রিক অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৪৬.১৫ শতাংশ বেশি। এর মধ্যে ৪,৩১২টি পয়েন্ট ট্যাম্প করা হয়েছে, যা ৪,১৫০-এর বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৩.৯ শতাংশ বেশি। এর ফলে ট্রেনের চলাচল আরও সুগম হয়েছে ও রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজনীয়তা হ্রাস পেয়েছে।
৩৯টি স্টেশনে লুপ লাইনের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার থেকে বাড়িয়ে ৩০ কিলোমিটার করার ফলে পরিচালনগত দক্ষতায় আরও উন্নতি হয়েছে, যা গত বছরের ২১টি স্টেশনের অগ্রগতির মাত্রাকেও অতিক্রম করেছে। এছাড়া, ২৫৮টি টার্নআউটের ডিপ স্ক্রিনিং সম্পন্ন হয়েছে। যার ফলে বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৪৭.৪৩ শতাংশ বেশি হওয়ার ট্র্যাকের স্থিতিস্থাপকতা ও দীর্ঘস্থায়িত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে।
ট্র্যাক সেফটি মনিটরিঙের ক্ষেত্রে আল্ট্রাসনিক ফ্ল ডিটেকশন (ইউএসএফডি) পরীক্ষা ২০,২১২.৬১ কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকা অতিক্রম করেছে, যা ১৯,২১৭ কিলোমিটারের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা থেকে বেশি। উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে ২৩টি ট্র্যাক লেআউটকেউ সফলভাবে সংশোধন করেছে। যার ফলে তার নির্ধারিত লক্ষ্যকে অতিক্রম করেছে, উন্নতি ঘটেছে পরিচালনগত সুরক্ষা ও নমনীয়তার।
সুরক্ষা পরিকাঠামোকে ১৫৪.৫৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের সুরক্ষা বেড়া স্থাপনের ফলে এক বিশাল গতি প্রাপ্ত হয়েছে, যা ১০০ কিলোমিটারের বার্ষিক লক্ষ্যমাত্রা থেকে ৫৪.৫৩ শতাংশ বেশি। এই পদক্ষেপ অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধ এবং সুরক্ষিতভাবে রেল চলাচল নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
রেকর্ড-ভাঙা এই সাফল্যগুলি উন্নত প্রযুক্তি গ্রহণ, পরিকাঠামো শক্তিশালীকরণ এবং সমগ্র অঞ্চলে যাত্রী ও পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে নিরাপদ ও অধিকতর দক্ষ রেলসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের অঙ্গীকারকে তুলে ধরে বলে জানান এনএফ রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস