
আরামবাগ, ২০ এপ্রিল (হি.স.): তারকেশ্বরে নির্বাচনী প্রচারে এসে তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যকে ঘিরে নতুন করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কের ঝড় উঠেছে। জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থান কামারপুকুরকে “কামারবাটি” বলে উল্লেখ করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। এই মন্তব্য সামনে আসতেই বিরোধী শিবিরে ক্ষোভের আগুন ছড়িয়ে পড়ে এবং রাজনৈতিক মহলে শুরু হয় তুমুল তরজা। বিজেপির অভিযোগ, এটি কোনও বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর আগেও একাধিকবার মুখ্যমন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থানের নাম ভুলভাবে উচ্চারণ করেছেন বলে দাবি তাদের। বিজেপির বক্তব্য, কামারপুকুর শুধু একটি সাধারণ গ্রাম নয়, এটি বিশ্ববন্দিত সাধক রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব-এর জন্মস্থান, যা লক্ষ লক্ষ ভক্তের কাছে অত্যন্ত পবিত্র। সেই স্থানের নাম বিকৃত করা সাধারণ মানুষের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার শামিল বলেই অভিযোগ বিজেপির। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রবিবার রাতে রাস্তায় নেমে সরব হয় গোঘাটের বিজেপি নেতৃত্ব।
গোঘাটের মিশন মোড় এলাকায় বিক্ষোভে শামিল হন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। সেখানে মমতার কুশপুত্তলিকা দাহ করে তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়। বিক্ষোভ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন গোঘাট বিধানসভা কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী প্রশান্ত দিগার, বিজেপি নেত্রী দোলন দাস সহ একাধিক স্থানীয় নেতৃত্ব। প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে প্রশান্ত দিগার তীব্র ভাষায় মমতাকে আক্রমণ করেন। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তোলেন তৃণমূল নেত্রীর মানসিক সক্ষমতা নিয়ে। তাঁর দাবি, একজন মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে এই ধরনের ভুল বারবার হওয়া অত্যন্ত দায়িত্বজ্ঞানহীনতার পরিচয়। তিনি বলেন, “যিনি একটি ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থানের নাম ঠিকভাবে উচ্চারণ করতে পারেন না, তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। মুখ্যমন্ত্রীর উচিত আগে চিকিৎসা করানো, তারপর ভোটের ময়দানে নামা।” বিজেপি নেতৃত্বের আরও দাবি, এই ধরনের মন্তব্য রাজ্যের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি চরম অবমাননা। তাঁদের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রচারের তাড়ায় মুখ্যমন্ত্রী বারবার এমন মন্তব্য করে সাধারণ মানুষের আবেগকে আঘাত করছেন। ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবেশ ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গোঘাট ও তারকেশ্বর জুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ। নির্বাচনের মুখে এই বিতর্ক নতুন করে রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। সামগ্রিকভাবে, একটি মন্তব্য ঘিরে যে ভাবে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়িয়েছে, তাতে স্পষ্ট—ভোটের আগে প্রতিটি শব্দই এখন হয়ে উঠছে রাজনৈতিক অস্ত্র।
হিন্দুস্থান সমাচার / SANTOSH SANTRA