
পাথরপ্রতিমা, ২১ এপ্রিল (হি. স.) : দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা বিধানসভা কেন্দ্র এক সময় বাম-কংগ্রেসের দুর্ভেদ্য গড় হিসেবে পরিচিত ছিল। দীর্ঘ তিন দশকের বাম শাসনের অবসান ঘটিয়ে এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক সমীকরণ এখন আমূল বদলে গিয়েছে। আসন্ন নির্বাচনে এই কেন্দ্রে পুনরায় জয়ের বিষয়ে পূর্ণ আত্মবিশ্বাসী তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী সমীর কুমার জানা। উল্লেখ্য, ১৯৬৭ থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত প্রায় ৩০ বছর এই কেন্দ্রটি বামেদের দখলে ছিল। ২০১১ সালে রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের সময় সমীরবাবুর হাত ধরেই প্রথম এখানে তৃণমূলের জয়যাত্রা শুরু হয়। ২০১১ সাল থেকে টানা তিনবারের বিধায়ক হওয়া সত্ত্বেও এবারের লড়াইকে তিনি যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছেন।
এবারের নির্বাচনে প্রবীণ এই প্রার্থী তাঁর প্রচার কৌশলে বেশ কিছু বদল এনেছেন। বড় জনসভা বা মিছিলের চেয়ে তিনি মানুষের খুব কাছে পৌঁছাতে বাড়ি বাড়ি গিয়ে জনসংযোগের ওপর বেশি জোর দিচ্ছেন। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত পাথরপ্রতিমার এক দ্বীপ থেকে অন্য দ্বীপে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও সমীরবাবুকে নিয়ে ব্যাপক উৎসাহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে; কেউ তাঁকে প্রণাম করছেন, আবার কেউ ফুল ও মাল দিয়ে বরণ করে নিচ্ছেন। দ্বীপ অঞ্চলের মানুষের সঙ্গে তাঁর এই নিবিড় সম্পর্কই তৃণমূল শিবিরের অন্যতম শক্তি।
এই কেন্দ্রে তৃণমূলের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে লড়াইয়ে রয়েছে বিজেপি। গেরুয়া শিবির থেকে প্রার্থী করা হয়েছে অসিত কুমার হালদারকে, যিনি ২০২১ সালের নির্বাচনে সমীরবাবুর কাছে পরাজিত হয়েছিলেন। অসিতবাবুর দাবি, গত পাঁচ বছরে এলাকার পরিস্থিতি অনেকটাই বদলেছে এবং অনুন্নয়নকে হাতিয়ার করেই তিনি এবার মানুষের দ্বারে দ্বারে পৌঁছাচ্ছেন। অন্যদিকে, বাম-কংগ্রেস জোটের তরফে লড়াইয়ে আছেন সিপিএমের সত্য রঞ্জন দাস। তিনি দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগঠক হলেও সংসদীয় নির্বাচনে এবারই প্রথম পদার্পণ করেছেন। জোট প্রার্থীও উন্নয়নের অভাবকে সামনে রেখে প্রচার চালাচ্ছেন।
প্রতিদ্বন্দ্বীদের বিশেষ আমল না দিয়ে সমীর কুমার জানা তাঁর আমলের উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরছেন। তাঁর দাবি, গত কয়েক বছরে এলাকায় রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নতি হয়েছে, বিভিন্ন দ্বীপের সংযোগস্থলে জেটি নির্মাণ করা হয়েছে এবং ভেসেলের মাধ্যমে গাড়ি পারাপারের ব্যবস্থা শুরু হয়েছে। এছাড়া প্রত্যন্ত গ্রামগুলোতে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া তাঁর সরকারের অন্যতম সাফল্য। ভবিষ্যতে পাথরপ্রতিমাকে পর্যটন মানচিত্রে স্থান করে দেওয়া এবং নদী বাঁধ স্থায়ীভাবে কংক্রিট করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি। জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী সমীরবাবু জানান, মানুষই শেষ কথা বলবে। এলাকার উন্নয়নের নিরিখে জেতা এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।
হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত