
গুয়াহাটি, ২১ এপ্রিল (হি.স.) : উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে চলতি বছরের মার্চে গ্রাহক সন্তুষ্টি বৃদ্ধি এবং পণ্য পরিবহণ দ্বারা রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেশ কিছু সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এই পদক্ষেপগুলি লজিস্টিকস দক্ষতা শক্তিশালী করা, বাধাহীন কার্গো চলাচল নিশ্চিত করা এবং আঞ্চলিক কৃষি ও শিল্প সরবরাহ শৃঙ্খলের বিকাশে সহায়তা করার ওপর গুরুত্ব আরোপ করে।
আজ মঙ্গলবার এক প্রেস বার্তায় উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা এই খবর দিয়ে জানান, এই পদক্ষেপগুলির একটি অংশ হিসেবে লামডিং ডিভিশনের অন্তর্গত হাওয়াইপুর স্টেশনে মেসার্স ডালমিয়া সিমেন্ট (নর্থ-ইস্ট) লিমিটেডের ‘গতিশক্তি মাল্টি-মোডাল কার্গো টার্মিনালটি ২৭ মার্চ (২০২৬) থেকে অন্তর্মুখী পণ্য পরিবহণ হ্যান্ডলিঙের জন্য চালু করা হয়েছে। এছাড়া সংশোধিত মাল ভাড়া হার সংক্রান্ত সার্কুলার অনুযায়ী রঙিয়া ডিভিশনের অন্তর্গত বাইহাটা জিসিটি-কে ৯ মার্চ (২০২৬) থেকে ৯০ দিনের মেয়াদের জন্য বহির্গামী পণ্য পরিবহণ হ্যান্ডলিঙের অনুমতি প্রদান করা হয়েছে। কৌশলগত এই পদক্ষেপগুলি লজিস্টিকস ক্ষমতাকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করতে এবং এই অঞ্চলের ক্রমবর্ধমান পণ্য পরিবহণ চাহিদা দক্ষতার সাথে মেটাতে প্রস্তুত।
‘বিজনেস ডেভলপমেন্ট ইউনিট’ পদক্ষেপের অধীনে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে বিভিন্ন ডিভিশনে পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে প্রশংসনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের অধীনস্থ ধূপগুড়ি রেলওয়ে স্টেশন থেকে আলুর মোট ৪.৫ রেক (১৮৯টি ওয়াগন) সফলভাবে বিভিন্ন গন্তব্যস্থানের জন্য বোঝাই করা হয়েছে। যার ফলে ০.৭৬ কোটি টাকা পণ্য পরিবহণ রাজস্ব আয় হয়েছে। এছাড়া, কাটিহার ডিভিশনের আওতাধীন পূর্ণিয়া, জালালগড় এবং কাটিহার জংশন থেকে বাংলাদেশর জন্য ভুট্টার ছয় (৬)টি রেক (২৫২টি ওয়াগন) বোঝাই করা হয়, যার মাধ্যমে ০.৫৫ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে।
লামডিং ডিভিশনের অধীনে পণ্য পরিবহণে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করা হয়েছে। বিভিন্ন উৎসস্থল থেকে একাধিক গন্তব্যস্থান পর্যন্ত স্টোন চিপসের মোট ২,৭৪১টি ওয়াগনে পরিবহণ করা হয়েছে। অতিরিক্তভাবে, সিমেন্টের ২,৮৬৭টি ওয়াগন হ্যান্ডেল করা হয়েছে। যার ফলে ১১.৫২ কোটি টাকার পণ্য পরিবহণ রাজস্ব আয় হয়েছে। পেট্রোলিয়াম পণ্যের ৪৪১টি ওয়াগনের পরিবহণের মাধ্যমে ৩.৮৮ কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে। পাশাপাশি বাঁশ ও চিপসের ১০৭টি ওয়াগনও হ্যান্ডেল করা হয়েছে, যা পণ্য পরিবহণের সামগ্রিক প্রদর্শনকে আরও শক্তিশালী করেছে।
উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে পণ্য পরিবহণ পরিষেবা এবং গ্রাহক সংযোগের মান উন্নয়নে ধারাবাহিকভাবে মনোনিবেশ করে চলেছে এবং লজিস্টিক ও সরবরাহ শৃঙ্খলব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে। ধারাবাহিক পদক্ষেপ এবং প্রযুক্তি-চালিত সমাধানের মাধ্যমে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের লক্ষ্য গ্রাহকদের জন্য দ্রুততর, সুরক্ষিত ও অধিক দক্ষ পরিবহণ নিশ্চিত করা, প্রেস বার্তায় বলেছেন উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস