বাগবাজার গৌড়ীয় মঠে শুরু হলো ঐতিহ্যবাহী ‘চন্দনযাত্রা’ মহোৎসব, ভক্তি ও সুগন্ধের আবহে ভাসছে উত্তর কলকাতা
কলকাতা, ২১ এপ্রিল (হি. স.) : চৈত্র-বৈশাখের প্রচণ্ড দাবদাহের মাঝেই উত্তর কলকাতার বাগবাজার গৌড়ীয় মঠে শুরু হলো সুপ্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ‘চন্দনযাত্রা’ মহোৎসব। আগামী ১০ মে পর্যন্ত টানা ২১ দিন ব্যাপী চলবে এই বিশেষ আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠান। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা
বাগবাজারে চন্দনযাত্রার আবেশ গৌড়ীয় মঠে


কলকাতা, ২১ এপ্রিল (হি. স.) : চৈত্র-বৈশাখের প্রচণ্ড দাবদাহের মাঝেই উত্তর কলকাতার বাগবাজার গৌড়ীয় মঠে শুরু হলো সুপ্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী ‘চন্দনযাত্রা’ মহোৎসব। আগামী ১০ মে পর্যন্ত টানা ২১ দিন ব্যাপী চলবে এই বিশেষ আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠান। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মন্দির প্রাঙ্গণে পূজা, নামসংকীর্তন ও আরতির মাধ্যমে এক ভক্তিঘন পরিবেশ তৈরি হচ্ছে।

​গ্রীষ্মের প্রখর তাপে আরাধ্য শ্রীকৃষ্ণকে শীতল রাখার উদ্দেশ্যে চন্দন ও সুগন্ধি ফুল অর্পণের এই প্রাচীন প্রথা গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। মঠের আচার্য তথা সভাপতি ভক্তি সুন্দর সন্ন্যাসী মহারাজ এই উৎসবের মাহাত্ম্য ব্যাখ্যা করে বলেন, “গরমকালে সুগন্ধি ফুল ও চন্দনের প্রলেপ দিয়ে ভগবানের শ্রীঅঙ্গ শীতল ও সুগন্ধিত করা হয়। এতে কৃষ্ণ প্রীত হন—এই বিশ্বাস থেকেই ভক্তরা এই আয়োজনে ব্রতী হন।”

​মহারাজ আরও জানান যে, চন্দনযাত্রা কেবল একটি উৎসব নয়, এটি ভক্তি ও আত্মশুদ্ধির এক বিশেষ সাধনা। তাঁর মতে, ভগবানকে চন্দন অর্পণের মাধ্যমে ভক্তরা যেমন পরমাত্মার সঙ্গে আত্মিক সংযোগ স্থাপন করেন, তেমনই এই ধরনের ধর্মীয় অনুষ্ঠান সমাজে শান্তি ও সৌহার্দ্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

​উৎসবের সূচনা লগ্ন থেকেই মঠ প্রাঙ্গণে ভক্তদের ভিড় চোখে পড়ার মতো। সন্ধ্যার আরতি এবং সমবেত কীর্তনের ধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে সমগ্র বাগবাজার এলাকা। ধূপ ও চন্দনের স্নিগ্ধ সুবাস আর ভক্তিমূলক সুরের মূর্ছনা শহরের ব্যস্ত নাগরিক জীবনের মাঝে এক টুকরো শান্তির পরশ বয়ে এনেছে। আগামী তিন সপ্তাহ ধরে এই উৎসবকে কেন্দ্র করে মঠ চত্বরে আধ্যাত্মিক উদ্দীপনা বজায় থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / শুভদ্যুতি দত্ত




 

 rajesh pande