কৈলাসহরে অগ্নিকাণ্ডে ছাই দুই ঘর, চোখের সামনে সর্বস্ব হারাল দুই পরিবার
কৈলাসহর (ত্রিপুরা), ২১ এপ্রিল (হি.স.) : ঊনকোটি জেলার কৈলাসহর মহকুমার গৌরনগর আরডি ব্লকের শ্রীনাথপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১ নম্বর ওয়ার্ডে মঙ্গলবার সকালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড মুহূর্তের মধ্যে কেড়ে নিল দুই পরিবারের সবকিছু। চোখের সামনে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গ
আগুনে পুড়ল দুটি ঘর


কৈলাসহর (ত্রিপুরা), ২১ এপ্রিল (হি.স.) : ঊনকোটি জেলার কৈলাসহর মহকুমার গৌরনগর আরডি ব্লকের শ্রীনাথপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ১ নম্বর ওয়ার্ডে মঙ্গলবার সকালের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড মুহূর্তের মধ্যে কেড়ে নিল দুই পরিবারের সবকিছু। চোখের সামনে আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেল তাদের বহু কষ্টে গড়ে তোলা বসতঘর—রইল শুধু ধ্বংসস্তূপ আর অসহায় কান্না।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে আচমকাই জব্বার আলীর বাড়িতে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকেই এই সর্বনাশের শুরু। কিন্তু কেউ কল্পনাও করতে পারেনি, কয়েক মিনিটের মধ্যেই সেই আগুন এমন ভয়ংকর রূপ নেবে। মুহূর্তেই দাউদাউ করে জ্বলে ওঠা আগুন পাশের আরেকটি বাড়িকেও গ্রাস করে নেয়।

আগুনের লেলিহান শিখা যেন সবকিছু গিলে ফেলছিল—ঘর, আসবাবপত্র, জমিয়ে রাখা সামান্য সঞ্চয়, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, কাপড়চোপড়—কিছুই রক্ষা পায়নি। অসহায় পরিবারের সদস্যরা শুধু দাঁড়িয়ে দেখেছেন তাঁদের জীবনের সঞ্চিত স্বপ্নগুলো ধোঁয়ায় মিলিয়ে যেতে। অল্প সময়ের মধ্যেই দুটি ঘর পরিণত হয় ছাইয়ের স্তূপে, আর দুই পরিবার হয়ে পড়ে একেবারে নিঃস্ব।

চিৎকার-চেঁচামেচিতে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। বালতি, কলসি, যা পেয়েছেন তাই নিয়ে আগুন নেভানোর মরিয়া চেষ্টা চালান সবাই। কিন্তু আগুনের তাণ্ডবের কাছে সব প্রচেষ্টাই ব্যর্থ হয়ে যায়। দমকল বাহিনীকে খবর দেওয়া হলেও তারা পৌঁছানোর আগেই শেষ হয়ে যায় সব—থেকে যায় শুধু পোড়া কাঠ, ছাই আর কান্না।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান গৌরনগর পঞ্চায়েত সমিতির ভাইস চেয়ারম্যান বদরুজ্জামান। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনিও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “এই দৃশ্য ভাষায় প্রকাশ করা যায় না। দুই পরিবার মুহূর্তের মধ্যে পথে বসে গেল। আমরা পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে তাদের পাশে আছি এবং দ্রুত সবরকম সাহায্যের ব্যবস্থা করা হবে।”

বর্তমানে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। স্থানীয় মানুষজন নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। কেউ খাবার, কেউ কাপড়, কেউ বা অস্থায়ী আশ্রয়ের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছেন। পঞ্চায়েত কর্তৃপক্ষও দ্রুত নতুন ঘর নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে।

তবুও এই ক্ষতি কি সহজে পূরণ হওয়ার? বহু বছরের কষ্টে গড়ে তোলা একটি ঘর শুধু ইট-কাঠ নয়—তার সঙ্গে জড়িয়ে থাকে স্মৃতি, স্বপ্ন আর নিরাপত্তার অনুভূতি। সেই সবকিছু এক নিমিষে হারিয়ে আজ নিঃস্ব দুই পরিবার। এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া, আর একটাই আবেদন—প্রশাসন দ্রুত এগিয়ে এসে এই অসহায় মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াক।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande