
নয়াদিল্লি, ২৩ এপ্রিল (হি.স.): মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারতবিরোধী মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন মহল কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, যেন ওয়াশিংটন প্রশাসনের কাছে ভারতের জনমনে সৃষ্ট অসন্তোষ ও আপত্তির বিষয়টি যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়।
সম্প্রতি এক বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অভিবাসন নীতি ও জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব প্রসঙ্গে ভারত ও চিনসহ একাধিক দেশকে “নরক” বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তিনি এই দেশগুলির প্রশিক্ষিত তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবীদের “ল্যাপটপ-ধারী গ্যাংস্টার” বলেও অভিহিত করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এই মন্তব্য ঘিরে ভারতে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। কেন্দ্রীয় বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বিষয়টি নিয়ে সংযত অবস্থান নিয়ে বলেন, “আমরা এই মন্তব্যগুলি লক্ষ্য করেছি। এ বিষয়ে এর বেশি কিছু বলার নেই।”
প্রাক্তন বিদেশ সচিব কনওয়াল সিব্বল বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং উপযুক্ত মাধ্যমে ভারতের জনমতের উদ্বেগ মার্কিন প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন।
অন্যদিকে, কংগ্রেস এই ইস্যুতে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। দলের তরফে বলা হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ‘মিত্র’ ট্রাম্পের এমন মন্তব্যে সরকারের নীরবতা উদ্বেগজনক। কংগ্রেসের দাবি, ভারতীয় পেশাজীবীদের অবদান সত্ত্বেও এমন মন্তব্যের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় সরকারের আরও শক্ত অবস্থান নেওয়া উচিত ছিল।
এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক উত্তেজনা প্রশমনে ওয়াশিংটনস্থিত মার্কিন দূতাবাসের মুখপাত্র ক্রিস্টোফার এলমস পরবর্তীতে জানান, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভারতকে একটি “মহান দেশ” হিসেবে বিবেচনা করেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে।
সব মিলিয়ে, বিষয়টি ঘিরে রাজনৈতিক বক্তব্য ও কূটনৈতিক ব্যাখ্যার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা চলছে বলে কূটনৈতিক মহলের মত।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য