
পানিপত, ২৪ এপ্রিল (হি.স.): হরিয়ানার পানিপতে নাবালিকা মেয়ে ও তার মাকে অপহরণ করে টানা ১২ দিন গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনায় নাবালিকার বাবা-সহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। শুক্রবার এই বিষয়ে জানা গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ১৬ বছর বয়সী ওই নাবালিকার বাবা তাঁর ব্যবসায়িক সঙ্গী সুরেন্দ্রর ছেলে সুনীলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিতে চেয়েছিলেন। নাবালিকা হওয়ায় মা ও মেয়ে সেই প্রস্তাবে আপত্তি জানান। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে বাবা সঙ্গীদের সঙ্গে মিলিত হয়ে মা-মেয়েকে অপহরণের ছক কষেন বলে অভিযোগ।
পরে অভিযুক্তরা কৌশলে মা-মেয়েকে পানিপতের সঞ্জয় চকে ডেকে এনে জাটাল রোডের একটি ভাড়া ঘরে নিয়ে যায় এবং আটক করে রাখে। অভিযোগ, সেখানে নাবালিকার উপর একাধিকবার ধর্ষণ চালানো হয় এবং তাঁর মাকেও যৌন নির্যাতন করা হয়।
এরপর তাঁদের রোহতক জেলার লাখন মাজারায় নিয়ে যাওয়া হয়, যেখানে আরও কয়েকজন অভিযুক্ত যোগ দিয়ে টানা ১২ দিন ধরে মা-মেয়ের উপর গণধর্ষণ চালায় বলে অভিযোগ।
সুযোগ পেয়ে মা-মেয়ে কোনওভাবে অভিযুক্তদের কবল থেকে পালিয়ে বাড়ি ফেরেন। অভিযোগ, এরপর প্রধান অভিযুক্ত সুনীল ও তাঁর সঙ্গীরা আত্মীয়ের বাড়িতেও গিয়ে তাঁদের মারধর করেন এবং জোর করে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে তাঁরা পালিয়ে যান।
আহত মা ও মেয়েকে সিভিল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযোগ, থানায় গেলেও প্রথমে পুলিশ ব্যবস্থা নেয়নি। পরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে সেক্টর-২৯ থানায় মামলা রুজু করা হয়। শুক্রবার থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক জানিয়েছেন, নিপীড়িতের অভিযোগের ভিত্তিতে সাতজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের হয়েছে। পকসো আইন, অপহরণ, অবৈধভাবে আটক ও গণধর্ষণ–সহ একাধিক ধারায় মামলা দায়ের হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে নাবালিকার বাবা সুরেন্দ্র, সুনীল, কমলেশ, স্বপ্না, দীপক এবং রণবীর সিং। যদিও সব অভিযুক্তই পলাতক এবং পুলিশ তাদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে।
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য