আমরা মোদীর জন্য গর্বিত, তিনিও সংঘের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে গর্ব অনুভব করেন : হোসবালে
ওয়াশিংটন/নয়াদিল্লি, ২৪ এপ্রিল (হি.স.): রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসবালে বলেছেন যে, পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক উত্তেজনার বিষয়ে আমরা ভারত সরকারের নীতি, প্রতিক্রিয়া এবং চিন্তাভাবনার সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। আমাদের ক
আরএসএস-এর সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসবালে


ওয়াশিংটন/নয়াদিল্লি, ২৪ এপ্রিল (হি.স.): রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসবালে বলেছেন যে, পশ্চিম এশিয়ায় সাম্প্রতিক উত্তেজনার বিষয়ে আমরা ভারত সরকারের নীতি, প্রতিক্রিয়া এবং চিন্তাভাবনার সঙ্গে সম্পূর্ণ একমত। আমাদের কোনও ভিন্নমত নেই। প্রধানমন্ত্রী মোদী সম্পর্কে তিনি বলেন, আমরা তাঁকে নিয়ে গর্বিত এবং তিনিও সংঘের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পেরে গর্ব অনুভব করেন।

ওয়াশিংটন (ডি.সি.)-র বিখ্যাত হাডসন ইনস্টিটিউটের তত্বাবধানে আয়োজিত এক আলোচনাচক্রে ‘দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল’-এর প্রবীণ সাংবাদিক ও কলামিস্ট ওয়াল্টার রাসেল মিডের সঙ্গে এক আলোচনায় ভারতীয় জনতা পার্টি, সরকার এবং আরএসএস সম্পর্কিত প্রশ্নের উত্তরে তিনি এই মন্তব্য করেন। আরএসএস–এর সরকার্যবাহ দত্তাত্রেয় হোসবালে স্পষ্টভাবে বলেছেন, ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা ও সংগঠকরা ১৯৮০–তে এর প্রতিষ্ঠার সময় থেকেই আমাদের সঙ্গে যুক্ত আছেন। আজ, আরএসএস-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত ৪০টিরও বেশি সংগঠনের একটি দেশব্যাপী নেটওয়ার্ক রয়েছে। তিনি আমেরিকার প্রবাসীদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ভারতীয় বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকদের নাগরিক কর্তব্য পালন করা এবং তাঁদের দেশের সাংস্কৃতিক পরিচয়কে সম্মান জানানোর জন্য কাজ করা তাঁদের দায়িত্ব। একটি প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমাদের সংগঠন সম্পর্কে শুধু আমেরিকানদের মধ্যেই নয়, ভারতেও অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। সংঘের শতবর্ষে আমরা পঞ্চ পরিবর্তন কর্মসূচিকে জনগণের কাছে নিয়ে যাচ্ছি। এটি শুধু ভারত বা ভারতীয়দের জন্য নয়, বরং বিশ্বজুড়ে গৃহীত একটি ধারণা। তিনি বলেন যে, ভারতীয় দর্শন সমগ্র বিশ্বকে একটি পরিবার হিসেবে দেখে। এই আধ্যাত্মিক আদর্শ আমাদের সাংস্কৃতিক মূল্যবোধে বিদ্যমান এবং এর উপর ভিত্তি করে আরএসএস আমাদের দেশ, সমাজ, রাষ্ট্র এবং সমগ্র মানবজাতির কল্যাণে জনসচেতনতামূলক কাজ করে চলেছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত রাখবে।

আমেরিকা সফরকালে আরএসএস-এর সরকার্যবাহ হাডসন ইনস্টিটিউটে এক আলোচনায় বলেন, যখন আমরা আমাদের বিগত ১০০ বছরের যাত্রাপথের দিকে ফিরে তাকাই এবং উপলব্ধি করি যে, আমাদের শক্তি ক্রমশ বৃদ্ধিই পেয়েছে, তখন আমাদের মধ্যে কোনও অহংকার জন্মায় না। বরং বিনয় বোধের সৃষ্টি হয়। প্রকৃত মানবতার সেবায় আমাদের কাজ চালিয়ে যেতে হবে— এই দৃঢ় বিশ্বাস আরও শক্তিশালী হয়। তিনি আরও বলেন যে, ১০০ বছর আগে অল্প কয়েকজন বালককে নিয়ে শুরু হওয়া সংঘ এর অনন্য শাখা–র মাধ্যমে আজ বিশ্বের বৃহত্তম সংগঠনে পরিণত হয়েছে।

স্বেচ্ছাসেবক এবং স্বয়ংসেবকের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করে তিনি বলেন, যেকোনও সংস্থার স্বেচ্ছাসেবকরা সেখানে কিছু অর্থ, সম্মান বা খ্যাতির বিনিময়ে কয়েক ঘণ্টা কাজ করেন। কিন্তু আরএসএস তার স্বয়ংসেবকদের মধ্যে সেই এক ঘণ্টায় এমন মূল্যবোধ সঞ্চারিত করে যে, প্রথম দিন থেকেই তারা সমাজ ও দেশের প্রতি নিঃস্বার্থভাবে সেবার মনোভাব গড়ে তোলে। বাস্তবে স্বয়ংসেবক একটা জীবনশৈলী। ওয়াল্টার রাসেল মিডের একটি প্রশ্নের জবাবে আরএসএস-এর সরকার্যবাহ বলেন, আমেরিকানদের শুধু আরএসএস সম্পর্কেই নয়, ভারত সম্পর্কেও কিছু ভুল ধারণা রয়েছে। এদেশের জনসংখ্যা, সংস্কৃতি, সামাজিক রীতিনীতির কারণে তারা এখনও ভারতকে নোংরা ও সাপুড়েদের দেশ বলে মনে করে। তবে, ভারতের চিন্তা ও দর্শন সমগ্র বিশ্বকে এক পরিবার হিসেবে দেখার মহত্ব প্রদান করে। তার মহান সংস্কৃতি ও আদর্শের সঙ্গেই ভারত আধুনিকতা ও উন্নয়নের পথে যাত্রা শুরু করেছে। বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে পরিণত হয়েছে। চাঁদে পৌঁছেছে। তিনি বলেন, ভারতের সম্বন্ধে, তার সংখ্যালঘুদের সম্বন্ধে, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তার সম্পর্ক, কিংবা বিশ্বমঞ্চে ভারতের ভূমিকা— যে বিষয়েই হোক, আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, নিরন্তর মতবিনিময় এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্কের মাধ্যমেই সমস্ত ভুল ধারণা দূর হবে, সমস্যার সমাধান হবে এবং সম্প্রীতির পরিবেশ সৃষ্টি হবে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ




 

 rajesh pande