‘সাত সাংসদের দলত্যাগে ‘এএপি’-তে সংকট গভীর, ভাজ্জির নিরাপত্তা ইস্যুতে বিতর্ক
চণ্ডীগড়, ২৬ এপ্রিল (হি.স.): পঞ্জাবে আম আদমি পার্টি (এএপি)-র অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ক্রমেই তীব্র আকার নিচ্ছে। দলের সাত রাজ্যসভার সাংসদের দলত্যাগ ও বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণার পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে নিরাপত্তা ও ক্ষমতার কেন্দ্
‘সাত সাংসদের দলত্যাগে ‘এএপি’-তে সংকট গভীর, ভাজ্জির নিরাপত্তা ইস্যুতে বিতর্ক


চণ্ডীগড়, ২৬ এপ্রিল (হি.স.): পঞ্জাবে আম আদমি পার্টি (এএপি)-র অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ক্রমেই তীব্র আকার নিচ্ছে। দলের সাত রাজ্যসভার সাংসদের দলত্যাগ ও বিজেপিতে যোগ দেওয়ার ঘোষণার পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এরই মধ্যে নিরাপত্তা ও ক্ষমতার কেন্দ্রকে ঘিরে টানাপোড়েন প্রকাশ্যে আসায় বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে। প্রাক্তন ক্রিকেটার তথা রাজ্যসভার সাংসদ হরভজন সিং ওরফে ভাজ্জির নিরাপত্তা ইস্যু এখন এই রাজনৈতিক সংঘাতের কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

পঞ্জাব সরকার হঠাৎই ভাজ্জিকে দেওয়া ‘ওয়াই’ ক্যাটাগরির নিরাপত্তা প্রত্যাহার করে নেয়। জালন্ধরে তাঁর বাসভবনে মোতায়েন থাকা পঞ্জাব পুলিশের জওয়ানদের তৎক্ষণাৎ ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তবে এই সিদ্ধান্তের পরপরই কেন্দ্র সরকার হস্তক্ষেপ করে তাঁকে সিআরপিএফ নিরাপত্তা দেয়। ফলে রাজ্য ও কেন্দ্রের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন স্পষ্ট হয়ে ওঠে। যদিও ভাজ্জি এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে দল ছাড়ার বা অন্য দলে যোগ দেওয়ার ঘোষণা করেননি, তবু তাঁর চলাফেরা নিয়ে জল্পনা বাড়ছে।

এদিকে, দলত্যাগী গোষ্ঠীর নেতৃত্বের দাবি করা রাঘব চাড্ডা জানিয়েছেন, সাত সাংসদ তাঁর সঙ্গে রয়েছেন। এর আগে তাঁর নিরাপত্তাও কমানো হয়েছিল, পরে কেন্দ্রীয় সুরক্ষা দেওয়া হয়। এই ঘটনাপ্রবাহে ‘এএপি’-এর ভিতরে বড় ভাঙনের ইঙ্গিত মিলছে।

এই প্রসঙ্গে রাজ্যসভার সাংসদ বিক্রমজিৎ সাহনি দাবি করেছেন, দলের প্রধান অরবিন্দ কেজরিওয়াল তাঁর কাছে পদত্যাগ চেয়েছিলেন। প্রথমে রাজি হলেও পরে পরামর্শদাতাদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনি সিদ্ধান্ত বদলান। সাহনি বলেন, পঞ্জাবের পরিস্থিতি ‘আইসিইউ’-এর মতো এবং রাজ্যকে বাঁচাতে কেন্দ্রের শক্তিশালী সহযোগিতা প্রয়োজন।

অন্যদিকে, দলে থাকা কিছু সাংসদ এই ভাঙনের বিরোধিতা করেছেন। সন্ত সিচেওয়াল জানান, রাঘব চাড্ডা তাঁকে ‘আজাদ গ্রুপ’ গঠনের বিষয়ে ১৬, ১৭ ও ১৮ এপ্রিল আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন, কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন। তাঁর মতে, দলের ভিতরে থেকেই পঞ্জাবের জন্য কাজ করাই সঠিক পথ।

পুরো ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী ভগবন্ত মান তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় বিদ্রোহী সাংসদদের কটাক্ষ করেন এবং রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করার সময় চেয়ে ‘রাইট টু রিকল’-এর আওতায় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতির কথা জানান।

এই পরিস্থিতিতে দলের কর্মীদের ক্ষোভও প্রকাশ্যে এসেছে। জালন্ধর, লুধিয়ানা ও ফগওয়াড়ায় দলত্যাগী সাংসদদের বাড়ির সামনে বিক্ষোভ হয়। কোথাও কোথাও ‘গদ্দার’ লিখে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। যদিও পুলিশ উপস্থিত ছিল, তেমন বড় কোনও পদক্ষেপ দেখা যায়নি।

সোশ্যাল মিডিয়াতেও এই রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহের প্রভাব পড়েছে। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর রাঘব চাড্ডার ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার প্রায় ১৪ লক্ষ কমেছে বলে জানা গিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি তরুণ ভোটারদের প্রতিক্রিয়া হতে পারে।

এদিকে, আম আদমি পার্টি রাজ্যসভার চেয়ারম্যান তথা উপরাষ্ট্রপতি সি.পি. রাধাকৃষ্ণনের কাছে আবেদন জানিয়েছে, দলত্যাগ করে বিজেপিতে যোগ দেওয়া সাত রাজ্যসভার সাংসদের সদস্যপদ বাতিলের দাবি জানিয়ে। রবিবার দলীয় নেতা সঞ্জয় সিং জানিয়েছেন, সাংবিধানিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে পরামর্শ করেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার সাত সাংসদের দলত্যাগের ঘোষণার পর থেকেই ‘এএপি’-এর রাজনৈতিক সংকট আরও গভীর হয়েছে। বিতর্কিত সাংসদদের মধ্যে রয়েছেন রাঘব চাড্ডা, সন্দীপ পাঠক, অশোক মিত্তল, হরভজন সিং, রাজিন্দর গুপ্ত, স্বাতী মালিওয়াল এবং বিক্রমজিৎ সাহনি। রাঘব চাড্ডার দাবি, দলের ভিতরে হতাশা ও অসন্তোষ থেকেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে সাহনি পঞ্জাবের ঋণসংকট, কৃষি সমস্যা ও মাদক ইস্যুকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

দলের তরফে দশম তফসিল বা অ্যান্টি-ডিফেকশন আইনের উল্লেখ করে সঞ্জয় সিং দাবি করেছেন, এই ধরনের দলবদল আইনত বৈধ নয় এবং এদের অযোগ্য ঘোষণা করা উচিত। যদিও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ মনে করছেন, যদি দুই-তৃতীয়াংশ সমর্থন থাকে, তাহলে দলভাঙা বৈধ হতে পারে। ফলে এই ইস্যুতে আইনি জটিলতাও তৈরি হয়েছে।

সঞ্জয় সিং আরও দাবি করেছেন, পঞ্জাবের বিধায়কদের সঙ্গে রাঘব চাড্ডার যোগাযোগের খবর সম্পূর্ণ ভুয়ো প্রচার। তাঁর অভিযোগ, বিজেপি-সহ বিরোধীরা বিভ্রান্তি ছড়াতে এই ধরনের তথ্য ছড়াচ্ছে। তিনি বলেন, পঞ্জাব জুড়ে জনগণের মধ্যে এই সাংসদদের বিরুদ্ধে ক্ষোভ রয়েছে এবং তাদের রাজনৈতিক অবস্থান দুর্বল হয়ে পড়েছে।

বর্তমানে ‘এএপি’-এর এই বড় ভাঙন পঞ্জাব তথা জাতীয় রাজনীতিতে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। আগামী দিনে এই ইস্যুতে আরও নতুন মোড় আসতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande