প্রয়াত প্রখ্যাত চিত্রসাংবাদিক রঘু রাই
সৌম্যজিৎ চক্রবর্তী নয়াদিল্লি, ২৬ এপ্রিল (হি.স.): ক্যামেরা কখনও নিরাশ করেনি তাঁকে। ক্যামেরা ছিল তাঁর জীবনচর্যায় অঙ্গাঙ্গী। লেন্স, ফোকাল লেন্থ, অ্যাপারচার, শাটার স্পিড... এসবই ছিল তাঁর দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গী। সেই ক্যামেরা থেকেই এবার থামলো ফ্ল্
প্রয়াত প্রখ্যাত চিত্রসাংবাদিক রঘু রাই


সৌম্যজিৎ চক্রবর্তী

নয়াদিল্লি, ২৬ এপ্রিল (হি.স.): ক্যামেরা কখনও নিরাশ করেনি তাঁকে। ক্যামেরা ছিল তাঁর জীবনচর্যায় অঙ্গাঙ্গী। লেন্স, ফোকাল লেন্থ, অ্যাপারচার, শাটার স্পিড... এসবই ছিল তাঁর দৈনন্দিন জীবনযাত্রার সঙ্গী। সেই ক্যামেরা থেকেই এবার থামলো ফ্ল্যাশের আলোর ঝলক। রবিবার ৮৩ বছর বয়সে প্রয়াত হলেন প্রখ্যাত চিত্রসাংবাদিক রঘু রাই। চিত্রসাংবাদিকতার জগত হারালো এক প্রকৃত অভিভাবককে। তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে রবিবার প্রয়াণের সংবাদটি নিশ্চিত করা হয়েছে। প্রয়াণকালে তিনি রেখে গেলেন স্ত্রী গুরমিত, পুত্র নীতিন এবং তিন কন্যা লগন, অবনী ও পূরবীকে।

নিজে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হলেও রঘু রাই পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন ছবি তোলাকে। তিনি বিশ্বাস করতেন, অতীতকে ক্যামেরাবন্দি করে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উপহার হিসেবে রেখে যাওয়াই একজন আলোকচিত্রীর প্রধান কাজ। তাঁর তোলা ছবি পেয়েছে বিশ্বজোড়া খ্যাতি। চিত্রসাংবাদিকতার দুনিয়ায় ছয় দশকেরও বেশি সময়ব্যাপী বর্ণাঢ্য এক কর্মজীবন রেখে গিয়েছেন রঘু রাই। ২৩ বছর বয়স থেকে তিনি ছবি তোলা শুরু করেন। দাদার হাত ধরে ক্যামেরায় তাঁর হাতেখড়ি। বহু স্মরণীয়, গুরুত্বপূর্ণ ছবি তুলেছেন তিনি। অতীতকে ক্যামেরায় বন্দি করে ভবিষ্যৎকে উপহার দেওয়াই ছিল তাঁর নেশা। সারা ভারত জুড়ে বহু গুরুত্বপূর্ণ ছবির সঙ্গে রঘুর নাম জড়িয়ে রয়েছে। ভারতের নানা প্রান্তে ঘুরে তিনি দেশের বৈচিত্র্য ও বাস্তবতা ছবির মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। চিত্রসাংবাদিক ও আলোকচিত্রীরা বলেন, রঘুর ছবিই নিজেই কথা বলে। তাঁকে আলাদা করে আর কিছু বলে দিতে হয় না। তাঁর সৃষ্টির গভীরতা বোঝাতে কোনও বাড়তি ব্যাখ্যার প্রয়োজন পড়ত না।

প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, ধর্মগুরু দালাই লামা, শিবসেনার প্রতিষ্ঠাতা বাল ঠাকরে এবং চলচ্চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের তোলা ছবির জন্য তিনি বিশেষভাবে পরিচিত। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বাইরে তার ক্যামেরায় উঠে এসেছে মাদার টেরেসার মতো ব্যক্তিত্বও। তাঁর তোলা ভোপালের গ্যাস বিপর্যয়ের কিছু ছবি স্মরণীয় হয়ে আছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ-সহ ওপার বাংলার অনেক ছবি রঘু রাই তুলেছিলেন। তাঁর তোলা তাজমহলের ছবিও জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। ১৯৭২ সালে পেয়েছিলেন পদ্মশ্রী পুরস্কারও।

১৮ ডিসেম্বর ১৯৪২ সালে অবিভক্ত পঞ্জাবের (অধুনা পাকিস্তানের) ঝাং এলাকায় জন্ম তাঁর। ২৩ বছর বয়সে দাদার কাছে ফটোগ্রাফি শিখতে শুরু করেন। যোগ দিয়েছিলেন ইংরেজি সংবাদপত্র দ্য স্টেটসম্যান-এ। হয়েছিলেন চিফ ফটোগ্রাফার। কাজের ক্ষেত্রে কলকাতার সঙ্গেও ছিল তাঁর যোগ। কলকাতা থেকে প্রকাশিত সানডে ম্যাগাজিনে তিনি পিকচার এডিটর ছিলেন। এরপরে ইন্ডিয়া টুডে ম্যাগাজিনেও কাজ করেন তিনি। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে আলোকচিত্রীদের সম্মানীয় ক্ষেত্র ম্যাগনাম ফটোতে তিনি মনোনীত হন। টাইম, লাইফ, জিও, দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, নিউজ উইক এবং দ্য সানডে টাইমস-সহ বিশ্বের বহু খ্যাতনামা সংবাদমাধ্যমে তাঁর ছবি স্থান পেয়েছে। তাঁর ক্যামেরায় ধরা পড়েছে বিভিন্ন মুহূর্ত। সেই ছবি যেন কথা বলে উঠেছে। বলা যায়, তাঁর ক্যামেরা এবং চোখ দিয়েই আধুনিক ভারতের সঙ্গে পরিচিত হয়েছে বিশ্ব।

তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রবিবার বিকেলে দিল্লির লোধি রোড শ্মশানে রঘু রাইয়ের শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ




 

 rajesh pande