
গ্যাংটক, ২৭ এপ্রিল (হি.স.): প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর দুই দিনের সিকিম সফরের সময় ‘সিকিম কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়’-এর স্থায়ী ক্যাম্পাসের উদ্বোধন করবেন। প্রায় ১৯ বছর পর বিশ্ববিদ্যালয়টি তার স্থায়ী ক্যাম্পাস পেতে চলেছে। এই স্থায়ী ক্যাম্পাসটি নামচি জেলার ইয়াংগাং এলাকায় অবস্থিত, যা গ্যাংটক থেকে প্রায় ৫৫ কিলোমিটার দূরে। সিকিমের লোকসভা সাংসদ ইন্দ্র হাং সুব্বা প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্যোগের জন্য আনন্দ প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি তিনি সিকিম ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (এসডিএফ)-এর পূর্বতন সরকারের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসের কাজের অবহেলা এবং তা অসম্পূর্ণ রাখার অভিযোগ তুলেছেন।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সোমবার দুপুরে সিকিমে পৌঁছাবেন এবং একটি রোড শো-তে অংশ নেবেন। সফরের দ্বিতীয় ও শেষ দিনে তিনি গ্যাংটকের পালজোর স্টেডিয়ামে সিকিম রাজ্য প্রতিষ্ঠার ৫০তম বর্ষপূর্তির সমাপনী অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। এই অনুষ্ঠানে তিনি ভাষণ দেবেন এবং সিকিম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস–সহ বিভিন্ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও শিলান্যাস করবেন। ক্ষমতাসীন সিকিম বিপ্লবী মোর্চার সাংসদ সুব্বা এদিন এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন যে, দীর্ঘ ১৯ বছরের অপেক্ষার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য এখন এক নতুন অধ্যায় শুরু হতে চলেছে।
তিনি জানান, ২০০৭ সালে এই বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপনের উদ্দেশ্য ছিল সিকিমের পাহাড়ি অঞ্চলে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে জ্ঞান ও অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া। আগামী ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে প্রধানমন্ত্রী ভার্চুয়াল মাধ্যমে এই স্থায়ী ক্যাম্পাসের উদ্বোধন করবেন।
সাংসদ সুব্বা পূর্বতন সরকারের সমালোচনা করে বলেন যে, দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাসের কাজ আটকে ছিল এবং তা অবহেলিত ও অসম্পূর্ণ পড়ে ছিল। প্রয়োজনীয় গুরুত্ব না পাওয়ায় বছরের পর বছর শিক্ষার্থীরা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়াশোনা করেছেন এবং প্রতিষ্ঠানটি তার নিজস্ব স্থায়ী ঠিকানা খুঁজে পায়নি।
তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন যে, এই ক্যাম্পাসের উদ্বোধনের মাধ্যমে এটি কেবল একটি ভবন নয়, বরং সত্য, উন্নয়ন ও আশার প্রতীকে পরিণত হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি কেন্দ্রে পরিণত হবে যেখানে সংস্কৃতি ও বিজ্ঞান, ঐতিহ্য ও আধুনিকতা এবং স্থানীয় পরিচয়ের সঙ্গে বিশ্বমানের উৎকর্ষের সমন্বয় ঘটবে।
উল্লেখ্য যে, ২০০৭ সালে সিকিম কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হলেও জমি অধিগ্রহণ, ক্ষতিপূরণ এবং অন্যান্য বিবাদের কারণে স্থায়ী ক্যাম্পাসের নির্মাণ কাজ দীর্ঘদিন ব্যাহত হয়েছিল। এতদিন পর্যন্ত গ্যাংটকের বিভিন্ন ভাড়া বাড়িতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজকর্ম পরিচালিত হতো। তবে বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু বিভাগ এই স্থায়ী ক্যাম্পাসে তাদের কাজ শুরু করে দিয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি