(রাউন্ড আপ) বুধবার রাজ্যে দ্বিতীয় দফার নির্বাচন, ভাগ্য নির্ধারণ হবে একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীর
কলকাতা, ২৭ এপ্রিল (হি.স.): রাজ্যে এবার দু’দফায় বিধানসভা ভোট। প্রথমটি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে ২৩ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফা হতে চলেছে ২৯ এপ্রিল। দু’দফায় মোট প্রার্থীর সংখ্যা ২৯২৬। ২৯৪টি আসনের প্রথম দফায় ভোট হয়েছে ১৫২টিতে। দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে ১৪২টি আসনে। ক
নির্বাচন


কলকাতা, ২৭ এপ্রিল (হি.স.): রাজ্যে এবার দু’দফায় বিধানসভা ভোট। প্রথমটি ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে ২৩ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফা হতে চলেছে ২৯ এপ্রিল। দু’দফায় মোট প্রার্থীর সংখ্যা ২৯২৬। ২৯৪টি আসনের প্রথম দফায় ভোট হয়েছে ১৫২টিতে। দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে ১৪২টি আসনে। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফায় ভোট হবে পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া, হুগলি, কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং নদিয়ায়। ফল ঘোষণা হবে ৪ মে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় দফার ভোটে ১৪২টি আসনের জন্য লড়ছেন ১৪৪৮ জন। মনোনয়ন জমা পড়েছিল ১৪৬৩টি। তার মধ্যে ১৫ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

তৃণমূল কংগ্রেস এবং কংগ্রেস সব আসনেই প্রার্থী দিয়েছে, অন্যদিকে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ১৪১টি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। সিপিএম প্রায় ১০০টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে।

এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত কলকাতার ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র। সেখানে তৃণমূল প্রাথী মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপি প্রার্থী শুভেন্দু অধিকারী। ২০২১ সালের নির্বাচনে নন্দীগ্রামে দুজন রাজনৈতিক ময়দানে মুখোমুখি হয়েছিলেন। তাতে শুভেন্দু অধিকারী জয়ী হন।

এই দফায় ৭টি জেলার মোট ৩,২১,৭৩,৮৩৭ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন, যার মধ্যে ১,৬৪,৩৫,৬২৭ জন পুরুষ ও ১,৫৭,৩৭,৪১৮ জন মহিলা ভোটার এবং ৭৯২ জন তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার রয়েছেন।

উল্লেখ্য, দ্বিতীয় দফার ভোটে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী লড়ছেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় বিধানসভা কেন্দ্রে। এই আসনে মোট প্রার্থীর সংখ্যা ১৯। সবচেয়ে কম প্রার্থী লড়ছেন হুগলির গোঘাট (এসসি) আসনে। সেখানে প্রার্থী সংখ্যা ৫।

দ্বিতীয় দফার ভোটে প্রার্থীর সংখ্যা

১৯ জন প্রার্থী রয়েছেন ভাঙড় কেন্দ্রে। ১৫ জন করে প্রার্থী নোয়াপাড়া, এন্টালি, হাওড়া মধ্য কেন্দ্রে, ১৪ জন করে প্রার্থী দেগঙ্গা, সোনারপুর দক্ষিণ, বেহালা পশ্চিম, কলকাতা বন্দর, কাশীপুর-বেলগাছিয়া, বালি, ডোমজুড় কেন্দ্রে। ১৩ জন করে প্রার্থী বাদুড়িয়া, হাবড়া, বিজপুর, জগদ্দল, রাজারহাট-নিউটাউন, রায়দিঘি, জয়নগর (এসসি), কসবা, যাদবপুর, সোনারপুর উত্তর, মানিকতলা, হাওড়া উত্তর, আমতা কেন্দ্রে। ১২ জন করে প্রার্থী কৃষ্ণগঞ্জ (এসসি), বনগাঁ উত্তর (এসসি), আমডাঙা, খড়দহ, রাজারহাট-গোপালপুর, বারাসত, মগরাহাট পশ্চিম, বেহালা পূর্ব, ভাবনীপুর, বালিগঞ্জ, জোড়াসাঁকো, শ্যামপুকুর, হাওড়া দক্ষিণ, শ্যামপুর, তারকেশ্বর কেন্দ্রে। ১১ জন করে প্রার্থী কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, রানাঘাট উত্তর-পূর্ব (এসসি), হরিণঘাটা (এসসি), বনগাঁ দক্ষিণ (এসসি), গাইঘাটা (এসসি), পানিহাটি, কামারহাটি, বসিরহাট দক্ষিণ, কাকদ্বীপ, মন্দিরবাজার (এসসি), বারুইপুর পূর্ব (এসসি), টালিগঞ্জ, মেটিয়াব্রুজ, চৌরঙ্গী, বেলেঘাটা, উলুবেড়িয়া পূর্ব, উলুবেড়িয়া দক্ষিণ, বাগনান, শ্রীরামপুর, চন্দননগর, হরিপাল কেন্দ্রে। ১০ জন করে প্রার্থী বাগদা (এসসি), বরাহনগর, বিধাননগর, মধ্যমগ্রাম, হাড়োয়া, বসিরহাট উত্তর, বারুইপুর পশ্চিম, ডায়মন্ড হারবার, মহেশতলা, শিবপুর, সাঁকরাইল (এসসি), চুঁচুড়া, জাঙ্গিপাড়া, ভাতার, কাটোয়া, কেতুগ্রাম কেন্দ্রে। ৯ জন করে প্রার্থী করিমপুর, পলাশিপাড়া, নাকাশিপাড়া, চাপড়া, অশোকনগর, নৈহাটি, ভাটপাড়া, ব্যারাকপুর, দমদম উত্তর, দমদম, হিঙ্গলগঞ্জ (এসসি), গোসাবা (এসসি), কুলতলি (এসসি), কুলপি, রাসবিহারী, উলুবেড়িয়া উত্তর (এসসি), উদয়নারায়ণপুর, চাঁপদানি, সিঙ্গুর, পান্ডুয়া, সপ্তগ্রাম, খানাকুল, বর্ধমান দক্ষিণ, বর্ধমান উত্তর (এসসি), মঙ্গলকোট কেন্দ্রে। ৮ জন করে প্রার্থী রানাঘাট দক্ষিণ (এসসি), স্বরূপনগর (এসসি), মিনাখাঁ (এসসি), সন্দেশখালি (এসটি), বাসন্তী (এসসি), ক্যানিং পশ্চিম (এসসি), ক্যানিং পূর্ব, মগরাহাট পূর্ব (এসসি), সাতগাছিয়া, বিষ্ণুপুর (এসসি), জগৎবল্লভপুর, চণ্ডীতলা, পুরশুড়া, রায়না (এসসি), জামালপুর (এসসি), মন্তেশ্বর, পূর্বস্থলী উত্তর, গলসি (এসসি) কেন্দ্রে। ৭ জন করে প্রার্থী কৃষ্ণনগর উত্তর, পাথরপ্রতিমা, সাগর, বজবজ, পাঁচলা, উত্তরপাড়া, বলাগড় (এসসি), ধনেখালি (এসসি), খণ্ডঘোষ (এসসি), কালনা (এসসি), মেমারি, পূর্বস্থলী দক্ষিণ কেন্দ্রে। ৬ জন করে প্রার্থী ফলতা, আরামবাগ (এসসি), আউশগ্রাম (এসসি) কেন্দ্রে। ৫ জন প্রার্থী গোঘাট (এসসি) কেন্দ্রে।

দ্বিতীয় দফার ভোটে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সংখ্যা

দ্বিতীয় দফার বিধানসভা নির্বাচনে মোট ২,৩২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করার কথা জানিয়েছে কমিশন। কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সবচেয়ে বেশি বাহিনী মোতায়েন করা হবে উত্তর ২৪ পরগনা জেলায়— মোট ৫০৭ কোম্পানি। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত পুলিশ জেলায় মোতায়েন করা হচ্ছে ১১২ কোম্পানি বাহিনী। বনগাঁ পুলিশ জেলায় মোতায়েন করা হচ্ছে ৬২ কোম্পানি বাহিনী। বসিরহাটে ১২৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে ভোটের দিন। বিধাননগরে ৫০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ব্যারাকপুরে থাকবে ১৬০ কোম্পানি।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবনে ১১৩ কোম্পানি, বারুইপুরে ১৬১, ডায়মন্ড হারবারে ১৩৫ কোম্পানি বাহিনী মোতায়েন করা হবে দ্বিতীয় দফার ভোটে। হাওড়া জেলার হাওড়া গ্রামীণ এলাকায় ১৪৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করছে কমিশন। হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় থাকবে ১১০ কোম্পানি। নদিয়ার কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলায় ১৫৮ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হবে বলে জানিয়েছে কমিশন। ওই জেলার রানাঘাট পুলিশ জেলায় থাকবে ১২৭ কোম্পানি। হুগলি জেলার চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ভোটের সময় দায়িত্বে থাকছে ৮৩ কোম্পানি বাহিনী। হুগলি গ্রামীণ পুলিশ জেলায় ভোট-দায়িত্ব সামলাবে ২৩৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। পূর্ব বর্ধমানে মোট ২৬০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে। পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটে মোট বুথের সংখ্যা ১৯৫টি। বাহিনী থাকবে ১৩ কোম্পানি। কলকাতায় ২৭৩ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রতিটি কোম্পানিতে অন্তত ৭২ জন করে জওয়ান থাকেন।

দ্বিতীয় দফার ভোটে বুথের সংখ্যা

বারাসত পুলিশ জেলায় ১৯৭৮টি, বনগাঁয় ১০২৮টি, বসিরহাটে ২০৫২টি, বিধাননগরে ৮৮৩টি, ব্যারাকপুরে ২৯২৮টি, সুন্দরবন পুলিশ জেলায় ১৭৯৮টি, বারুইপুরে ২৮২৫টি, ডায়মন্ড হারবারে ২৪৪১টি, হাওড়া গ্রামীণ পুলিশ জেলায় ২৪৩১টি, হাওড়া পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ২০৮৭টি, কৃষ্ণনগর পুলিশ জেলায় ২৮৪৪টি, রানাঘাট পুলিশ জেলায় ২২৯২টি, চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ১৫৬৮টি, হুগলি গ্রামীণ পুলিশ জেলায় ৪০৪১টি, পূর্ব বর্ধমানে ৪৪৬৫টি, আসানসোল দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেট এলাকায় ১৯৫টি, কলকাতায় ৫১৭২টি।

---------------

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌম্যজিৎ




 

 rajesh pande