পঞ্জাবে আইএসআই-সমর্থিত গুপ্তচরবৃত্তি চক্র ফাঁস, তিন অভিযুক্ত গ্রেফতার
জালন্ধর, ৩০ এপ্রিল (হি.স.): পঞ্জাবে আইএসআই-সমর্থিত দুই পৃথক গুপ্তচরবৃত্তি চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্তরা সংবেদনশীল সামরিক ঘাঁটির উপর নজরদারি চালিয়ে তার লাইভ ফুটেজ পাকিস্তানে বসে থাকা হ্যান্ডলারদের কাছে প
পঞ্জাবে আইএসআই-সমর্থিত গুপ্তচরবৃত্তি চক্র ফাঁস, তিন অভিযুক্ত গ্রেফতার


জালন্ধর, ৩০ এপ্রিল (হি.স.): পঞ্জাবে আইএসআই-সমর্থিত দুই পৃথক গুপ্তচরবৃত্তি চক্রের পর্দাফাঁস করল পুলিশ। এই ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযুক্তরা সংবেদনশীল সামরিক ঘাঁটির উপর নজরদারি চালিয়ে তার লাইভ ফুটেজ পাকিস্তানে বসে থাকা হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠাত বলে অভিযোগ।

বৃহস্পতিবার পঞ্জাব পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেল গৌরব যাদব জানান, এই চক্রগুলিতে উচ্চ প্রযুক্তির চিনা সিসি ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছিল। কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স জালন্ধর একটি অপারেটিভকে গ্রেফতার করে প্রথম চক্রের হদিশ পায়। তার কাছ থেকে ৪জি সংযোগযুক্ত চীনা সিসি ক্যামেরা এবং একটি সোলার প্যানেল উদ্ধার হয়েছে।

অন্যদিকে, কাপুরথলা পুলিশ একটি কেন্দ্রীয় সংস্থার সঙ্গে যৌথ অভিযানে আরও দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে। তাদের কাছ থেকে চারটি মোবাইল ফোন, একটি সিম-ভিত্তিক সিসি ক্যামেরা এবং একটি ওয়াই-ফাই সেট উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা বিভিন্ন স্থানে সোলার শক্তিচালিত ক্যামেরা বসিয়ে সেনা ছাউনি-সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানের উপর নজরদারি চালাত। এই ক্যামেরাগুলি মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি পাকিস্তানি হ্যান্ডলারদের কাছে লাইভ ফুটেজ পাঠাত। ৪জি নেটওয়ার্ক এবং সোলার পাওয়ার ব্যবহারের ফলে এগুলি দূরবর্তী এলাকাতেও সহজে বসানো যেত।

প্রথম অভিযানে ফিরোজপুর জেলার সাহাঙ্কে গ্রামের বাসিন্দা সুখবিন্দর সিং ওরফে সুখাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কাপুরথলা মডিউলে গ্রেফতারদের পরিচয় দোনা মট্টর এবং সন্দীপ সিং ওরফে সোনু হিসেবে জানা গেছে।

কাউন্টার ইন্টেলিজেন্সের এআইজি সিমরতপাল সিং ঢিন্ডসা জানান, জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে একটি সিম কার্ড ও সোলার প্যানেলসহ সিসি ক্যামেরা উদ্ধার হয়েছে। কাপুরথলার এসএসপি গৌরব তুরা জানান, সেনা ছাউনির কাছে নজরদারির খবর পেয়ে মডেল টাউনের একটি দোকানে তল্লাশি চালানো হয়। সেখানে খুঁটির উপর ক্যামেরা বসানোর জন্য দোকান ভাড়া নেওয়া হয়েছিল।

তদন্তে জানা গেছে, ‘ফৌজি’ নামে পাকিস্তানে থাকা এক হ্যান্ডলার ক্যামেরা বসানোর জন্য অভিযুক্তদের ৩৫ হাজার টাকা দিয়েছিল। এছাড়াও সন্দীপ সিং মাদক পাচার চক্রের সঙ্গেও যুক্ত ছিল এবং ড্রোনের মাধ্যমে পাঠানো এক কেজি হেরোইনের সরবরাহের জন্য ৫০ হাজার টাকা পেয়েছিল।

পুলিশ পৃথকভাবে দুটি মামলা দায়ের করেছে এবং এই চক্রের সঙ্গে যুক্ত আরও সদস্যদের খোঁজ চলছে। পুলিশের মতে, এই অভিযানে রাজ্যে সক্রিয় গুপ্তচরবৃত্তি ও পাচার চক্রে বড় ধাক্কা লেগেছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সৌমি বৈদ্য




 

 rajesh pande