অসমে নির্বাচনী সভায় আপত্তিকর, উস্কানিমূলক মন্তব্য, মল্লিকার্জুনের বিরুদ্ধে আরএসএস-এর একাধিক এফআইআর
গুয়াহাটি / শিলচর (অসম), ৭ এপ্রিল (হি.স.) : নির্বাচনী সমাবেশে আপত্তিকর, অবমাননাকর, উস্কানিমূলক সাম্প্রদায়িক সংবেদনশীল মন্তব্যের দায়ে সৰ্বভারতীয় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের করেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস
মল্লিকার্জুন খাড়গে (ফাইল ফটো)


গুয়াহাটি / শিলচর (অসম), ৭ এপ্রিল (হি.স.) : নির্বাচনী সমাবেশে আপত্তিকর, অবমাননাকর, উস্কানিমূলক সাম্প্রদায়িক সংবেদনশীল মন্তব্যের দায়ে সৰ্বভারতীয় কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বিরুদ্ধে একাধিক এফআইআর দায়ের করেছে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘ (আরএসএস)-এর অসম প্রান্ত।

আরএসএস-এর উত্তর অসম প্রান্তের কার্যবাহ (সাধারণ সম্পাদক) খগেন শইকিয়া গুয়াহাটির দিশপুর থানা এবং দক্ষিণ অসম প্রান্তের সংঘচলক (সভাপতি) জ্যোৎস্নাময় চক্ৰবৰ্তী শিলচর সদর থানায় মল্লিকার্জুন খাড়গের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নিয়ে এফআইআর দায়ের করেছেন।

সংঘের অভিযোগ, ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে দক্ষিণ অসমের অন্তৰ্গত দক্ষিণ করিমগঞ্জ নির্বাচন কেন্দ্রের নিলামবাজারে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনী জনসভায় আরএসএস এবং ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র মতাদর্শকে ‘বিষাক্ত সাপ’-এর সঙ্গে তুলনা করে তাদের নির্মূল করার ডাক দিয়েছেন। খাড়গে বলেছেন, ‘আপনি যদি নামাজ পড়ার সময় সামনে একটি বিষাক্ত সাপ দেখতে পান, তা-হলে প্রথমে নামাজ থামিয়ে সেই সাপটিকে মেরে ফেলতে হবে, কোরআন আপনাকে সেটাই করতে বলে। আমি বলছি, আরএসএস এবং বিজেপি সেই একই বিষাক্ত সাপের মতো, আপনি যদি সেই সাপটিকে নির্মূল না করেন, তা-হলে আপনি বাঁচতে পারবেন না।’

আরএসএস-এর অভিযোগ, এ ধরনের মন্তব্য অত্যন্ত উস্কানিমূলক এবং এটি আরএসএস ও বিজেপির কার্যকর্তা ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে শত্রুতা, ভয়ভীতি ও সহিংসতা উসকে দিতে পারে। একই সঙ্গে ধর্মীয় অনুভূতিকেও নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহার করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে সংঘ।

অভিযোগপত্রে দাবি করা হয়েছে, এই বক্তব্য ১৯৫১ সালের জন প্রতিনিধিত্ব আইনের ধারা ৮৩ অনুযায়ী দুর্নীতিমূলক নির্বাচনী আচরণের মধ্যে পড়ে। এছাড়াও অভিযোগ করা হয়েছে, এই মন্তব্য জনসাধারণকে ভয় দেখানো এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীর মধ্যে বিদ্বেষ ছড়ানোর শামিল। ‘বিষাক্ত’ বলে বর্ণনা করা এবং তা নির্মূল করার আহ্বান সংগঠনগুলির সদস্য ও সমর্থকদের বিরুদ্ধে শারীরিক ক্ষতির ইঙ্গিত বহন করতে পারে বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

এফআইআর-এ আরও বলা হয়েছে, এই মন্তব্য হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভাজন তৈরি করতে পারে, যা অসমে জনশৃঙ্খলা ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে পারে এবং নির্বাচনী পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে। অভিযোগে সতর্ক করা হয়েছে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের বক্তব্য সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বা সংঘর্ষের কারণ হতে পারে।

আরএসএস জোর দিয়ে বলেছে, গণতান্ত্রিক আলোচনাকে সংবিধান ও আইনের সীমার মধ্যে রাখতে হবে এবং নির্বাচনী প্রচারে এমন ভাষা ব্যবহার করা উচিত নয় যা সামাজিক সম্প্রীতি বা জনশান্তির জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande