
গুয়াহাটি, ৭ এপ্রিল (হি.স.) : আসন্ন ষোড়শ অসম বিধানসভা নির্বাচন আগামী ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার। বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠেয় ভোটের সরব নির্বাচনী প্রচার আজ মঙ্গলবার বিকাল ৫-টায় শেষ হয়েছে। তবে প্রার্থীরা আগামীকাল বুধবার বাড়ি-বাড়ি গিয়ে নীরব প্রচার চালাতে পারবেন।
এদিকে, আগামীকাল বুধবার ভোটকর্মীরা নিজেদের ভোটকেন্দ্রের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন। এজন্য নির্বাচন কমিশন সমস্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে। দূরবর্তী ভোটকেন্দ্র, বিশেষত পাহাড়ি জেলা ডিমা হাসাও এবং কাৰ্বি আংলং-এর বেশ কয়েকটি ভোটকেন্দ্রে কর্মীদের আজ মঙ্গলবারই পাঠানো হয়েছে, যাতে তাঁরা বুধবারের মধ্যে নিজ নিজ কেন্দ্রে পৌঁছতে পারেন।
আজ সরব প্রচারের শেষ দিন সমস্ত রাজনৈতিক দল এবং নির্দলীয় প্রার্থী ও নেতারা জোরদার প্রচারে অংশ নিয়েছেন। শাসকদল বিজেপির পক্ষে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আজ দক্ষিণ অসমের তিনটি জনসভায় ভাষণ দিয়েছেন। অন্যদিকে মুখ্যমন্ত্রী ড. হিমন্তবিশ্ব শৰ্মা মধ্য ও উজান অসমে প্রচার চালান। কংগ্রেসের প্রদেশ সভাপতি গৌরব গগৈ সহ অন্যান্য নেতারাও শেষ দিনের প্রচারে সর্বশক্তি প্রয়োগ করেছেন।
এবারের নির্বাচনে শেষ মুহূর্তে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে মুখ্যমন্ত্রীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রচারের সময় বক্তব্যের শালীনতা ভেঙে পড়ে। গত দুদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগে রাজনৈতিক পরিবেশ উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে।
নির্বাচন আচরণবিধি অনুযায়ী প্রচারের শেষ দিন সন্ধ্যা ৫-টায় সরব প্রচার বন্ধ হয়ে যায়। এর পর আর কোনও আনুষ্ঠানিক প্রচার চালানো যাবে না।
শাসক ও বিরোধী, উভয় পক্ষই ভোটারদের আকৃষ্ট করতে জোরদার প্রচার চালায়। বিজেপি টানা তৃতীয়বার ক্ষমতায় আসার লক্ষ্য নিয়ে ব্যাপক প্রচার করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, অমিত শাহ, জেপি নাড্ডা, রাজনাথ সিং, স্মৃতি ইরানি সহ বিজেপির শীর্ষ নেতারা বিভিন্ন সভায় অংশ নিয়ে দলের কৌশল তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী মোদী বরপেটা, হোজাই ও ডিব্রুগড়ে সভা করেছেন। এর আগে ১ এপ্রিল গোগামুখ ও বিহালিতে সভা করেছিলেন মোদী।
অন্যদিকে কংগ্রেসের তরফে রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদরা ও দলীয় সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে সহ শীর্ষ নেতারা প্রচারে অংশ নেন। সংখ্যালঘু ভোটারদের আকৃষ্ট করতে এআইএমআইএম-প্রধান আসাদুদ্দিন ওয়াইসিও এআইইউডিএফ-এর হয়ে প্রচার চালিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ষোড়শ অসম বিধানসভা নির্বাচনে মোট ৭২২ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে ৬৬৩ জন পুরুষ এবং ৫৯ জন মহিলা। কংগ্রেস ৯৯টি এবং বিজেপি ৯০টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে।
এছাড়া আম আদমি পার্টি ১৮, সিপিআই(এম) ২, অসম গণ পরিষদ ২৬, এআইইউডিএফ ৩০, বিপিএফ ১১, ইউপিপিএল ১৮, তৃণমূল কংগ্রেস ২২ সহ বিভিন্ন আঞ্চলিক দল প্রার্থী দিয়েছে। পাশাপাশি ২৫৮ জন নির্দল প্রার্থীও রয়েছে।
অসমের ১২৬টি বিধানসভা কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ২ কোটি ৫০ লক্ষ ২১ হাজার ৪১৩। এর মধ্যে পুরুষ ১ কোটি ২৫ লক্ষ ১৬ হাজার ৫৯১, মহিলা ১ কোটি ২৫ লক্ষ ৪ হাজার ৫০১ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৩২১ জন।
নতুন ১ লক্ষ ৬৪ হাজার ৪৮ জন ভোটার যুক্ত হয়েছেন এবং ১ লক্ষ ৭৭৪ জনের নাম বাদ পড়েছে। ১৮-১৯ বছর বয়সি ভোটার ৬ লক্ষ ২৮ হাজার ৯৩, ৮৫ বছরের বেশি ১ লক্ষ ২ হাজার ৪৭২ এবং ১০০ বছরের বেশি বয়সি ভোটার ২ হাজার ৪৮২ জন।
সবচেয়ে বেশি ভোটার রয়েছেন দলগাঁও কেন্দ্রে (৩ লক্ষ ১৭ হাজার ১১০) এবং সবচেয়ে কম আমরি কেন্দ্রে (১ লক্ষ ৪৯৪)। ভোটগ্রহণের জন্য রাজ্যে মোট ৩১,৪৮৬টি ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রায় ২০০ কোম্পানি নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় কড়া নজরদারি এবং সিসিটিভি ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে।
মোট ৩১,৪৮৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে গ্রামীণ এলাকায় ২৭,৭১১ এবং শহুরে এলাকায় ৩,৭৭৫টি। মহিলাদের দ্বারা পরিচালিত কেন্দ্র ৩,৭১৬টি এবং মডেল কেন্দ্র ১২৬টি। সব কেন্দ্রেই ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের নির্বাচনে বিজেপি নেতৃত্বাধীন জোট ৭৬টি আসন জিতেছিল, আর কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছিল ৪৯টি আসন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস