


- ‘পশ্চিমবঙ্গে সরকার গঠনের পথে বিজেপি, সেখানেও অসমের মতো রোধ করা হবে অনুপ্রবেশ’
- ‘প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে ভারতের কোনও ক্ষতি করতে পারবে না কেউ’
হাইলাকান্দি / শিলচর (অসম), ৭ এপ্রিল (হি.স.) : আগামী ৯ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় অসম বিধানসভা নির্বাচনের সরব প্রচারের আজ শেষ দিন বরাক উপত্যকার তিন জেলা যথাক্রমে শ্রীভূমির পাথারকান্দি, হাইলাকান্দি এবং কাছাড় জেলা সদর শিলচরে তিনটি ‘বিজয় সংকল্প সভা’ শীর্ষক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দিয়েছেন বিজেপির শীর্ষ নেতা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। শ্রীভূমি জেলার অন্তৰ্গত পাথারকান্দি নিৰ্বাচন কেন্দ্ৰের অধীন বাজারিছড়ার লালমাটিতে আজকের প্ৰথম নির্বাচনী সমাবেশে ভাষণ দিয়েছেন দলের কেন্দ্ৰীয় নেতা। এর পর হাইলাকান্দি এবং শিলচরে বিশাল সমাবেশে ভাষণ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। পাথারকান্দিতে বিজেপি-প্রার্থী কৃষ্ণেন্দু পাল, হাইলাকান্দিতে ড. মিলন দাস এবং শিলচরে ডা. রাজদীপ রায়, উদারবন্দ আসনে দলীয় প্রার্থী রাজদীপ গোয়ালা সহ জেলার অন্য আসনে এনডিএ প্রার্থীদের সমর্থনে নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নেন তিনি।
পাথারকান্দির পর হাইলাকান্দি এবং শিলচর, দুটি সমাবেশে শাহ বলেন, জনসভায় বিপুল সংখ্যায় উপস্থিত হওয়ায় আমি ভাই-বোনদের প্রতি মাথা নত করছি। জনসাধারণের ভালোবাসাই আমাদের শক্তি। সীমান্ত সুরক্ষা, উন্নয়ন এবং অসমকে অগ্রগতির এক উদাহরণ হিসেবে গড়ে তোলার জন্য বিজেপি দৃঢ় পদক্ষেপ অব্যাহত রাখার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
তিনি বলেন, অসমে বিজেপি সরকার মাদ্রাসাগুলিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রূপান্তর করেছে, এখন অভিন্ন দেওয়ানি বিধি (ইউসিসি) বলবৎ করে বহুবিবাহে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে।
অমিত শাহ বলেন, প্রথম পাঁচ বছরে বিজেপি জোট সরকার অসমে অনুপ্রবেশ রোধ করেছে। দ্বিতীয় পাঁচ বছরে অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করেছে এবং তৃতীয়বার তাদের বাছাই করে বের করে দেওয়া হবে।
অসম ও ত্রিপুরায় বিজেপি সরকার গঠনের সঙ্গে সঙ্গেই অনুপ্রবেশ বন্ধ হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপি সরকার গঠনের পথে এগোচ্ছে, সেখানেও অনুপ্রবেশ রোধ করা হবে।
জনসভাগুলিতে ভাষণ দিতে গিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারতের কোনও ক্ষতি কেউ করতে পারবে না। ভারত এখন শক্তিধর দেশ।
অসম সম্পর্কে বলেনস বিজেপি সরকারের আমলে রাজ্যে উন্নয়নমূলক কাজ নতুন গতি পেয়েছে। তিনি বলেন, অসমকে দেশের অন্যান্য উন্নত রাজ্যের মতো এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে এবং আগামী পাঁচ বছরে এই রাজ্যকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিজেপি সরকার ভূমি পাট্টা বিতরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়েছে। শ্রীভূমিতে একটি মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, রাজ্যের সার্বিক উন্নয়নের জন্য ভবিষ্যতে আরও বহু পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
শিলচরের উন্নয়নের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে অমিত শাহ বলেন, গুয়াহাটির সঙ্গে দূরত্বের কথা বিবেচনা করে শিলচরকে একটি প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হবে, যাতে সাধারণ মানুষকে কাজের জন্য গুয়াহাটি যেতে না হয়। এছাড়া, কৃষকদের জন্য বিভিন্ন সুবিধা ও প্রকল্প বাস্তবায়নের কথাও জানিয়েছেন অমিত শাহ।
শাহ বলেন, উগ্ৰপন্থী সংগঠনগুলোর সঙ্গে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর এবং অবৈধ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে বিজেপি সরকার অসমকে ভয়ের পরিবেশ থেকে মুক্ত করেছে। অসমকে একটি সম্পূর্ণ বিকশিত রাজ্যে পরিণত করতে জনগণ রেকর্ড সংখ্যক সমর্থন দিয়ে বিজেপিকে আশীর্বাদ করতে প্রস্তুত।
দলের সর্বভারতীয় শীর্ষ নেতা বলেন, বিজেপি সরকারের ১০ বছরের শাসন অসমকে বিশ্বমানের অবকাঠামো ও আকর্ষণীয় সুযোগের ক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়েছে। অনুপ্রবেশ ও সহিংসতা এখন অতীতের বিষয়। পুনরায় বিজেপিকে নির্বাচিত করে দেশের বাকি অংশের সঙ্গে উন্নয়নের যাত্রায় অংশীদার হতে জনগণ মুখিয়ে, দাবি অমিতের।
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার ভোটার তালিকা থেকে কথিত ‘অনুপ্রবেশকারী’দের নাম বাদ দেওয়ার জন্য পদক্ষেপ নিচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, অবৈধ অভিবাসন মোকাবিলার উদ্যোগের বিরোধিতা করছে বিরোধী নেতারা।
তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর সমালোচনা করে বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপের বিরোধিতা তাঁরা রাজনৈতিক স্বার্থে করছেন।
নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-কে কেন্দ্র করে চলমান বিতর্কের কথাও উল্লেখ করেন অমিত। বলেন, কিছু বিরোধী নেতা আগে শরণার্থী সম্প্রদায়, বিশেষ করে বাঙালি হিন্দুদের নাগরিকত্ব দেওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন, কিন্তু এখন ভোটের স্বার্থে নথিহীন অভিবাসীদের সমর্থন করছেন।
তিনি বলেন, তাঁরা সিএএ-র বিরোধিতা করছেন। বাঙালি শরণার্থী ভাই-বোনদের অধিকার দেওয়ার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন। এখন আবার অনুপ্রবেশকারীদের স্বাগত জানাচ্ছেন। এর মূল কারণ তাঁরা তাঁদের ভোটব্যাংক হিসেবে দেখছেন।
বিজেপি-র অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার আইন অনুযায়ী অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করে বহিষ্কার করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে। তিনি বলেন, জাতীয় নিরাপত্তা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সততা রক্ষার জন্য এই পদক্ষেপগুলি প্রয়োজনীয়।
অন্যদিকে, বিরোধী দলগুলো ধারাবাহিকভাবে বিজেপির এই অবস্থানের সমালোচনা করে আসছে। তাদের অভিযোগ, এর ফলে নির্দিষ্ট কিছু সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা হতে পারে। এতে যথাযথ প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস