
কলকাতা, ৭ এপ্রিল (হি.স.): চল্লিশোর্ধদের ফি বছর নির্দিষ্ট পরীক্ষা করাতে বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবসে নিদান দিলেন সমাজসেবী পদ্মশ্রী প্রাপ্ত চিকিৎসক
অরুণোদয় মন্ডল। খাদ্যাভাসের পরিবর্তন এবং শরীরচর্চার ওপরেও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার তিনি সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “আজ বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস। এবারের ভাবনা Together for health, stand with science. অর্থাৎ বিজ্ঞানের হাত ধরে এগোতে হবে সুস্বাস্থ্যের পথে। স্বাস্থ্য শুধুমাত্র absence of disease নয়, physical, mental and social well being.
তাই প্রতিটি মানুষকে ৪০ বছর পেরোলে HB% , সুগার, Lipid profile, Liver function test এবং renal function test বছরে অন্তত একবার করে পরীক্ষা করা উচিত। সঙ্গে USG, whole abdomen, মহিলাদের ক্ষেত্রে Mamogram and Cervical Paps Smear এবং পুরুষদের ক্ষেত্রে ৫০ বছরের উর্ধ্বে অবশ্যই PSA করানো উচিত।
খাদ্যাভাসের পরিবর্তন অবশ্যই করতে হবে, Balanced diet, পরিমিত জলসেবন, বিশ্রাম, রেগুলার হাটা বা কায়িক পরিশ্রম করা এবং অবশ্যই positive thinking to the society. বর্তমানে ক্রমবর্ধমান কোলন ক্যান্সারের কথা মাথায় রেখে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোও জরুরি।”
প্রসঙ্গত, ‘সুজন' নামে এক সমাজসেবী সংগঠনের প্রাণপুরুষ অরুণোদয়বাবু সম্প্রতি জানিয়েছেন, “ বর্তমানে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে মোট ৫টি কেন্দ্রে নিয়মিত কাজ চলছে। নিজের পারিবারিক সমস্যা কাটিয়ে ২৬ বছর ধরে কাজ করে এসেছি এবং আগামী দিনেও কাজ করব বলে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ২০২০ সালে ভারত সরকার অন্যান্য অনেকের সাথে আমাকেও 'পদ্মশ্রী' সম্মানে সম্মানিত করেন।
পদ্মশ্রী পাওয়ার জন্য আমরা কাজ করি না । আমাদের সকাল শুরু হয় ভোর ৩:৩০ টা থেকে - শীত গ্রীষ্ম, বর্ষা একই রুটিন, প্রতিটি কেন্দ্রে শতাধিক রোগীদের যত্ন সহযোগে দেখে সমস্ত ঔষধ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে দিয়ে চিকিৎসা করা হয়। না দেখলে বা না জানলে বোঝা যাবে না, কি অসম্ভব পরিশ্রমের ও দায়িত্বপূর্ণ কাজ। ভোর ৪:০০ টায় বঙ্গোপসাগরের মোহনা দিয়ে এক ঘন্টার যন্ত্র চালিত নৌকাযাত্রায় কুমীরমারি পৌঁছাই। চারিদিকে নিকষ কালো অন্ধকার, চারিদিকে দিগন্ত বিস্তৃত জলরাশি, প্রকৃতির নিস্তব্ধতা ভেদ করে যখন আমাদের ছোট নৌকা এগিয়ে চলে সত্যিই বড়ো অসহায় মনে হয়, কিন্তু যে শতাধিক মানুষ ঝড় জল বৃষ্টি উপেক্ষা করে রাত একটা থেকে আমার অপেক্ষায় রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে তাদের কথা ভেবে বুকে সাহস সঞ্চার করে এগিয়ে যাই।
we shall overcome, আমরা করবো জয়... নিশ্চয়ই। স্থানীয় পঞ্চায়েতও হয়তো উপরতলার নির্দেশে বিরত থাকে কোনরকম সাহায্য করা থেকে । তবুও আমাদের কাজ করতে হয় সামাজিক দায়বদ্ধতার তাগিদে। কোন কিছু পাওয়ার আশায় নয়। এভাবেই হয়তো বাকি জীবনটাই কাটিয়ে দেবো প্রান্তিক অসহায় দরিদ্র মানুষের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়ে।”
---------------
হিন্দুস্থান সমাচার / মৌসুমী সেনগুপ্ত