প্রাক্তন বিধায়ক পরিমল সাহার মৃত্যুবার্ষিকীতে বিশালগড়ে কংগ্রেস ভবন পুনরুদ্ধার
বিশালগড় (ত্রিপুরা), ৭ এপ্রিল (হি.স.) : সিপাহীজলা জেলার চড়িলাম বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক পরিমল সাহার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার বিশালগড়ে পুনরুদ্ধার করা হল বহুদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা কংগ্রেস ভবন। প্রায় আট বছর পর এই কার্যা
বিশালগড় কংগ্রেস ভবন


বিশালগড় (ত্রিপুরা), ৭ এপ্রিল (হি.স.) : সিপাহীজলা জেলার চড়িলাম বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন বিধায়ক পরিমল সাহার মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে মঙ্গলবার বিশালগড়ে পুনরুদ্ধার করা হল বহুদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা কংগ্রেস ভবন। প্রায় আট বছর পর এই কার্যালয় পুনরায় সক্রিয় হওয়ায় কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উৎসাহ ও আবেগের সঞ্চার হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০১৮ সাল থেকে বিশালগড়ের অফিসটিলা এলাকায় অবস্থিত কংগ্রেস ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল। একাধিকবার দুষ্কৃতীরা ভবনটিতে আগুন লাগায় এবং ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়। ফলে দীর্ঘদিন ধরে এটি কার্যত অচল হয়ে ছিল। অবশেষে স্থানীয় কংগ্রেস নেতৃত্বের উদ্যোগে, বিশেষ করে নিগমানন্দ গোস্বামীর নেতৃত্বে ভবনটি পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।

মঙ্গলবার সকালে কংগ্রেস ভবনের সামনে প্রয়াত বিধায়ক পরিমল সাহার প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলীয় নেতা-কর্মীরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কংগ্রেস নেতা নিগমানন্দ গোস্বামী, জেলা কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক আরাফাত ইকবাল, যুব কংগ্রেস লিগ্যাল সেলের ইনচার্জ এরশাদ মিয়া, স্থানীয় নেতা শান্তি ভট্টাচার্যসহ অন্যান্যরা।

১৯৮৩ সালের বিধানসভা নির্বাচনে চড়িলাম কেন্দ্র থেকে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছিলেন যুব কংগ্রেসের লড়াকু নেতা পরিমল সাহা। তবে একই বছরের ৭ এপ্রিল তৎকালীন রাজনৈতিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে প্রকাশ্য দিবালোকে তাঁকে এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ সহকর্মী জিতেন্দ্র সাহাকে নৃশংসভাবে খুন করা হয়। এই ঘটনায় তৎকালীন সময়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছিল।

মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে কংগ্রেস ভবন পুনরুদ্ধারের মধ্য দিয়ে প্রয়াত নেতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। নিগমানন্দ গোস্বামী জানান, “পরিমল সাহা বিশ্বাস করতেন, মানুষের কাছে নত হয়ে থাকলেই প্রকৃত নেতা হওয়া যায়। তাঁর সেই আদর্শকে সামনে রেখেই আমরা আগামী দিনে এগিয়ে চলব।”

এদিন কর্মসূচির অংশ হিসেবে কংগ্রেস ভবন থেকে একটি মৌন মিছিল বের করা হয়। মিছিলটি প্রয়াত বিধায়কের সমাধিস্থল পর্যন্ত গিয়ে শেষ হয়। সেখানে পুনরায় পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।

কংগ্রেস নেতৃত্বের মতে, এই পুনরুদ্ধার শুধুমাত্র একটি কার্যালয়ের পুনর্জাগরণ নয়, বরং সংগঠনের পুনরুত্থানের প্রতীক হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande