পাট্টা না মেলায় ক্ষোভ, বাঁকুড়া-পশ্চিম বর্ধমানে মতুয়া ভোটে সমীকরণে চাপ
দুর্গাপুর, ৮ এপ্রিল (হি.স.) : ভোট আসে, ভোট যায়—কিন্তু উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি শুনেই ক্লান্ত, বাস্তবে মেলেনি বসত ও চাষের জমির পাট্টা। এই অভিযোগকে সামনে রেখে বাঁকুড়া ও পশ্চিম বর্ধমান জেলায় ক্ষোভে ফুঁসছে মতুয়া সম্প্রদায়ের একাংশ। নির্বাচনের মুখে এই
পাট্টা না মেলায় ক্ষোভ, বাঁকুড়া-পশ্চিম বর্ধমানে মতুয়া ভোটে সমীকরণে চাপ


দুর্গাপুর, ৮ এপ্রিল (হি.স.) : ভোট আসে, ভোট যায়—কিন্তু উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি শুনেই ক্লান্ত, বাস্তবে মেলেনি বসত ও চাষের জমির পাট্টা। এই অভিযোগকে সামনে রেখে বাঁকুড়া ও পশ্চিম বর্ধমান জেলায় ক্ষোভে ফুঁসছে মতুয়া সম্প্রদায়ের একাংশ। নির্বাচনের মুখে এই অসন্তোষ ঘিরে রাজনৈতিক মহলেও বাড়ছে জল্পনা।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বসবাস করলেও বহু মতুয়া পরিবারের হাতে এখনও জমির পাট্টা পৌঁছায়নি। অভিযোগ, পঞ্চায়েত নির্বাচনে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তালিকায় মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বও যথাযথভাবে হয়নি। ফলে বঞ্চনার ক্ষোভ আরও তীব্র হয়েছে।

পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুর, সালানপুর ও কাঁকসা এলাকায় প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি মতুয়া পরিবার বসবাস করে। রায়ডাঙা, আশীষনগর, ধোবিঘাট, কাঁকসা-সহ একাধিক এলাকায় জমির অধিকার ও মৌলিক পরিষেবার অভাব নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাসিন্দারা। একইভাবে বাঁকুড়ার সোনামুখী, বড়জোড়া, ইন্দাস, কোতুলপুর-সহ বিভিন্ন ব্লকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মতুয়া ভোটার রয়েছেন।

উদ্বাস্তু নমশূদ্র সংগঠনের একাংশের অভিযোগ, ভোটের সময় প্রতিশ্রুতি মিললেও বাস্তবে উন্নয়ন বা জমির অধিকার মেলেনি। সংগঠনের প্রতিনিধি স্বপন গোঁসাই বলেন, “৪০ বছরের বেশি সময় ধরে বসবাস করলেও বহু পরিবার এখনও পাট্টা পায়নি। এসআইআর প্রক্রিয়ায় অনেকের নাম বাদ যাওয়ায় উদ্বেগ বাড়ছে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাজ্যের একাধিক বিধানসভা কেন্দ্রে মতুয়া ভোটাররা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন। তাই এই ক্ষোভ ভোটের ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে বিজেপির অভিযোগ, তৃণমূল সরকার মতুয়াদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করেছে। বিজেপি নেতা কৃষ্ণ মাল বলেন, “নাগরিকত্ব ও পাট্টা—দুই ক্ষেত্রেই শুধু প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, বাস্তবে কাজ হয়নি।” যদিও তৃণমূল ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, ইতিমধ্যেই বহু জায়গায় জমি চিহ্নিতকরণ ও কলোনি তৈরির কাজ এগিয়েছে। নির্বাচনের মুখে এই বঞ্চনা ও ক্ষোভের আবহে মতুয়া ভোট কোনদিকে যাবে, তা নিয়ে এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা




 

 rajesh pande