বর্ষার মরশুমে শ্রীভূমিতে হেপাটাইটিস ও জলবাহিত রোগ প্রতিরোধে সতর্কতা জারি
শ্রীভূমি (অসম) ১৩ মে (হি.স.) : বর্ষার মরশুমে সম্ভাব্য জলবাহিত রোগ ও ভাইরাল হেপাটাইটিস সংক্রমণ রোধে সতর্কতামূলক নির্দেশিকা জারি করেছে এনএইচএম-এর শ্রীভূমি জেলা ইউনিট এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ। জেলা জুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির
বর্ষার মরশুমে শ্রীভূমিতে হেপাটাইটিস ও জলবাহিত রোগ প্রতিরোধে সতর্কতা জারি


শ্রীভূমি (অসম) ১৩ মে (হি.স.) : বর্ষার মরশুমে সম্ভাব্য জলবাহিত রোগ ও ভাইরাল হেপাটাইটিস সংক্রমণ রোধে সতর্কতামূলক নির্দেশিকা জারি করেছে এনএইচএম-এর শ্রীভূমি জেলা ইউনিট এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ। জেলা জুড়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রকাশিত এই নির্দেশিকায় ভাইরাল হেপাটাইটিস (এ ও ই), ডায়ারিয়া, কলেরা, টাইফয়েড ও আমাশয়ের মতো রোগের ঝুঁকি সম্পর্কে বিশেষভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য সমিতির পক্ষ থেকে এক নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, বর্ষাকালে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার দরুন পানীয় জলের উৎস দূষিত হয়ে পড়ে এবং পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার অবনতি ঘটে। এর ফলে সংক্রামক ও জলবাহিত রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। এই পরিস্থিতিতে সকল নাগরিককে নিরাপদ পানীয় জল ব্যবহার, খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং ব্যক্তিগত ও পরিবেশগত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র ফোটানো বা নির্ভরযোগ্যভাবে পরিশোধিত জল পান করতে হবে। যেখানে নিরাপদ পানীয় জলের সরবরাহ অনিশ্চিত, সেখানে ক্লোরিন ট্যাবলেট ব্যবহার এবং পরিষ্কার ও ঢাকনাযুক্ত পাত্রে জল সংরক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি খোলা বা অনিরাপদ উৎসের জল ব্যবহার না করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

খাদ্য নিরাপত্তা সম্পর্কিত নির্দেশনায় খোলা জায়গার খাবার, বাসি খাদ্য ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রস্তুত খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সদ্য প্রস্তুত গরম খাবার খাওয়া, ফলমূল ও শাকসবজি ভালোভাবে ধুয়ে ব্যবহার করা এবং রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার উপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য বিভাগ ভাইরাল হেপাটাইটিসকে বর্ষাকালীন একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করেছে। জন্ডিস, বমিভাব, দুর্বলতা এবং গাঢ় রঙের প্রস্রাবের মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবিলম্বে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে নিজস্বভাবে ঔষধ গ্রহণ থেকে বিরত থাকারও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, হেপাটাইটিস এ ও ই সাধারণত দূষিত খাদ্য ও পানীয় জলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং বন্যা বা জলাবদ্ধতার সময় সংক্রমণের আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।

ডায়ারিয়া, বমি, জ্বর বা শরীরে জলশূন্যতার লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত নিকটবর্তী সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ডায়ারিয়ার ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে ওআরএস সেবন শুরু করা, শিশুদের নিয়মিত খাবার চালিয়ে যাওয়া এবং স্বাস্থ্যকর্মীর পরামর্শ অনুযায়ী জিংক সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্দেশিকায় ব্যক্তিগত সতর্কতার পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনও এলাকায় একাধিক ব্যক্তি একই ধরনের উপসর্গে আক্রান্ত হলে দ্রুত স্থানীয় আশা বা এএনএম কর্মীদের জানাতে বলা হয়েছে, যাতে প্রাথমিক পর্যায়েই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়।

এছাড়াও শৌচালয় ব্যবহার নিশ্চিত করা, উন্মুক্ত স্থানে মলত্যাগ পরিহার, জলাবদ্ধতা রোধ এবং সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো মৌলিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার উপর পুনরায় জোর দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

জেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের বক্তব্য, ‘নিরাপদ জল, স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং সঠিক স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণই বর্ষাকালীন রোগ প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়।’ এই সচেতনতা প্রতিটি পরিবার ও সমাজের স্তরে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি।

হিন্দুস্থান সমাচার / স্নিগ্ধা দাস




 

 rajesh pande