উদয়পুরে মাতাবাড়িতে পূজা দিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ও উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক
আগরতলা, ১৩ মে (হি.স.) : আধ্যাত্মিক ভক্তি, রাজনৈতিক সৌহার্দ্য এবং উন্নত ভারতের প্রত্যয়ের বার্তা নিয়ে বুধবার ত্রিপুরায় এলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এবং উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক। তাঁদের মূল উদ্দেশ্য ছিল উদয়পুরের ঐতিহ্যবাহী
মাতাবাড়িতে রেখা গুপ্তা


আগরতলা, ১৩ মে (হি.স.) : আধ্যাত্মিক ভক্তি, রাজনৈতিক সৌহার্দ্য এবং উন্নত ভারতের প্রত্যয়ের বার্তা নিয়ে বুধবার ত্রিপুরায় এলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এবং উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক। তাঁদের মূল উদ্দেশ্য ছিল উদয়পুরের ঐতিহ্যবাহী মাতা ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দিরে পূজা অর্চনা করে দেশ ও রাজ্যের সার্বিক উন্নতির জন্য প্রার্থনা জানানো।

বুধবার দুপুরে মহারাজা বীর বিক্রম বিমানবন্দরে পৌঁছালে তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডাঃ) মানিক সাহা এবং প্রদেশ বিজেপি সভাপতি তথা রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য। ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানানোর পাশাপাশি বিমানবন্দরে উপস্থিত অসংখ্য বিজেপি কর্মী-সমর্থক করতালি ও স্লোগানে দুই অতিথিকে অভিনন্দিত করেন। আন্তরিক এই অভ্যর্থনায় আপ্লুত হয়ে পড়েন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী ও উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী।

এই সফরের পেছনে রয়েছে এক বিশেষ আমন্ত্রণ। মঙ্গলবার গুয়াহাটিতে অনুষ্ঠিত বিজেপি সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দেশের বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী, উপমুখ্যমন্ত্রী ও শীর্ষ নেতারা। সেখানে ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ সাহা ব্যক্তিগতভাবে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এবং উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠককে ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দিরে দর্শনের আমন্ত্রণ জানান। সেই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েই তাঁদের এই ত্রিপুরা সফর।

বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা বলেন, তিনি মা ত্রিপুরাসুন্দরীর আশীর্বাদ নিতে এসেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ‘বিকশিত ভারত’ এবং ‘বিকশিত ত্রিপুরা’ গড়ার যে সংকল্প নেওয়া হয়েছে, তা যেন দ্রুত বাস্তবায়িত হয়—সেই প্রার্থনাই তিনি দেবীর কাছে জানাবেন। পাশাপাশি, উপস্থিত বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের ভালোবাসা ও উচ্ছ্বাসের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক জানান, ত্রিপুরা যেন খুব শীঘ্রই দেশের অগ্রণী রাজ্যগুলোর কাতারে স্থান করে নিতে পারে এবং বিকশিত ভারতের লক্ষ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে—সেই কামনাই তিনি মা ত্রিপুরেশ্বরীর চরণে নিবেদন করবেন।

জানা গেছে, বিমানবন্দর থেকে সরাসরি উদয়পুরে অবস্থিত ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দিরে যান দুই অতিথি। সেখানে বিশেষ পূজা ও প্রার্থনা শেষে তাঁরা আগরতলায় ফিরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেবেন। এরপর বিকেলেই দিল্লির উদ্দেশে ত্রিপুরা ত্যাগ করার কথা রয়েছে তাঁদের।

রাজনৈতিক ব্যস্ততার মাঝেও ধর্মীয় অনুরাগ ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি এই সফর বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে বলে মনে করা হচ্ছে। দেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতার মাতা ত্রিপুরাসুন্দরী মন্দির দর্শন ত্রিপুরার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক গুরুত্বকে নতুন করে জাতীয় পরিসরে তুলে ধরল।

উদয়পুর সংযোজন : বুধবার দুপুরে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা ও উত্তরপ্রদেশের উপ মুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক ৫১ পীঠের অন্যতম পীঠস্থান মাতা ত্রিপুরাসুন্দরী মায়ের মন্দিরে পূজা দিতে আসেন। মায়ের মন্দিরে আসা মাত্র গোমতী জেলার জেলা শাসক রিঙ্কু লাথের ও গোমতী জেলার পুলিশ সুপার ডাঃ কিরন কুমার কে তাঁদের ফুলের তোড়া দিয়ে স্বাগত জানান। তারপর তাঁরা মায়ের মন্দিরে গিয়ে পূজা দেন। মায়ের মন্দিরে পূজো দিয়ে মন্দিরের শিব মন্দিরেও পূজা দেন।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande