বর্ষাকালীন সুরক্ষার লক্ষ্যে অ্যাডভান্সড ওয়েদার মনিটরিং সিস্টেম চালু এনএফ রেলের
গুয়াহাটি, ১৩ মে (হি.স.) : বর্ষাকালে রেলওয়ে সুরক্ষা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি মজবুত করার লক্ষ্যে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে বিপজ্জনক স্থানগুলোতে অটোমেটিক ওয়েদার স্টেশন স্থাপনের কাজ শুরু করেছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো নির্ভুল ও রিয়েল-টাইম ওয়েদার
এনএফ রেলের অ্যাডভান্সড ওয়েদার মনিটরিং সিস্টেম


গুয়াহাটি, ১৩ মে (হি.স.) : বর্ষাকালে রেলওয়ে সুরক্ষা ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রস্তুতি মজবুত করার লক্ষ্যে উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ে বিপজ্জনক স্থানগুলোতে অটোমেটিক ওয়েদার স্টেশন স্থাপনের কাজ শুরু করেছে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো নির্ভুল ও রিয়েল-টাইম ওয়েদার পূর্বাভাস নিশ্চিত করা, যা বন্যা, ভূমিধস এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে যথাসময়ে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হয়।

আজ বুধবার এক প্রেস বার্তায় উত্তরপূর্ব সীমান্ত রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক কপিঞ্জল কিশোর শর্মা এ খবর দিয়ে জানান, এনএফ রেলের অধীনে কৌশলগতভাবে চিহ্নিত বিপজ্জনক স্থানগুলোতে মোট নয়টি অটোমেটিক ওয়েদার স্টেশন স্থাপন করা হচ্ছে। এই স্থানগুলোর মধ্যে অসমের লামডিং-বদরপুর হিল সেকশন, মিজোরামের সঙ্গে সংযোগকারী কাটাখাল–সাইরাং সেকশন এবং মণিপুরের জিরিবাম-খংসাং সেকশন রয়েছে। বর্ষাকালে এই স্থানগুলো ভারী বৃষ্টিপাত, বন্যা এবং ভূমিধসের জন্য বিশেষভাবে বিপজ্জনক। তাই নিরাপদ ট্রেন চলাচলের স্বার্থে আবহাওয়ার নিরবচ্ছিন্ন পর্যবেক্ষণ অপরিহার্য।

তিনি জানান, এখন পর্যন্ত তিনটি অটোমেটিক ওয়েদার স্টেশন সফলভাবে স্থাপন করা হয়েছে। বাকি ছয়টি বর্তমানে স্থাপনের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে যা ২০২৬ সালের মে মাসের শেষের দিকে সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

ওয়েদার স্টেশনগুলো ইন্ডিয়া মেটিওরোলজিক্যাল ডিপার্টমেন্ট (আইএমডি)-এর সাথে সুগম সমন্বয়ের মাধ্যমে স্থাপন করা হচ্ছে। অটোমেটিক ওয়েদার স্টেশন নেটওয়ার্কটি সুনির্দিষ্ট ও স্থান-ভিত্তিক আবহাওয়ার তথ্য প্রদান করবে, যা রেলওয়ে কর্তৃপক্ষকে জরুরি অবস্থা এবং প্রতিকূল আবহাওয়ার পরিস্থিতিতে সময়োপযোগী ও সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করবে। এই পদক্ষেপটি প্রস্তুতি ও প্রতিক্রিয়া ব্যবস্থাকে, বিশেষ করে বন্যাপ্রবণ ও ভূমিধস-সংবেদনশীল এলাকাগুলোতে উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অটোমেটিক ওয়েদার স্টেশনগুলো উন্নত সেন্সর দ্বারা সজ্জিত, যা অত্যন্ত নির্ভুলতার সাথে একাধিক আবহাওয়া-সংক্রান্ত প্যারামিটার পর্যবেক্ষণ করতে সক্ষম। রেইন গেজ সেন্সরগুলো প্রতি ঘণ্টায় ৯০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টির তীব্রতা রেকর্ড করতে পারে, অন্যদিকে টেম্পারেসার সেন্সরগুলো মাইনাস ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস থেকে প্লাস ৭৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত তাপমাত্রা পরিমাপ করতে পারে। উইন্ড মনিটরিং সেন্সরগুলো প্রতি সেকেন্ডে ৮০ মিটার পর্যন্ত বাতাসের গতিবেগ রেকর্ড করতে পারে। এছাড়া, স্টেশনগুলিতে ০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পরিসরের হিউমিডিটি সেন্সর এবং ১২০০ হেক্টোপ্যাসকেল পর্যন্ত বায়ুমণ্ডলীয় চাপ পরিমাপ করতে সক্ষম চাপ সেন্সরে সজ্জিত।

হিন্দুস্থান সমাচার / সমীপ কুমার দাস




 

 rajesh pande