
কলকাতা, ১৩ মে (হি. স.) : পশ্চিমবঙ্গ স্কুল নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় অবশেষে বড়সড় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে চলেছে রাজ্য শিক্ষা দফতর। সমস্ত জেলা শাসকদের এক নির্দেশিকা পাঠিয়ে তথাকথিত “চিহ্নিত অযোগ্য” প্রার্থীদের তালিকা তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সূত্রের খবর, যাঁরা বেআইনিভাবে বা আর্থিক বিনিময়ে সরকারি স্কুলে শিক্ষক ও অশিক্ষক পদে চাকরি পেয়েছিলেন, তাঁদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে বলা হয়েছে।
শিক্ষা দফতর সূত্রে জানা গেছে, জেলা শাসকদের শুধু তালিকা তৈরি নয়, বরং ওই প্রার্থীরা চাকুরিকালীন মোট কত টাকা বেতন পেয়েছেন এবং তার ওপর সুদের পরিমাণ কত, তারও পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসেব নিকেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য সরকার এবার এই অযোগ্য প্রার্থীদের থেকে পাওয়া বেতনের টাকা পুনরুদ্ধার বা রিকভারি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
শিক্ষা দফতরের আধিকারিকদের মতে, “চিহ্নিত অযোগ্য” প্রার্থী তাঁরাই, যাঁরা নিয়োগ পরীক্ষায় সাদা বা অসম্পূর্ণ উত্তরপত্র জমা দিয়েও চাকরি পেয়েছেন, অথবা যাঁদের র্যাঙ্ক জালিয়াতির মাধ্যমে বাড়ানো হয়েছে বা প্যানেলের বাইরে থেকে নিয়োগ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের নিয়োগ প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্ট এবং পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্ট প্রায় ২৬ হাজার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীর চাকরি বাতিলের নির্দেশ দিয়েছিল। আদালতের নির্দেশে স্পষ্ট বলা হয়েছিল যে, অবৈধভাবে নিয়োগপ্রাপ্তদের বেতন ও সুদের টাকা ফেরত দিতে হবে। দীর্ঘদিন এই প্রক্রিয়া থমকে থাকার পর, এবার প্রশাসনিক উচ্চস্তর থেকে সবুজ সংকেত মেলায় তৎপরতা শুরু হয়েছে।
জেলাশাসকদের পাঠানো চিঠিতে ২০২৫ সালের ৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া নির্দেশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। সেখানে স্পষ্ট জানানো হয়েছিল, ২০১৬ সালের প্যানেলে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে চাকরি পাওয়া অযোগ্য প্রার্থীদের উপার্জিত বেতন ফিরিয়ে দিতে হবে। নিয়োগ দুর্নীতির জেরে সব মিলিয়ে ২৫ হাজার ৭৩৫ জনের চাকরি গিয়েছিল, যার মধ্যে ১৮ হাজার ৪১৮ জন শিক্ষক এবং বাকিরা অশিক্ষক কর্মী ছিলেন।
হিন্দুস্থান সমাচার / সোনালি