
ধর্মনগর (ত্রিপুরা), ১৩ মে (হি.স.) : উত্তর ত্রিপুরা জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ধর্মনগর-কৈলাসহর সংযোগকারী ডিকে রোডের বেহাল অবস্থাকে কেন্দ্র করে ফের ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার বিভিন্ন অংশে অসংখ্য বড় বড় গর্ত তৈরি হওয়ায় প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ, যাত্রী এবং যানবাহন চালকরা। ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে এই ব্যস্ত সড়ক দিয়ে। ইতিমধ্যেই একাধিক দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালে রাস্তার সংস্কার ও মেরামতির জন্য প্রায় ৫৭ লক্ষ টাকার একটি দরপত্র অনুমোদিত হয়। সরকারি নথি অনুযায়ী, ধর্মনগর-কৈলাসহর সড়কের ১.৩০ কিলোমিটার থেকে ২.৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত অংশে পুনঃকার্পেটিং এবং ২.৫০ কিলোমিটার থেকে ৮.৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত অংশে গর্ত মেরামতির কাজ করার কথা ছিল।
এই টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অংশ নেন সুভাষ নাথ ও মৌটুসী দেবনাথ। পরবর্তীতে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে কাজের বরাত পান মৌটুসী নাথ। কিন্তু এলাকাবাসীর অভিযোগ, বিপুল অর্থ বরাদ্দ এবং টেন্ডার অনুমোদনের পরও বাস্তবে রাস্তার অবস্থার তেমন কোনও উন্নতি চোখে পড়েনি। বরং বর্ষা মৌসুমের আগেই রাস্তার অবস্থা আরও বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে।
রাস্তার বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খানাখন্দ তৈরি হওয়ায় ছোট গাড়ি, মোটরসাইকেল, অটো ও যাত্রীবাহী যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের বেলায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রতিদিন কেউ না কেউ দুর্ঘটনার কবলে পড়ছেন। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া, অফিসযাত্রী এবং রোগীবাহী যানবাহনও এই সড়ক দিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে সমস্যায় পড়ছে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, যদি সত্যিই ৫৭ লক্ষ টাকা রাস্তার উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ হয়ে থাকে, তবে সেই কাজের দৃশ্যমান প্রতিফলন কোথায়? কাজ আদৌ সঠিকভাবে হয়েছে কি না, তা নিয়ে উঠছে একাধিক প্রশ্ন। তাঁরা পুরো বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি দ্রুত ও স্থায়ীভাবে রাস্তা সংস্কারের জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।
অন্যদিকে, দীর্ঘদিন ধরে এত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়কের এমন বেহাল অবস্থা চলতে থাকলেও সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের নীরবতা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তাঁদের বক্তব্য, সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে জনপ্রতিনিধিদের আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া উচিত ছিল।
ধর্মনগর-কৈলাসহর সড়ক উত্তর ত্রিপুরার যোগাযোগ ব্যবস্থার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই সড়কের উপর নির্ভর করেন হাজার হাজার মানুষ। তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে আগামী বর্ষায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনগণ।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ