
বক্সনগর (ত্রিপুরা), ১৩ মে (হি.স.) : সিপাহীজলা জেলার সোনামুড়ার বহুল আলোচিত ‘৭ হেভেন্স’ শপিং মলকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা জাল নোট চক্রের তদন্তে ফের বড়সড় সাফল্য পেল সোনামুড়া থানার পুলিশ। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে জশিম হোসেন (৪৬) নামে আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বুধবার দীর্ঘ নজরদারির পর সোনামুড়া থানার অন্তর্গত মধুবন এলাকা থেকে তাঁকে আটক করে পুলিশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ধৃত জশিম হোসেন মধুবন এলাকার বাসিন্দা। এর আগে একই মামলায় আক্তার হোসেন নামে জনৈক যুবককে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। আক্তারকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্তে প্রাপ্ত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ভিত্তিতেই জশিম হোসেনের নাম সামনে আসে। পরে জাল নোট চক্রের সঙ্গে তাঁর প্রত্যক্ষ যোগসূত্রের প্রমাণ মেলার পর পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করে।
তদন্তকারী আধিকারিকদের মতে, এই জাল নোট চক্র কেবল স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নয়। এর সঙ্গে বৃহত্তর কোনও আন্তঃরাজ্য চক্র জড়িত থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। সোনামুড়াকে কেন্দ্র করে জাল নোট পাচারের একটি সংগঠিত নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এই চক্রের মূল হোতারা কারা এবং কীভাবে জাল নোট বাজারে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল, তা জানতে বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে পুলিশ।
পুলিশের দাবি, জশিম হোসেনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এই চক্রের কার্যপদ্ধতি, জাল নোটের উৎস এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে। সেই কারণে বুধবারই ধৃতকে আদালতে তোলা হয় এবং অধিকতর তদন্তের স্বার্থে পুলিশি রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়।
এই গ্রেফতারির ঘটনায় সোনামুড়া মহকুমাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বাজারে জাল নোট ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় ব্যবসায়ী ও সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে পুলিশ প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছে, এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত চলছে এবং অপরাধে জড়িত কাউকেই রেয়াত করা হবে না।
উল্লেখ্য, ‘৭ হেভেন্স’ শপিং মলকে কেন্দ্র করে জাল নোট চক্রের অভিযোগ সামনে আসার পর থেকেই এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। একের পর এক গ্রেফতারের ঘটনায় স্পষ্ট হচ্ছে, তদন্ত যত এগুচ্ছে ততই সামনে আসছে চক্রটির বিস্তৃত জাল। পুলিশের ধারণা, আগামী দিনে আরও কয়েকজনকে গ্রেফতার করা হতে পারে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ