
তেলিয়ামুড়া (ত্রিপুরা), ১৩ মে (হি.স.) : খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়া শহরে এটিএম কাউন্টারকে ঘিরে নতুন ধরনের প্রতারণার অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ, এটিএম-র টাকা বেরোনোর মুখে কৌশলে সেলোটেপ লাগিয়ে রেখে গ্রাহকদের টাকা আটকে দিচ্ছে একটি প্রতারক চক্র। ফলে গ্রাহকের অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে গেলেও তা হাতে পাচ্ছেন না তিনি। পরে সুযোগ বুঝে আটকে থাকা টাকা তুলে নিয়ে চম্পট দিচ্ছে দুষ্কৃতীরা। ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহরজুড়ে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।
জানা গেছে, উত্তর মহারানী এলাকার বাসিন্দা নৃপেন্দ্র দেববর্মা গত ১ মে তেলিয়ামুড়ার নেতাজীনগর এলাকায় অবস্থিত পাঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কের এটিএম থেকে ৫০ হাজার টাকা তোলার চেষ্টা করেন। লেনদেন সম্পন্ন হলেও তাঁর হাতে কোনও টাকা আসেনি। তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই মোবাইলে বার্তা আসে যে তাঁর অ্যাকাউন্ট থেকে ৫০ হাজার টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পর তিনি সংশ্লিষ্ট ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁকে জানানো হয়, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা স্বয়ংক্রিয়ভাবে অ্যাকাউন্টে ফিরে আসতে পারে। কিন্তু চার দিন পেরিয়ে গেলেও টাকা ফেরত না আসায় তিনি ৫ মে পুনরায় ব্যাঙ্কে গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পরবর্তীতে ব্যাঙ্কের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আসে। অভিযোগ, কয়েকজন দুষ্কৃতী আগেভাগেই এটিএম-র নগদ বিতরণ ট্রের মুখে সেলোটেপ লাগিয়ে দেয়। ফলে গ্রাহকের টাকা বাইরে না এসে ভেতরেই আটকে থাকে। পরে নির্জন মুহূর্তে এসে সেই টাকা নিয়ে যায় প্রতারকরা।
নৃপেন্দ্র দেববর্মা এরপর তেলিয়ামুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। তাঁর অভিযোগ, অভিযোগ গ্রহণ করা হলেও এখনও পর্যন্ত কোনও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি অভিযোগপত্রের গ্রহণপত্র বা রিসিভ কপিও তাঁকে দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেছেন তিনি।
এদিকে, একই এলাকার আরেক বাসিন্দা, যিনি তেলিয়ামুড়া বিদ্যুৎ দফতরের কর্মী, গত ১১ এপ্রিল স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়ার তেলিয়ামুড়া শাখার এটিএম থেকে টাকা তুলে নিজের স্কুটিতে রাখা ব্যাগে রাখেন। অভিযোগ, কিছুক্ষণের মধ্যেই সেই ব্যাগ চুরি হয়ে যায়। ওই ঘটনায়ও থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হলেও এখনও পর্যন্ত উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি নেই বলে জানা গেছে।
পরপর দুই ঘটনার জেরে শহরের আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এটিএম-র মতো সিসিটিভি-নির্ভর ও সুরক্ষিত স্থানে যদি এভাবে প্রতারণা সংঘটিত হয়, তবে তাঁদের কষ্টার্জিত সঞ্চয় কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে এটিএমগুলিতে নিয়মিত নজরদারি, নিরাপত্তা জোরদার এবং গ্রাহকদের সতর্ক করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ