
আগরতলা, ১৩ মে (হি.স.) : ত্রিপুরার সুস্বাদু ও গুণগত মানসম্পন্ন আনারসকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারে আরও ব্যাপকভাবে পরিচিত করে তুলতে দেশের রাজধানী দিল্লিতে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হতে চলেছে তিনদিনব্যাপী “আনারস মহোৎসব”। আগামী ২৭ থেকে ২৯ জুন পর্যন্ত এই বিশেষ উৎসবের আয়োজন করা হবে। রাজ্যসভার সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্যের অনুপ্রেরণায় এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
এই মহোৎসবকে সামনে রেখে বুধবার মহাকরণে কৃষি দফতরের প্রস্তুতি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দফতরের মন্ত্রী রতন লাল নাথ এবং সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য। এছাড়াও কৃষি দফতরের শীর্ষ ও বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে উৎসবের সার্বিক প্রস্তুতি, দিল্লিতে ত্রিপুরার আনারসের প্রদর্শনী ও বিপণন, কৃষকদের অংশগ্রহণ, ক্রেতা-বিক্রেতা সংযোগ এবং বৃহৎ পরিসরে অনুষ্ঠান সফল করার নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কৃষিমন্ত্রী রতনলাল নাথ বলেন, ত্রিপুরার আনারস স্বাদ, গুণগত মান এবং পুষ্টিগুণের দিক থেকে দেশের অন্যতম সেরা কৃষিপণ্য। বিশেষ করে রাজ্যের কুইন জাতের আনারস দেশ-বিদেশে ইতিমধ্যেই সুনাম অর্জন করেছে। দিল্লিতে আয়োজিত এই মহোৎসবের মাধ্যমে ত্রিপুরার কৃষকদের উৎপাদিত আনারস দেশের বৃহত্তর বাজারে পৌঁছানোর নতুন সুযোগ তৈরি হবে। এর ফলে কৃষকরা তাঁদের উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য মূল্য পাবেন এবং আর্থিকভাবে আরও লাভবান হবেন।
সাংসদ রাজীব ভট্টাচার্য জানান, ত্রিপুরার আনারসকে একটি শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার লক্ষ্যেই এই বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দিল্লিতে অনুষ্ঠিতব্য মহোৎসবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবসায়ী, রপ্তানিকারক, কৃষি বিশেষজ্ঞ, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ সংস্থার প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট অতিথিরা অংশ নেবেন। এতে ত্রিপুরার আনারসের জন্য নতুন বাজার ও বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হবে। তিনি আরও ইঙ্গিত দেন, দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকতে পারেন।
কৃষি দফতর সূত্রে জানা গেছে, মহোৎসবে ত্রিপুরার আনারসের প্রদর্শনী, স্বাদ গ্রহণ, ব্যবসায়িক বৈঠক, কৃষিপণ্যের ব্র্যান্ডিং এবং বিপণন সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি ক্রেতা ও ব্যবসায়ীদের সংযোগ স্থাপনের ব্যবস্থাও থাকবে।
ত্রিপুরার কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে এবং রাজ্যের কৃষিপণ্যকে জাতীয় মঞ্চে তুলে ধরতে এই উদ্যোগকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। বিশেষজ্ঞদের মতে, “আনারস মহোৎসব” সফল হলে ভবিষ্যতে ত্রিপুরার অন্যান্য কৃষিপণ্যও একইভাবে দেশের বৃহত্তর বাজারে নতুন পরিচিতি লাভ করবে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ