
তেলিয়ামুড়া (ত্রিপুরা), ১৩ মে (হি.স.) : ধর্মীয় উৎসবের আবহে আয়োজিত চড়ক মেলার আড়ালে প্রকাশ্যে বসেছিল জুয়ার আসর। খোয়াই জেলার তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশের আকস্মিক অভিযানে ফাঁস হয়ে গেল সেই ‘ঝান্ডিমুন্ডা’ খেলার রমরমা কারবার। ঘটনাস্থল থেকে নগদ অর্থ, জুয়ার সরঞ্জাম বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে এবং দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তেলিয়ামুড়া থানার অন্তর্গত মাইগঙ্গা এলাকার সুকান্ত দ্বাদশ শ্রেণি বিদ্যালয়ের মাঠে চড়ক মেলাকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল। তবে সন্ধ্যার পর থেকেই মেলার একাংশে প্রকাশ্যে ‘ঝান্ডিমুন্ডা’ নামে পরিচিত জুয়ার আসর বসানো হচ্ছিল বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেখানে বিপুল অঙ্কের টাকার লেনদেন চলত।
এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ও স্থানীয় রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় এই অবৈধ জুয়ার আসর পরিচালিত হচ্ছিল। ফলে বহু সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে যুব সমাজ, সহজে অর্থ উপার্জনের আশায় এই খেলায় জড়িয়ে পড়ছিল। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ক্ষোভের সঞ্চার হলেও দীর্ঘদিন প্রশাসনের নজরের বাইরে ছিল বলে অভিযোগ।
অবশেষে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাতে তেলিয়ামুড়া থানার পুলিশ অভিযান চালায়। অভিযানের সময় জুয়ার বোর্ড, গুটি, নগদ অর্থসহ বিভিন্ন সামগ্রী উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে জিজ্ঞাসাবাদ চালানো হচ্ছে।
অভিযান প্রসঙ্গে তেলিয়ামুড়া থানার এসআই সুমিত্রাদেববর্মা জানান, সমাজে এই ধরনের অবৈধ কার্যকলাপ বন্ধ করতে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “কোথাও জুয়ার আসর বা অন্য কোনও বেআইনি কাজের খবর পেলে দ্রুত পুলিশকে জানান। মানুষের সহযোগিতা পেলে এই ধরনের অপরাধ অনেক দ্রুত রোধ করা সম্ভব।”
পুলিশের এই পদক্ষেপে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের মতে, ধর্মীয় মেলার পবিত্র পরিবেশকে ব্যবহার করে এভাবে জুয়ার আসর বসানো অত্যন্ত নিন্দনীয়। তারা এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের চিহ্নিত করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনার পেছনে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে আরও অভিযানের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ