
ধর্মনগর (ত্রিপুরা), ১৩ মে (হি.স.) : টানা চার মাস ধরে বেতন না পাওয়ার অভিযোগে বুধবার উত্তর ত্রিপুরার ধর্মনগর জেলা হাসপাতালের সাফাই কর্মীরা কর্মবিরতিতে সামিল হন। দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া বেতন মেটানোর দাবিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হলেও কোনও সুরাহা না হওয়ায় বাধ্য হয়ে এই পদক্ষেপ নিতে হয়েছে বলে জানান কর্মীরা।
জানা গেছে, ২০১৪ সাল থেকে বেসরকারি সংস্থার মাধ্যমে হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দায়িত্ব পালন করে আসছেন এই সাফাই কর্মীরা। তাঁদের অভিযোগ, গত চার মাস ধরে নিয়মিত বেতন বন্ধ থাকায় চরম আর্থিক সংকটের মধ্যে পড়েছেন সকলেই। অনেকেরই সংসার চালানো দায় হয়ে উঠেছে। ধার-দেনা করে নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে হচ্ছে। সময়মতো বেতন না পাওয়ায় সন্তানদের পড়াশোনা, চিকিৎসা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
কর্মীদের বক্তব্য, একাধিকবার সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার সংস্থা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানানো হলেও কোনও সদর্থক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। প্রতিবারই আশ্বাস মিলেছে, কিন্তু বাস্তবে বকেয়া বেতন মেটানো হয়নি। ফলে আর অপেক্ষা না করে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন তাঁরা।
সাফাই কর্মীরা জানান, দ্রুত বকেয়া বেতন পরিশোধ করা না হলে আগামী দিনে আরও বৃহত্তর আন্দোলনে নামবেন। প্রয়োজনে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি, বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচির পথেও হাঁটতে পারেন বলে হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।
এদিকে সাফাই কর্মীদের কর্মবিরতির জেরে ধর্মনগর জেলা হাসপাতালের স্বাভাবিক পরিষেবা ব্যবস্থায় প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, করিডোর, বহির্বিভাগ ও শৌচাগারে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ ব্যাহত হওয়ায় রোগী ও তাঁদের পরিজনদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকেই হাসপাতালের স্বাস্থ্যবিধি ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
রোগীর পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থা ব্যাহত হলে রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়তে পারে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ক্ষেত্রে সংক্রমণের আশঙ্কা আরও বেড়ে যায়।
ঘটনার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ঊর্ধ্বতন স্বাস্থ্য দফতরে জানিয়েছে বলে জানা গেছে। তবে কবে নাগাদ বকেয়া বেতন মেটানো হবে, সে বিষয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও নির্দিষ্ট আশ্বাস দেওয়া হয়নি। ফলে সাফাই কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা আরও বাড়ছে।
স্বাস্থ্য পরিষেবার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এই কর্মীদের ন্যায্য দাবি দ্রুত মেটানো না হলে ধর্মনগর জেলা হাসপাতালের পরিষেবা ব্যবস্থা আরও বিপর্যস্ত হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ