
দুর্গাপুর, ১৪ মে (হি. স.) : জুলুমবাজি, তোলাবাজি, দাদাগিরি, লাগামছাড়া সন্ত্রাস চালানোর অভিযোগ। রাজ্যে পরিবর্তনের পর এবার ওইসব তোলাবাজদের ধরপাকড় শুরু করল রাজ্য পুলিশ। বুধবার দুর্গাপুর ও বুদবুদে পঞ্চায়েতের উপপ্রধান, প্রাক্তন কাউন্সিলার সহ ৯ জনকে গ্রেফতার করল কমিশনারেট পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার একগুচ্ছ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রুদ্রপ্রসাদ কুন্ডু ওরফে মনা কুন্ডু। বুদবুদ গ্রাম পঞ্চায়েতের দুবারের উপপ্রধান। বুদবুদের সূর্য্যসেন পল্লীর বাসিন্দা। বুধবার রাতে তার বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করে বুদবুদ থানার পুলিশ। বৃহস্পতিবার ধৃতকে পুলিশি হেফাজত চেয়ে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে তার জামিন খারিজ করে দেয় বিচারক।
প্রশ্ন কে এই রুদ্রপ্রসাদ কুন্ডু? বুদবুদ পঞ্চায়েতের উপপ্রধান। তৃণমূলের এলাকার একসময়ের দাপুটে নেতা। বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় তোলাবাজি, জুলুমবাজি, সাধারণ মানুষকে হুমকি দেওয়া, মারধর এবং বিজেপি কর্মীদের উপর অত্যাচারের একাধিক অভিযোগ উঠছিল। অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড চালাতেন তিনি। সেচ ক্যানেলের ওপর জবর দখল করে প্রমোটারি, এমনকি ক্যানেলের ওপর দলীয় কার্যালয় তৈরীর অভিযোগ রয়েছে। পঞ্চায়েতে স্বজনপোষন ও লাগামহীন দুর্নীতি। বিজেপি কর্মীদের মারধর থেকে শুরু করে এলাকায় সন্ত্রাসের পরিবেশ তৈরির অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। বিধানসভা নির্বাচনের সময়েও এলাকায় ভয় ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরির অভিযোগ ওঠে মনা কুন্ডুর বিরুদ্ধে। তার রুদ্র রোষের হাত থেকে রেয়াত পায়নি দলের নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা। পানাগড় সেনাছাউনীতে নির্মান কাজের সামগ্রী জোগানে সিন্ডিকেটেও তার প্রভাব ছিল। বুদবুদ থানায় একাধিকবার অভিযোগ দায়ের হয়েছিল। পুলিশ জানিয়েছে, রুদ্রপ্রসাদ কুন্ডুর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) ১২৬(২), ১১৫(২), ১১৭(২), ৩০৮(২), ৩৫১(২) এবং ৩(৫) ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। পুলিশ হেফাজতের আবেদন জানিয়ে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হয় তাকে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন জেলায় জেলায় তোলাবাজি বন্ধ করতে হবে। যারা গুন্ডাগিরি করে বাড়ায় তাদের বিরুদ্ধে কড়া প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দুর্গাপুর থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুর্গাপুর নগর নিগমের প্রাক্তন দুই তৃণমূল কংগ্রেসের কাউন্সিলর হীরা বাউরী ও মানস রায় সহ মোট ১০ জনকে গ্রেফতার করে। উল্লেখ্য হীরা বাউরির বিরুদ্ধে তোলাবাজি, গুন্ডাগিরির অভিযোগ এর আগে বহুবার উঠেছে এবং গোপাল মাঠের বাসিন্দা মানস রায়ের বিরুদ্ধে বহু মানুষের সাথে আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে বারংবার। এই ১০ জনের মধ্যেই রয়েছে বাপ্পাদিত্য অধিকারী ওরফে ভোলা। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দুর্গাপুর নগর নিগমের নামে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার বাস স্ট্যান্ড এলাকার দোকানে দোকানে সে তোলাবাজি চালাত। প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর হীরা বাউরির বিরুদ্ধেও এলাকায় দাদাগিরি চালানোর বহুবার অভিযোগ উঠেছিল। ধৃত ১০ জনের মধ্যে অর্জুনপুর ডাঙ্গাপাড়ার বাসিন্দা ভোলা বাউরী, রাহুল বাউরিরাও। পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে তোলা হবে। ঘটনার তদন্ত চলছে।
হিন্দুস্থান সমাচার / জয়দেব লাহা