ন্যায্য অধিকার ও নিয়মিতকরণের দাবিতে কুমারঘাট ব্লক অফিসে ভিবি-জি রামজি কর্মচারীদের ডেপুটেশন
কুমারঘাট (ত্রিপুরা), ১৪ মে (হি.স.) : দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে বৃহস্পতিবার কুমারঘাট ব্লক অফিসে ডেপুটেশন দিলেন ভিবি-জি রামজি তথা পূর্বতন এমজিএনরেগা প্রকল্পের কর্মচারীরা। ব্লক আধিকারিক ডাঃ সুদীপ ভৌমিকের হাতে পাঁচ দফা দাবি স
কর্মচারীদের ডেপুটেশন


কুমারঘাট (ত্রিপুরা), ১৪ মে (হি.স.) : দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে বৃহস্পতিবার কুমারঘাট ব্লক অফিসে ডেপুটেশন দিলেন ভিবি-জি রামজি তথা পূর্বতন এমজিএনরেগা প্রকল্পের কর্মচারীরা। ব্লক আধিকারিক ডাঃ সুদীপ ভৌমিকের হাতে পাঁচ দফা দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি তুলে দিয়ে দ্রুত সমস্যার সমাধানের দাবি জানান তাঁরা। পাশাপাশি, দাবি পূরণ না হলে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন সংগঠনের নেতৃত্ব।

সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২০০৮ সালে তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নের লক্ষ্যে কুমারঘাট ব্লকের বিভিন্ন গ্রাম পঞ্চায়েতে প্রথম পর্যায়ে ৩৫ জন কর্মীকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ করে। পরবর্তীতে ২০০৯ ও ২০১২ সালে ধাপে ধাপে আরও কর্মী নিয়োগ করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক অতিক্রান্ত হলেও তাঁদের চাকরি এখনও নিয়মিত করা হয়নি।

পরবর্তীতে এমজিএনরেগা প্রকল্পের কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে এই কর্মীদের ভিবি-জি রামজি প্রকল্পের আওতায় আনা হলেও তাঁদের কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা কাটেনি। অভিযোগ, ২০১৮ সালে রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের আগে অনিয়মিত কর্মচারীদের নিয়মিতকরণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও গত আট বছরেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। উপরন্তু, বেতন প্রদানে অনিয়ম ও বিলম্বের কারণে কর্মচারীদের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে।

সংগঠনের ঊনকোটি জেলা সভাপতি বিক্রম দত্ত জানান, রাজ্যব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে কুমারঘাট ব্লক অফিসে এই ডেপুটেশন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। তিনি বলেন, “আমাদের প্রধান দাবি হল কর্মচারীদের অবিলম্বে নিয়মিতকরণ। পাশাপাশি বেতনভাতা বৃদ্ধি, বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের হার বৃদ্ধি, চাকরির অবসরের বয়স ৬০ থেকে ৬৫ বছর করা এবং অন্যান্য সরকারি কর্মচারীদের মতো বছরে দু’বার মহার্ঘভাতা প্রদান করতে হবে।”

তিনি আরও জানান, প্রথম পর্যায়ে ব্লক প্রশাসনের মাধ্যমে সরকারের কাছে দাবি জানানো হয়েছে। এরপর জেলা শাসকের কাছেও স্মারকলিপি প্রদান করা হবে। তাতেও যদি কোনও ইতিবাচক সাড়া না মেলে, তবে রাজ্য কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বৃহত্তর গণআন্দোলনের পথে হাঁটবেন তাঁরা।

সংগঠনের ঊনকোটি জেলা সম্পাদক সুদীপ দে অভিযোগ করেন, নিয়মিত বেতন প্রদানেও চরম অনিয়ম চলছে। এক মাস ধরে কর্মচারীদের বেতন বকেয়া রয়েছে। ফলে সংসার চালাতে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তাঁরা। অনেকেই ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন বলেও তিনি জানান।

কর্মচারীদের দাবি, চাকরির শুরু থেকেই তাঁরা নানা ধরনের বৈষম্য ও বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছেন। দীর্ঘদিন ধরে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেও কাঙ্ক্ষিত ফল না পাওয়ায় এবার তাঁরা আন্দোলনের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন।

এদিনের ডেপুটেশন কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কর্মচারী অংশ নেন। দাবি আদায়ে তাঁদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান এবং আন্দোলনের হুঁশিয়ারিকে কেন্দ্র করে প্রশাসনিক মহলসহ রাজনৈতিক অঙ্গনেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

হিন্দুস্থান সমাচার / গোবিন্দ দেবনাথ




 

 rajesh pande